ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের সঙ্গে মেলামেশা, চাঁদাবাজি ও পদ বাণিজ্যের সব অভিযোগ অস্বীকার; 'আমাকে শিবির বলে গালি দেবেন না' আর্জি জানিয়ে সোচ্চার সালাহউদ্দিন আম্মার।

হাসপাতালে গিয়ে দেখি নেতার বুকে প্রেমিকার হাত: বহিস্কারের খবরে আম্মার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 581

সংগঠনের অন্দরে গোপন রাজনীতির জটিল অঙ্ক আর অভিযোগের কাদা ছোড়াছুড়ি যখন চরমে, ঠিক তখনই বোমা ফাটালেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে ‘সাথী’ পদ হতে অব্যাহতি ও চরিত্রহননের চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা তোপ দাগলেন তিনি। শিবিরের নীতি-কৌশল ও স্থানীয় নেতৃত্বের কর্মকাণ্ড নিয়ে তুলোধোনা করে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—‘মিথ্যাকে সত্য বানাতে ওরা ওস্তাদ, আমাকে দয়া করে আর শিবির বলে গালি দেবেন না!’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ ফেসবুক পেজে দীর্ঘ এক পোস্টে শিবিরের আনা সব অভিযোগের চুলচেরা জবাব দেন তিনি। সেখানে কেবল অভিযোগ খণ্ডনই নয়, বরং রাবি শিবিরের অভ্যন্তরীণ নোংরা রাজনীতি, ভণ্ডামি ও মানসিক নিপীড়নের চিত্রও প্রকাশ্যে আনেন এই ছাত্রনেতা।

‘যেটা করিনি, সেটার প্রমাণ দেব কীভাবে?’ অভিযোগের পাহাড় খণ্ডন
ফেসবুক পোস্টে আম্মার দাবি করেন, তিনি কোনো অধিবেশন থেকে ফিরে এসে শোনেন যে ২০২৫ সালেই নাকি নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়া এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে শিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে!

অভিযোগের জবাবে তিনি লেখেন—

“আপনাকে বলবে আপনি নারীদের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন, পদ বিক্রি করেছেন। এখন সমস্যা হলো ওরা এলিগেশন (অভিযোগ) দেবে আর বলবে তুমি প্রমাণ করো তুমি এটা করোনি! ভাই, যে অপরাধ আমি করিনি, তার প্রমাণ আমি কীভাবে দেব?”

নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শিবিরের অভ্যন্তরীণ ভণ্ডামি উন্মোচন করে আম্মার লেখেন—

“আমার চরিত্র নিয়ে অন্তত আলাপ দিয়েন না। কারণ আপনাদের একজন শাখা দায়িত্বশীল আছে, যে দীর্ঘদিন প্রেম করে পরে বিয়ে করছে। হাসপাতালে দেখতে গেছিলাম, গিয়ে দেখি তার গার্লফ্রেন্ড তার বুকে হাত বুলাইয়া দিতেছে। সুতরাং শিবির নারী কেলেঙ্কারির জন্য বহিষ্কার করে না—এটা ক্লিয়ার।”

একই সাথে ৭৬ লাখ টাকার চাঁদাবাজির রটনাকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বলে ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কনসার্ট আয়োজনের জন্য তৎকালীন ভিসি স্যারের পরামর্শে বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির কাছে অফিশিয়াল প্রপোজাল লেটার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা বিকৃত করে চাঁদা দাবির নাটক সাজানো হয়েছে।

‘যখন ওরা মোচ রেখে বাম সাজত, আমি তখন শিবিরের গানে’
শিবির সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস ও ত্যাগ স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাকসু জিএস লেখেন—

“আজকে যারা পরিচয় দিতে ভয় পেত, ভয়ে দাড়ি সেভ করে মোচ রেখে নিজেকে বামপন্থী পরিচয় দিত—তখন শিবিরের অফিসিয়াল গানে অভিনয় করে আসছি আমি। আমার রাকসু দপ্তরের অ্যাওয়ার্ড শেল্ফে এখনো শিবিরের ‘সসাস’ নাটকে অভিনয়ের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি আছে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, ডানপন্থী সংস্কৃতি চর্চা ও কলরবের সাথে কাজ করার কারণে শিবির তাকে তাদের ক্রাইটেরিয়ায় ফেলতে চাইলেও, তিনি কখনও নিজের মস্তিষ্ক বিক্রি করে রাজনীতি করেননি।

‘মিথ্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না, বিচারের ভার আল্লাহর কাছে’
পোস্টের শেষে আবেগঘন কণ্ঠে আম্মার দাবি করেন, শিবিরের শাখায় যেদিন একজন গুটিবাজ ও নোংরা লোককে মূল দায়িত্বে বসতে দেখেছেন, সেদিনই তাদের পলিসি তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। শিবির কোথাও আঁকড়ে ধরার সুযোগ পেলে কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা দিতে পারে, তা নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় ফেলা সেই দীর্ঘ লেখার একদম শেষ লাইনে তিনি লিখেছেন—

“আমি আজ আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বললাম, আমি আনিত কোনো অভিযোগের সঙ্গেই সম্পৃক্ত নই। ওদের আল্লাহ হয়তো মিথ্যাকে সত্য বানানোর ক্ষমতা দিয়েছেন, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আশা করি আজকের পর থেকে দয়া করে কেউ আমাকে শিবির বলে গালি দেবেন না।”

নারীদের সঙ্গে মেলামেশা, চাঁদাবাজি ও পদ বাণিজ্যের সব অভিযোগ অস্বীকার; 'আমাকে শিবির বলে গালি দেবেন না' আর্জি জানিয়ে সোচ্চার সালাহউদ্দিন আম্মার।

হাসপাতালে গিয়ে দেখি নেতার বুকে প্রেমিকার হাত: বহিস্কারের খবরে আম্মার

আপডেট সময় : ০৩:০০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সংগঠনের অন্দরে গোপন রাজনীতির জটিল অঙ্ক আর অভিযোগের কাদা ছোড়াছুড়ি যখন চরমে, ঠিক তখনই বোমা ফাটালেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে ‘সাথী’ পদ হতে অব্যাহতি ও চরিত্রহননের চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা তোপ দাগলেন তিনি। শিবিরের নীতি-কৌশল ও স্থানীয় নেতৃত্বের কর্মকাণ্ড নিয়ে তুলোধোনা করে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—‘মিথ্যাকে সত্য বানাতে ওরা ওস্তাদ, আমাকে দয়া করে আর শিবির বলে গালি দেবেন না!’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজ ফেসবুক পেজে দীর্ঘ এক পোস্টে শিবিরের আনা সব অভিযোগের চুলচেরা জবাব দেন তিনি। সেখানে কেবল অভিযোগ খণ্ডনই নয়, বরং রাবি শিবিরের অভ্যন্তরীণ নোংরা রাজনীতি, ভণ্ডামি ও মানসিক নিপীড়নের চিত্রও প্রকাশ্যে আনেন এই ছাত্রনেতা।

‘যেটা করিনি, সেটার প্রমাণ দেব কীভাবে?’ অভিযোগের পাহাড় খণ্ডন
ফেসবুক পোস্টে আম্মার দাবি করেন, তিনি কোনো অধিবেশন থেকে ফিরে এসে শোনেন যে ২০২৫ সালেই নাকি নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়া এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে শিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে!

অভিযোগের জবাবে তিনি লেখেন—

“আপনাকে বলবে আপনি নারীদের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন, পদ বিক্রি করেছেন। এখন সমস্যা হলো ওরা এলিগেশন (অভিযোগ) দেবে আর বলবে তুমি প্রমাণ করো তুমি এটা করোনি! ভাই, যে অপরাধ আমি করিনি, তার প্রমাণ আমি কীভাবে দেব?”

নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শিবিরের অভ্যন্তরীণ ভণ্ডামি উন্মোচন করে আম্মার লেখেন—

“আমার চরিত্র নিয়ে অন্তত আলাপ দিয়েন না। কারণ আপনাদের একজন শাখা দায়িত্বশীল আছে, যে দীর্ঘদিন প্রেম করে পরে বিয়ে করছে। হাসপাতালে দেখতে গেছিলাম, গিয়ে দেখি তার গার্লফ্রেন্ড তার বুকে হাত বুলাইয়া দিতেছে। সুতরাং শিবির নারী কেলেঙ্কারির জন্য বহিষ্কার করে না—এটা ক্লিয়ার।”

একই সাথে ৭৬ লাখ টাকার চাঁদাবাজির রটনাকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বলে ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কনসার্ট আয়োজনের জন্য তৎকালীন ভিসি স্যারের পরামর্শে বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির কাছে অফিশিয়াল প্রপোজাল লেটার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা বিকৃত করে চাঁদা দাবির নাটক সাজানো হয়েছে।

‘যখন ওরা মোচ রেখে বাম সাজত, আমি তখন শিবিরের গানে’
শিবির সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস ও ত্যাগ স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাকসু জিএস লেখেন—

“আজকে যারা পরিচয় দিতে ভয় পেত, ভয়ে দাড়ি সেভ করে মোচ রেখে নিজেকে বামপন্থী পরিচয় দিত—তখন শিবিরের অফিসিয়াল গানে অভিনয় করে আসছি আমি। আমার রাকসু দপ্তরের অ্যাওয়ার্ড শেল্ফে এখনো শিবিরের ‘সসাস’ নাটকে অভিনয়ের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি আছে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, ডানপন্থী সংস্কৃতি চর্চা ও কলরবের সাথে কাজ করার কারণে শিবির তাকে তাদের ক্রাইটেরিয়ায় ফেলতে চাইলেও, তিনি কখনও নিজের মস্তিষ্ক বিক্রি করে রাজনীতি করেননি।

‘মিথ্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না, বিচারের ভার আল্লাহর কাছে’
পোস্টের শেষে আবেগঘন কণ্ঠে আম্মার দাবি করেন, শিবিরের শাখায় যেদিন একজন গুটিবাজ ও নোংরা লোককে মূল দায়িত্বে বসতে দেখেছেন, সেদিনই তাদের পলিসি তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। শিবির কোথাও আঁকড়ে ধরার সুযোগ পেলে কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা দিতে পারে, তা নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় ফেলা সেই দীর্ঘ লেখার একদম শেষ লাইনে তিনি লিখেছেন—

“আমি আজ আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বললাম, আমি আনিত কোনো অভিযোগের সঙ্গেই সম্পৃক্ত নই। ওদের আল্লাহ হয়তো মিথ্যাকে সত্য বানানোর ক্ষমতা দিয়েছেন, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আশা করি আজকের পর থেকে দয়া করে কেউ আমাকে শিবির বলে গালি দেবেন না।”