ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহত্তর ফরিদপুর হবে উন্নয়নের মডেল বিভাগ – হুইপ অপু

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 110

ঐতিহাসিক প্রাচীন শহর ফরিদপুরকে ‘মা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে শহরের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য ও তিন জেলার সার্বিক উন্নয়ন সমন্বয়ক মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও অবকাঠামোগত অবহেলা ঝেড়ে ফেলে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরকে সঙ্গে নিয়ে এক সমন্বিত ও আধুনিক ‘মডেল বিভাগ’ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

‘মায়ের ভগ্ন দশা’ ও মাইনাস অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ

সভায় প্রাচীন জেলা ফরিদপুরের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জাতীয় সংসদের হুইপ বলেন—

“দেশের বৃহত্তর ও প্রাচীন জেলাগুলোর অন্যতম এই ফরিদপুর। এটি সেই ‘মা’ জেলা, যার কোল থেকে রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার জন্ম হয়েছে। কিন্তু আজ শহরের ভেতর দিয়ে আসার সময় দেখলাম মায়ের কী ভগ্ন দশা! নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। মনে হলো ৫০ বছর আগের কোনো শহরে প্রবেশ করেছি। আমরা এই অবহেলার অবসান ঘটিয়ে বৃহত্তর ফরিদপুরকে উন্নয়নের মডেল বিভাগ হিসেবে গড়ে তুলবো।”

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন—

“৭১-এর স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মতো ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে। রাজকোষাগার শূন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় লজিস্টিক সাপোর্ট ছিল না বললেই চলে। বর্তমানে আমরা শূন্য নয়, মাইনাস অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছি। দেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ঋণগ্রস্ত। ৭১-এর পর দেশের মানুষ যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, ঠিক তেমনি ২৪-পরবর্তী গণরায়ে দেশের জনগণ জনাব তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছেন। এই মাইনাস অর্থনীতি সামলেও মানুষের প্রতিটি প্রত্যাশা পূরণে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী, সাংসদ ও প্রশাসনের সমন্বিত বার্তা

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত সমস্যার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। সভায় সরাসরি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়ম, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লাসহ রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জের অন্যান্য সাংসদেরা।

এছাড়াও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ূম জঙ্গি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ।

কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহত্তর ফরিদপুর হবে উন্নয়নের মডেল বিভাগ – হুইপ অপু

আপডেট সময় : ০৯:২০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ঐতিহাসিক প্রাচীন শহর ফরিদপুরকে ‘মা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে শহরের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য ও তিন জেলার সার্বিক উন্নয়ন সমন্বয়ক মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও অবকাঠামোগত অবহেলা ঝেড়ে ফেলে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরকে সঙ্গে নিয়ে এক সমন্বিত ও আধুনিক ‘মডেল বিভাগ’ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

‘মায়ের ভগ্ন দশা’ ও মাইনাস অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ

সভায় প্রাচীন জেলা ফরিদপুরের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জাতীয় সংসদের হুইপ বলেন—

“দেশের বৃহত্তর ও প্রাচীন জেলাগুলোর অন্যতম এই ফরিদপুর। এটি সেই ‘মা’ জেলা, যার কোল থেকে রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার জন্ম হয়েছে। কিন্তু আজ শহরের ভেতর দিয়ে আসার সময় দেখলাম মায়ের কী ভগ্ন দশা! নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। মনে হলো ৫০ বছর আগের কোনো শহরে প্রবেশ করেছি। আমরা এই অবহেলার অবসান ঘটিয়ে বৃহত্তর ফরিদপুরকে উন্নয়নের মডেল বিভাগ হিসেবে গড়ে তুলবো।”

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন—

“৭১-এর স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মতো ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে। রাজকোষাগার শূন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় লজিস্টিক সাপোর্ট ছিল না বললেই চলে। বর্তমানে আমরা শূন্য নয়, মাইনাস অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছি। দেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ঋণগ্রস্ত। ৭১-এর পর দেশের মানুষ যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, ঠিক তেমনি ২৪-পরবর্তী গণরায়ে দেশের জনগণ জনাব তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছেন। এই মাইনাস অর্থনীতি সামলেও মানুষের প্রতিটি প্রত্যাশা পূরণে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী, সাংসদ ও প্রশাসনের সমন্বিত বার্তা

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত সমস্যার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। সভায় সরাসরি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়ম, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লাসহ রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জের অন্যান্য সাংসদেরা।

এছাড়াও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ূম জঙ্গি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ।

কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।