কথিত প্রেমিকের ডাকে গিয়ে সম্ভ্রম হারিয়ে লাশ হলো নবম শ্রেণীর ছাত্রী
- আপডেট সময় : ০৭:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 193
“তুই না আসলে আমি বাঁচব না!”—কথিত প্রেমিকের এই এক বাক্যেই সরল বিশ্বাসে ঘর ছেড়ে বাইরে পা রেখেছিল কিশোরীটি। কিন্তু সে জানত না, ভালোবাসার আড়ালে তার জন্য ওৎ পেতে ছিল এক নারকীয় হিংস্রতা! ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণ, তারপর ইজিবাইকে তুলে দিয়ে মধ্যরাতে ফের যৌন হয়রানির চেষ্টা। আর সবশেষে, “সমাজে মুখ দেখাবি না” বলে লম্পটদের চরম হুমকি। সব অপমান আর যন্ত্রণা বুকে চেপে ধরে শেষমেশ বিষপান করে নিজের জীবনের ইতি টানল নবম শ্রেণীর সেই ছাত্রী।
গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই স্কুলছাত্রী। সে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত।
এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঝেচুপাড়া এলাকার অভিযুক্ত প্রেমিক সুয়েল ওরফে সোহেল (২৫) ও তাঁর সহযোগী ইজিবাইকচালক রফিকুল ইসলাম ওরফে বাঘা মন্টুকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মধ্যরাতের নারকীয় তাণ্ডব ও রেহাই পাওয়ার আকুতি
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি সোহেল ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সোহেল মেয়েটিকে ইজিবাইকে করে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের রাজমহল-পূর্ববাগান এলাকার আবু সায়েদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সহযোগীদের সহায়তায় তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার বীভৎসতা এখানেই শেষ নয়। বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দিয়ে রাত প্রায় দুইটার দিকে মেয়েটিকে একটি ইজিবাইকে তুলে দেয় অপরাধীরা। অভিযোগ, ওই ইজিবাইকে একা পেয়ে চালক ও দুই যাত্রীও তাকে পুনরায় যৌন হয়রানির চেষ্টা চালায়। জীবন বাঁচাতে চলন্ত ইজিবাইক থেকে লাফিয়ে নেমে স্থানীয় এক ট্রাক্টরচালকের আশ্রয়ে কোনোমতে রক্ষা পায় মেয়েটি। পরে রাত আড়াইটার দিকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান।
পরদিন ঘটনা শুনে পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের জন্য যোগাযোগ করলে উল্টো হুমকি দেয় সোহেল। সে সাফ জানিয়ে দেয়—মেয়েটি যেন আর সমাজে মুখ না দেখায়! চরম ক্ষোভ, ঘৃণা আর অপমানে গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে ওই ছাত্রী। তিন দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সোমবার রাতে হেরে যায় সে।
চিকিৎসকের বক্তব্য ও স্বজনদের কান্নায় ভারী আদালত প্রাঙ্গণ
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, বিষপানের পর তাকে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ধর্ষণের বিষয়টি জানা যায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয়েছে।
বোনের এমন করুণ পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের বড় ভাই বলেন—
“আমার বোনটা সরল মনে বিশ্বাস করেছিল। সোহেল বলেছিল না গেলে নাকি সে বাঁচবে না! আমরা এই নরপশুদের ফাঁসি চাই, যাতে আর কোনো বোনের জীবন এভাবে শেষ না হয়।”
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল জানান, এজাহারনামীয় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।















