ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘টর্চার সেল’: মারধর-চাঁদাবাজি ও ব্লাঙ্ক চেক

বিশেষ প্রতিবেদক ঢাকা :
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • / 406

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিরপুর অফিস যেন এক টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে। এক ব্যবসায়ীকে ধরে এনে নির্যাতন করে ব্লাঙ্ক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই সংগঠনের ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদমান সানজিদ ও রিফাতুল হক শাওনের বিরুদ্ধে। তাদের সঙ্গে শাহ আলী থানার সদস্যসচিব পারভেজসহ ৮-১০ জন জড়িত বলেও জানা গেছে। দেশ টিভির এক ভিডিও প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্তদের অধিকাংশই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ছোট ভাই পরিচয়ে মিরপুরজুড়ে দাপিয়ে বেড়ান। অভিযোগ আছে, তারা নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তোলা একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তাদের দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন।

সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার ও হামলার অভিযোগ

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি দেখিয়ে এবং তার ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে বদলিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা চাপ সৃষ্টি করেন।

ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলেন, “আমাকে ধরে এনে ইচ্ছামতো মারছে, থাপ্পড় মারছে।”

শুধু সরকারি দপ্তরে ভয় দেখানোই নয়; তাদের ত্রাসের রাজত্ব থেকে মিরপুরের বিভিন্ন বসতবাড়িও বাদ যায়নি। কিছুদিন আগে কয়েকটি বাড়িতে হামলার পাশাপাশি লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা এতটাই আতঙ্কিত যে, ওই ঘটনার কথা মনে করতেই তারা শিউরে ওঠেন। তারা বলেছেন, “আমরা মানসিকভাবে অভিযোগ জানানোর পর্যায়ে নেই। আমাদের বাচ্চারা শেষ হয়ে যাবে। বাচ্চাগুলা এখনো ট্রমার কারণে ঘুমাতে পারে না। ওরা জাস্ট জানতে পারলেই আমাদের বাসার সামনে সব নিয়ে হাজির হবে। আপনারা তো দুজনের নাম দিয়েছেন। অসংখ্য লোক রয়েছে এদের সঙ্গে।”

নাহিদ ইসলামের দাবি ও সংগঠনের নিরবতা

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, তিনি অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। সংগঠনের মুখপাত্র উমামা ফাতিমা ফোন রিসিভ করেননি এবং ফোনে পাঠানো মেসেজেরও জবাব দেননি।

তাহলে কি নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তোলা ছবিকেই পুঁজি করে সাদমান-শাওনরা মিরপুরে ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা দাবি করেন, কারো পরিচয়ে তারা প্রভাব বিস্তার করেননি। বরং, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার ‘অপরাধে’ হামলা ও ধরে এনে পিটিয়েছেন। তাদের দাবি, তারা আওয়ামী লীগের কিছু নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য পাচার করেন।

মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘টর্চার সেল’: মারধর-চাঁদাবাজি ও ব্লাঙ্ক চেক

আপডেট সময় : ০৪:০১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিরপুর অফিস যেন এক টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে। এক ব্যবসায়ীকে ধরে এনে নির্যাতন করে ব্লাঙ্ক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই সংগঠনের ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদমান সানজিদ ও রিফাতুল হক শাওনের বিরুদ্ধে। তাদের সঙ্গে শাহ আলী থানার সদস্যসচিব পারভেজসহ ৮-১০ জন জড়িত বলেও জানা গেছে। দেশ টিভির এক ভিডিও প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্তদের অধিকাংশই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ছোট ভাই পরিচয়ে মিরপুরজুড়ে দাপিয়ে বেড়ান। অভিযোগ আছে, তারা নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তোলা একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তাদের দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন।

সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার ও হামলার অভিযোগ

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি দেখিয়ে এবং তার ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে বদলিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা চাপ সৃষ্টি করেন।

ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলেন, “আমাকে ধরে এনে ইচ্ছামতো মারছে, থাপ্পড় মারছে।”

শুধু সরকারি দপ্তরে ভয় দেখানোই নয়; তাদের ত্রাসের রাজত্ব থেকে মিরপুরের বিভিন্ন বসতবাড়িও বাদ যায়নি। কিছুদিন আগে কয়েকটি বাড়িতে হামলার পাশাপাশি লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা এতটাই আতঙ্কিত যে, ওই ঘটনার কথা মনে করতেই তারা শিউরে ওঠেন। তারা বলেছেন, “আমরা মানসিকভাবে অভিযোগ জানানোর পর্যায়ে নেই। আমাদের বাচ্চারা শেষ হয়ে যাবে। বাচ্চাগুলা এখনো ট্রমার কারণে ঘুমাতে পারে না। ওরা জাস্ট জানতে পারলেই আমাদের বাসার সামনে সব নিয়ে হাজির হবে। আপনারা তো দুজনের নাম দিয়েছেন। অসংখ্য লোক রয়েছে এদের সঙ্গে।”

নাহিদ ইসলামের দাবি ও সংগঠনের নিরবতা

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, তিনি অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনি উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। সংগঠনের মুখপাত্র উমামা ফাতিমা ফোন রিসিভ করেননি এবং ফোনে পাঠানো মেসেজেরও জবাব দেননি।

তাহলে কি নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তোলা ছবিকেই পুঁজি করে সাদমান-শাওনরা মিরপুরে ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা দাবি করেন, কারো পরিচয়ে তারা প্রভাব বিস্তার করেননি। বরং, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার ‘অপরাধে’ হামলা ও ধরে এনে পিটিয়েছেন। তাদের দাবি, তারা আওয়ামী লীগের কিছু নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য পাচার করেন।