৯৩ ‘বাবার সন্তান’ রবিউলকে গ্রেপ্তার করল ডিবি
- আপডেট সময় : ০৬:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 219
কাগজে-কলমে বাবার নাম আলাদা, ঠিকানা ভিন্ন, এমনকি পরিচয় নম্বর কিংবা জন্মতারিখও একে অপরের সঙ্গে মেলে না। কিন্তু প্রতিটি কার্ডে ছাপানো ছবি বিশ্লেষণ করতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড় গোয়েন্দাদের! গা গেঁথে থাকা শার্টের রঙটুকু বাদ দিলে—সবকটি জাতীয় পরিচয়পত্রে হাসছে একজনই মানুষের মুখ। অর্থাৎ কাগুজে পরিচয়ে তিনি অন্তত ৯৩ জন আলাদা বাবার সন্তান!
প্রযুক্তির বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র জালিয়াতির এমনই এক চমকপ্রদ ও ভয়ংকর কান্ড উন্মোচন করেছে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির অভিযোগে রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের মোক্তারপাড়ার দত্ত মার্কেটের ‘সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোর’-এ অভিযান চালায় ডিবি। দোকানটিতে জাল এনআইডি কার্ড প্রিন্ট করার সময় রবিউলকে আটক করা হয়।
আটকের পর তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৭টি প্রস্তুতকৃত প্রিন্টেড জাল এনআইডি, ৬টি কার্ডের পেছনের অংশ এবং তাঁর মুঠোফোনে সংরক্ষিত থাকা আরও ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি (পিডিএফ) উদ্ধার করা হয়েছে।
৯৩টি পরিচয়, নেপথ্যে সিএসইর মাথা!
গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। তিনি রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনায় শ্বশুড়বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসে স্থানীয় একটি দোকানে এসব জাল এনআইডি প্রিন্ট করতে গিয়েছিলেন রবিউল। সিএসইতে পড়ার সুবাদে ডিজিটাল এডিটিং ও সফটওয়্যারের কাজে পারদর্শী রনি একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ৯৩টি ভিন্ন ভিন্ন নাম-ঠিকানার এনআইডি কার্ড তৈরি করেন।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আসামিকে আদালতের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে জেলা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী রানাকে।
সার্ভারে ধরা পড়ার জোর হুশিয়ারি
একই ছবিতে ৯৩ জন আলাদা মানুষের ভুয়া কার্ড বানানোর এই দুঃসাহসিক জালিয়াতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন স্পষ্ট জানান—
“আইন অনুযায়ী একই ব্যক্তির একাধিক এনআইডি করার কোনো সুযোগ নেই। ছবি বা পরিচয় জাল করে কার্ড তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা নির্বাচন কমিশনের মূল সার্ভারে সহজেই শনাক্ত হয়ে যায়। এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।”











