৫০ হাজার চুক্তি, বাথরুমে কিশোর হত্যা: জট খুলল ফরিদপুর পিবিআই
- আপডেট সময় : ০৮:৪২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 166
অপরাধী যত চতুরই হোক না কেন, প্রযুক্তির যুগে সামান্য ভুলই যে কাল হয়ে দাঁড়ায়—তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল আবার। একটানা সাড়ে পাঁচ বছর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না, পাছে পুলিশ ট্র্যাকিং করে ফেলে! কিন্তু রক্তের টানে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সেই গোপন সূত্রই শেষ পর্যন্ত পিবিআইয়ের হাতের মুঠোয় এনে দিল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির বহুল আলোচিত ওমর আলী হত্যা মামলার মূল আসামি নজরুল ইসলামকে (৪৮)।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাভারের আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে নজরুলের ছেলেকে আটক এবং পরে তাঁরই দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুরের টিম।
আটক নজরুল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি গ্রামের বাসিন্দা।
নিখোঁজ কিশোর, ঘাসখেতে মিলল নিথর দেহ
ঘটনাক্রমের সূচনা ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি। ঢোলজানি গ্রামের আহেদ শেখের ১৪ বছরের কিশোর ছেলে ওমর আলী হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজের তিন দিন পর, অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি গ্রামের একটি নিরিবিলি ঘাসখেত থেকে ওমরের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ওমরের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে বালিয়াকান্দি থানা-পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও মে মাসে মামলার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ে।
চারবার ফাঁকি, অবশেষে মেয়ের এক ফোনেই পতন!
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গ্রাম ছেড়ে উধাও হয়ে যান নজরুল ও তাঁর ছেলে। পিবিআই নজরুলের স্ত্রী ও মেয়েকে নজরদারিতে রাখে। তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ফরিদপুরের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম জানান, নজরুল নিজে কোনো মোবাইল ফোন রাখতেন না। তবে তাঁর মেয়ে এলাকার এক চাচাতো ভাবির মোবাইল থেকে কৌশলে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
এই গোপন সূত্রের জট খুলতেই বেরিয়ে আসে নজরুলের ছেলের ব্যবহৃত নম্বরটি। এর আগে ২০২২ ও ২০২৪ সালে ফরিদপুর এবং শরীয়তপুরে চারটি পৃথক অভিযান চালিয়েও নজরুলকে ধরা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার সেই ফোন নম্বরের লোকেশন ট্র্যাক করে গত ৫ অক্টোবর আশুলিয়া থেকে প্রথমে তাঁর ২০ বছর বয়সী ছেলেকে আটক করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় চতুর নজরুলকে।
৫০ হাজার টাকার চুক্তি ও বাথরুমে হাত-পা বেঁধে হত্যা
ওমর আলী হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উন্মোচন করতে বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, নজরুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে পিবিআই জানায়, পরকীয়া ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরে কিশোর ওমর আলীকে খতম করতে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়েছিল। এই হত্যা মিশন বাস্তবায়নে নজরুলসহ মোট পাঁচজন অংশ নেন।
২০২১ সালের ১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওমরকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে একটি বাসার বাথরুমে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে হাত-পা বেঁধে চরম নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন (২ জানুয়ারি) রাতে এলাকায় পুলিশের টহল ও তল্লাশির খবর পেয়ে আশঙ্কায় পড়ে খুনিরা। বিবাদের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ওই রাতেই বাথরুমের ভেতরেই ওমরের গলায় ছুরি চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে লাশ ফেলে আসা হয় নির্জন ঘাসখেতে।















