ফরিদপুরে বিএনপি নেতার হুঁশিয়ারি: ছাত্রদল না থাকলে চলবে না মেডিকেল
- আপডেট সময় : ০১:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 745
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে (ফমেক) ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার সরকারি ঘোষণা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ‘হুমকিসূচক’ বক্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
জানা গেছে, রোববার সকাল ১১টার দিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও রুহের মাগফিরাত কামনায় এক দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছাড়াই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কিত বক্তব্য ও হুমকি:
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল সরাসরি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “ছাত্রদল রাজনীতি করতে না পারলে মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে।” এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কথা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা এখানে পড়তে এসেছি, রাজনীতির শিকার হতে নয়। নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এমন হুমকি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।”
বিএনপি নেতার পাল্টা যুক্তি:
অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, প্রশাসন ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দোহাই দিয়ে কেবল ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে। যদি রাজনীতি বন্ধ হয়, তবে তা সবার জন্য সমান হতে হবে। বৈষম্যের শিকার হয়েই তিনি এমন প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞার মাঝে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান ও হুমকি কলেজের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।













