রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি
আয়াসসহ চারজনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / 64
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংঘাত, মব তৈরি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে বারবার আলোচনায় আসা ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর প্রধান আ ন ম আয়াসের দৌরাত্ম্য এবার থামল আইনি কঠোরতার সর্বোচ্চ আঘাত দিয়ে! রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের ফুটপাতের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি লেপে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আয়াসসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, জাতীয় ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতির প্রতীকে আঘাত হেনে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ সংঘটিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাতে চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—সংগঠনের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস (২৯), মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)।
চুনকালির অশুভ ছায়া ফুটপাতের নয়া রুপে
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ অক্টোবর। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিশেষ উদ্যোগে সেগুনবাগিচার নোংরা ফুটপাত দখলমুক্ত ও সংস্কার করে পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সেখানে সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ জন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি ও গ্রাফিতি আঁকা হয়।
কিন্তু গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর ব্যানার নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রকাশ্যে বিশ্বকবির প্রতিকৃতিটিতে চুনকালি লেপে দেওয়ার তাণ্ডব চালান আয়াস ও তাঁর সঙ্গীরা। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আয়াসকে হাতেনাতে আটক করে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বিষয়টির গভীরতা অনুধাবন করে ডিএমপি তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো কঠোর মামলা দায়ের করে।
বিতর্কের শেষ পরিণতি রাজদ্রোহী মামলা!
আ ন ম আয়াসের এই পরিণতিকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের শাস্তি হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক প্রতিনিধি পরিচয়ে ৪ আগস্ট প্রেসক্লাবে মারামারি, ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালককে পেটানো, ময়মনসিংহে ছুরিকাহত হওয়া কিংবা মাগুরায় ক্রিকেটার সাকিবের বাড়ির সামনে অপসংস্কৃতিমূলক ভিডিও বানানোর মতো একের পর এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এই কঠোর পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, বাকস্বাধীনতা বা প্রতিবাদী রাজনীতির নামে জাতীয় বীর কিংবা বিশ্বকবির মতো কালজয়ী ব্যক্তিত্বদের অবমাননা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না রাষ্ট্র।















