সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ও কুপিয়ে ব্যবসায়ীকে হত্যা
- আপডেট সময় : ১০:১০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 185
সেলুনের আয়নায় শান্তভাবে নিজের প্রতিবিম্ব দেখছিলেন যুবক। কে জানত, সেই আয়নায় দেখা দেবে জীবনের শেষ মুহূর্ত! শান্ত এক ভরদুপুরে আচমকাই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভেতরে ঢুকল আততায়ীরা। পিস্তলের স্লাইড টেনে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে সৃষ্টি করা হলো নারকীয় আতঙ্ক। প্রাণভয়ে চিৎকার দিয়ে বাকিরা ছুটে পালালেও রেহাই পেলেন না মূল টার্গেট। কোমর থেকে ধারালো চাপাতি বের করে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রেখে গেল তারা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার ‘রাজ সেলুন’-এ ঘটেছে এই দুর্ধর্ষ ও হিমশীতল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। পরবর্তীতে বিকেল চারটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত ফরহাদ হোসেনকে (৩০) মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফরহাদ ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা হলেও পরিবার নিয়ে থাকতেন আরশিনগরের মেম্বার গলিতে।
সিসিটিভি ফুটেজে রোমহর্ষক তাণ্ডব
ঘটনার একটি সিসিটিভি সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীদের অবিশ্বাস্য দুঃসাহস ধরা পড়েছে। বেলা ৩টা ৭ মিনিটের দিকে মাথায় ক্যাপ পরা ৩ জন যুবক সেলুনটিতে ঢোকে। সেলুনের দরজায় দাঁড়িয়েই পকেট থেকে পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে একজন। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যায় এবং সেলুনের ভেতরে থাকা অন্য গ্রাহক ও কারিগররা জীবন বাঁচাতে বাইরে দৌড়ে পালান।
ঠিক তখনই বাকি দুজন কোমর থেকে ধারালো চাপাতী বের করে সেলুনে ঢুকে পড়ে। খালি গায়ে থাকা ফরহাদ বাইরে পালিয়ে যাওয়ার শেষ চেষ্টা চালান। কিন্তু এক ঘাতক পেছন থেকে তাঁর লুঙ্গি টেনে ধরে আটকে ফেলে এবং অন্যজন এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে তারা নিমিষেই চম্পট দেয়।
৫০ হাজার টাকার চাঁদা নাকি কিশোর গ্যাংয়ের পুরোনো শত্রুতা?
নিহতের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেন দাবি করেছেন, ফরহাদ মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন। সেখানে স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্য আরমান, সোহেল, কাল্লু ও সাব্বিরসহ কয়েকজন তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা এককালীন ও দৈনিক বকশিশ হিসেবে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
তবে পুলিশের তদন্তে উঠে আসছে বিপরীত এক চিত্র। মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ সূত্রের দাবি, নিহত ফরহাদ নিজেও কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপে’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস জানান, ঘটনাটি ঘটিয়েছে মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার দুটি অপরাধী চক্র। পূর্ববিরোধের জেরে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।















