ফরিদপুরে পদ্মায় মিলল নারীর রহস্যময় লাশ
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 129
দুই হাতে শাখা চুড়ি, পায়ে রূপোলি নূপুর আর বাঁ হাতে সনাতন ধর্মীয় ট্যাটু! দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে নদীর জলে ভেসে থাকা কোনো নিথর ভাস্কর্য। কিন্তু কাছে যেতেই আঁতকে উঠলেন স্থানীয়রা। পদ্মার তোড়ে ভেসে এসেছে এক মহিলার বিভৎস ও অর্ধগলিত লাশ, যার গলায় স্পষ্ট কাটার দাগ এবং বুক থেকে নাভি পর্যন্ত গভীর সেলাইয়ের চিহ্ন!
রোববার (২৩ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুরের পদ্মা নদী থেকে ওই অচেনা নারীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের সাদীপুর বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি প্রথম দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে রাত আটটা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির একটি দল।
রহস্যময় শরীরের আলামত ও পরিচয় জটিলতা
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী মুনসুর আলী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নারীর চেহারার বিকৃতি ঘটলেও বেশ কিছু স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। তার দুই হাতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের ব্যবহৃত শাঁখা, দুই পায়ে নূপুর এবং বাঁ হাতে উল্কি বা ট্যাটু আঁকা রয়েছে। তবে শরীরজুড়ে ফুটে উঠেছে চরম নৃশংসতার ক্ষত। গলার অংশে রয়েছে ধারালো অস্ত্রের কাটার গভীর চিহ্ন এবং গলা থেকে নাভি পর্যন্ত রয়েছে অদ্ভুত সেলাইয়ের দাগ!
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান বিপুল জানান—সন্ধ্যার দিকে নদীর জলে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তাঁকে জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে নৌ-পুলিশ দ্রুত এসে লাশটি উদ্ধার করে ডাঙায় তোলে।
মাছের আক্রমণ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলার বিভীষিকা
মরদেহটি এতটা বিকৃত হয়ে গেছে যে পরিচয় বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আঙুল পচে যাওয়া ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলায় হত্যা রহস্য উদঘাটনে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে পুলিশ।
পুরো বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে ফরিদপুর নৌ-পুলিশের ওসি শফিকুল ইসলাম জানান—
“মরদেহটি একেবারে অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক আনুমানিক ধারণা, অন্তত পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে ওই নারীকে চরম নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ পদ্মার স্রোতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় এবং জলজ প্রাণীরা খুঁটে খাওয়ায় হাতের আঙুলগুলো পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বায়োমেট্রিক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, মৃত নারীর প্রকৃত পরিচয় বের করতে এবং এই রহস্যময় মৃত্যুর পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত দল জোর তৎপরতা শুরু করেছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।















