ঢাকা ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ট্রান্সফরমার চুরির সরঞ্জামসহ ৩ জন আটক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 111

গ্রামে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া মাত্রই শুরু হতো তাদের আসল খেলা। একের পর এক উধাও হয়ে যেত সরকারি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার, সেচের মোটর আর স্যালো মেশিন। কৃষকের স্বপ্ন আর সেচব্যবস্থাকে জিম্মি করে গড়ে উঠেছিল এক ভয়ংকর চুরি সিন্ডিকেট। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হলো না। সিসিটিভি ক্যামেরার ডিজিটাল নজরদারি আর সাধারণ মানুষের একত্রিত বুদ্ধিমত্তায় উন্মোচিত হলো সেই চোর চক্রের মুখোশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের জয়কাইল এলাকায় ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে চোরের গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা।

আটককৃতরা হলেন—ফরিদপুর সদর উপজেলার কোমরপুর এলাকার সাইফুল ইসলাম রনি (৩৮), চরভদ্রাসন উপজেলার বালিয়াডাঙ্গি এলাকার সাগর শেখ (২৪) এবং সালথার স্থানীয় শুকুর মোল্যার ছেলে জিহাদ মোল্যা (২২)।

সিসিটিভি ফুটেজ ও চোরের আস্তানায় হানা

স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে জয়কাইল বাজার ও তার আশপাশের এলাকায় চোরের উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ নিয়ে চোর চক্রের সদস্যরা একের পর এক ট্রান্সফরমার ও গৃহস্থালির মূল্যবান মালামাল চুরি করে আসছিল। এলাকাবাসীর দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ২০টিরও বেশি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে এই অঞ্চল থেকে।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরপরই জয়কাইল এলাকায় ফের একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। তবে এবার হাত গুটানো নয়, বরং রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামেন স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে চোর চক্রের এক সদস্যকে স্পষ্ট শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান। অভিযুক্ত চোরের অবস্থান চিহ্নিত করে সদর উপজেলার ডাঙ্গিরপাড় এলাকায় গোলাপ খানের বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালান গ্রামবাসী। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সারারাত চুরির কাজ শেষ করে তিনটি চোরই খাটের ওপর অঘোর ঘুমে আচ্ছন্ন!

খাটের নিচে মিলল তামার তারের স্তূপ

ঘুমে থাকা অবস্থায় তিনজনকে দ্রুত ঘেরাও করে ফেলে জনতা। এরপর ঘরের ভেতর তল্লাশি চালানো হলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল! দেখা যায়, শোবার খাটের নিচে লুকানো রয়েছে চুরির পর ভেঙে সংগৃহীত দুটি বড় ট্রান্সফরমারের মূল্যবান তামার তার এবং ট্রান্সফরমার কাটার কাজে ব্যবহৃত নানাবিধ ভারী চুরির সরঞ্জাম।

পরবর্তীতে চুরির মালামালসহ তিন চোরকে নিয়ে যাওয়া হয় জয়কাইল বাজারে। সেখানে উপস্থিত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চোরদের আটক রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে হেফাজতে নেয় এবং চুরি যাওয়া তামা ও সরঞ্জাম জব্দ করে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ

স্থানীয় জনতা অভিযোগ করেন, এই সিন্ডিকেটের কারণে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হচ্ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে চুরি যাওয়া মালামালের ক্ষতিপূরণ ও এই চক্রের মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, “স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি কেটে রাখা ট্রান্সফরমারের তামা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ফরিদপুরে ট্রান্সফরমার চুরির সরঞ্জামসহ ৩ জন আটক

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া মাত্রই শুরু হতো তাদের আসল খেলা। একের পর এক উধাও হয়ে যেত সরকারি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার, সেচের মোটর আর স্যালো মেশিন। কৃষকের স্বপ্ন আর সেচব্যবস্থাকে জিম্মি করে গড়ে উঠেছিল এক ভয়ংকর চুরি সিন্ডিকেট। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হলো না। সিসিটিভি ক্যামেরার ডিজিটাল নজরদারি আর সাধারণ মানুষের একত্রিত বুদ্ধিমত্তায় উন্মোচিত হলো সেই চোর চক্রের মুখোশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের জয়কাইল এলাকায় ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে চোরের গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা।

আটককৃতরা হলেন—ফরিদপুর সদর উপজেলার কোমরপুর এলাকার সাইফুল ইসলাম রনি (৩৮), চরভদ্রাসন উপজেলার বালিয়াডাঙ্গি এলাকার সাগর শেখ (২৪) এবং সালথার স্থানীয় শুকুর মোল্যার ছেলে জিহাদ মোল্যা (২২)।

সিসিটিভি ফুটেজ ও চোরের আস্তানায় হানা

স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে জয়কাইল বাজার ও তার আশপাশের এলাকায় চোরের উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ নিয়ে চোর চক্রের সদস্যরা একের পর এক ট্রান্সফরমার ও গৃহস্থালির মূল্যবান মালামাল চুরি করে আসছিল। এলাকাবাসীর দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ২০টিরও বেশি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে এই অঞ্চল থেকে।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরপরই জয়কাইল এলাকায় ফের একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। তবে এবার হাত গুটানো নয়, বরং রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামেন স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে চোর চক্রের এক সদস্যকে স্পষ্ট শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান। অভিযুক্ত চোরের অবস্থান চিহ্নিত করে সদর উপজেলার ডাঙ্গিরপাড় এলাকায় গোলাপ খানের বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালান গ্রামবাসী। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সারারাত চুরির কাজ শেষ করে তিনটি চোরই খাটের ওপর অঘোর ঘুমে আচ্ছন্ন!

খাটের নিচে মিলল তামার তারের স্তূপ

ঘুমে থাকা অবস্থায় তিনজনকে দ্রুত ঘেরাও করে ফেলে জনতা। এরপর ঘরের ভেতর তল্লাশি চালানো হলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল! দেখা যায়, শোবার খাটের নিচে লুকানো রয়েছে চুরির পর ভেঙে সংগৃহীত দুটি বড় ট্রান্সফরমারের মূল্যবান তামার তার এবং ট্রান্সফরমার কাটার কাজে ব্যবহৃত নানাবিধ ভারী চুরির সরঞ্জাম।

পরবর্তীতে চুরির মালামালসহ তিন চোরকে নিয়ে যাওয়া হয় জয়কাইল বাজারে। সেখানে উপস্থিত ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চোরদের আটক রেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে হেফাজতে নেয় এবং চুরি যাওয়া তামা ও সরঞ্জাম জব্দ করে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ

স্থানীয় জনতা অভিযোগ করেন, এই সিন্ডিকেটের কারণে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হচ্ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে চুরি যাওয়া মালামালের ক্ষতিপূরণ ও এই চক্রের মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, “স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি কেটে রাখা ট্রান্সফরমারের তামা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”