‘বিপদের দিনে একটা ফোনও দেননি নেত্রীরা’—আদালত থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক লাইভে রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের কমিটি বিলুপ্তির জোর দাবি।
হাসিনার মামলায় জামিন পেলেন সোনিয়া স্মৃতি, জেলা মহিলা দলের কমিটি বিলুপ্তির ডাক
- আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 144
আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে রাজপথ থেকে কারাবরণ—সব খানেই যিনি ছিলেন সামনের সারিতে, সেই ‘রক্তকন্যা’ খ্যাত রাজবাড়ীর সোনিয়া আক্তার স্মৃতিকে আবারও পড়তে হলো পুরনো মামলার জাঁতাকলে! পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে গায়েবি ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের হাওয়া বইলেও, তাঁর পিছু ছাড়েনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে করা সেই বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের খেসারত। তবে গ্রেপ্তারী পরোয়ানার টানটান উত্তেজনার পর আদালত থেকে জামিন পেতেই নতুন রাজনৈতিক ঝড় তুললেন এই নেত্রী।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিস্ফোরক ফেসবুক লাইভে এসে নিজের আইনি লড়াইয়ের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের মারাত্মক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সোচ্চার হন সোনিয়া স্মৃতি। একই সঙ্গে তিনি জেলা মহিলা দলের বিদ্যমান কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করার সোচ্চার দাবি জানিয়েছেন।
মধ্যরাতের গ্রেপ্তার থেকে নতুন পরোয়ানা: নাটकीय আইনি লড়াই
ঘটনার প্রেক্ষাপট ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে রাজবাড়ী শহরের বেড়াটাঙ্গা এলাকার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সোনিয়া আক্তার স্মৃতিকে। গভীর রাতে গ্রেপ্তার করার ঠিক মুহূর্তে সোনিয়ার করা সেই রোমহর্ষক ফেসবুক লাইভ পুরো দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। পরবর্তীতে চার মাস কারাবাসের পর তৎকালীন আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান তিনি।
গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশব্যাপী বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর থাকা বহু গায়েবি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে রয়ে যায় সোনিয়া স্মৃতির বিরুদ্ধে থাকা এই মামলাটি। নিয়মিত হাজিরা দেওয়া সত্ত্বেও গত ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন জানালে বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও শেখ হাসিনার আমলের মামলায় এমন পরোয়ানা জারির খবর ছড়াতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
‘নেতারা ফোনও দিলেন না!’ লাইভে বিস্ফোরক বক্তব্য ও তীব্র ক্ষোভ
আদালত থেকে জামিন পেয়েই মঙ্গলবারের ফেসবুক লাইভে পুরো ক্ষোভ উগরে দেন জিয়া সাইবার ফোর্সের সক্রিয় সদস্য ও ‘রাজবাড়ী ব্লাড ডোনার্স’-এর এই প্রতিষ্ঠাতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার পরও কেন তাঁর মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে বিবেচনা করে প্রত্যাহার করা হলো না?
লাইভে সোনিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরোয়ানা জারির খবর শুনে রাজবাড়ীর সাধারণ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম একাধিকবার ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু রাজবাড়ী জেলা মহিলা দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক একটিবারের জন্য হলেও তাঁর খবর নেননি! এই চরম উদাসীনতার অভিযোগ তুলে তিনি অবিলম্বে জেলা মহিলা দলের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করার জোর দাবি জানান।














