ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাধারণ মানুষ চায় তিনি আরো অন্তত ৫ বছর ক্ষমতায় থাকুক

অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে দৃশ্যপট বদলের চমক

বিশেষ সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০১:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 133

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছেন। জুলাইয়ে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পর অনেকেই ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করলেও বাস্তবে তার সরকার দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সফলতা—সব ক্ষেত্রেই ড. ইউনূসের নেতৃত্ব প্রশংসিত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে একধরনের আস্থার জন্ম নিয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন সাফল্য

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ ছিল অতীতের সব সরকার। কিন্তু ইউনূস সরকারের উদ্যোগে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসে বাজারের নিয়ন্ত্রণ দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। ডিম, পেঁয়াজ, চিনি—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। সাধারণ মানুষ বলছে, রমজানে এরকম স্থিতিশীল বাজার তারা কোনোদিন দেখেনি।

নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রায় ইতিহাস গড়া

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার দেশের মানুষ পেয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী অভিজ্ঞতা। যানজট, ভোগান্তি বা ট্রেন-বাসের শিডিউল বিপর্যয়—কোনোটাই ছিল না। হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিবিড় তদারকির কারণে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গসহ অন্যান্য রুটে যাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল না বাড়তি ভিড় বা বিশৃঙ্খলা। যাত্রীরা বলছেন, এমন শান্তিপূর্ণ ঈদযাত্রা তারা গত ৪০ বছরেও দেখেননি।

ট্রেনযাত্রায় ছিল শৃঙ্খলা ও স্বস্তি

ঈদের সময় ট্রেনযাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট না পাওয়া কিংবা কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য এবার আর দেখা যায়নি। কমলাপুরসহ দেশের বড় রেলস্টেশনগুলোতে এবার সময়মতো ট্রেন ছাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা। সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, এবার টিকিট পাওয়া, যাত্রা এবং সার্ভিস—সব কিছুতেই তারা সন্তুষ্ট।

রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন উচ্চতা

ড. ইউনূসের সরকারের সময় প্রবাসী আয় অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। মার্চ মাসেই প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। রোজা ও ঈদ উপলক্ষে এই প্রবাহ কিছুটা বাড়বে, এমন ধারণা থাকলেও এমন উচ্চমাত্রার প্রবাহ অনেককেই চমকে দিয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ

বিগত ১৭ বছরে অর্থ পাচারের কারণে সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর তারল্য সমস্যার সমাধানে কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সংকট সমাধানের পরিবর্তে গ্যারান্টির মাধ্যমে সীমিত সহায়তা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর পর্ষদে পরিবর্তন এনে আস্থা ফিরিয়েছে সরকার। ফলে ব্যাংকিং খাতেও ফিরেছে স্থিতি ও বিশ্বাস।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ছয় মাসেই অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে ইউনূস সরকার। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় এসেছে নতুন গতি। রোহিঙ্গা সংকটেও এসেছে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি—প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। বিশেষ করে চীন সফরে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগচুক্তির পর ভারতও নতুন করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে উদ্যোগী হয়েছে।

মোদি-ইউনূস বৈঠকে রাজনৈতিক ইঙ্গিত

গত ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ড. ইউনূসের ৪০ মিনিটের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছিল বহুল আলোচিত। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, এই বৈঠকে মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়ে নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। এমনকি ভবিষ্যতে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে—এমন ধারণাও প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউনূসের ব্যাপক প্রশংসা

ড. ইউনূসের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। হাজার হাজার মানুষ তাকে অন্তত আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। কেউ কেউ চাইছেন, তিনি যেন প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে তবেই নির্বাচন দেন। অনেকেই তাকে তুলনা করছেন দেশের একমাত্র বাস্তব ‘সংস্কারক’-এর সঙ্গে।

সাধারণ মানুষ চায় তিনি আরো অন্তত ৫ বছর ক্ষমতায় থাকুক

অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে দৃশ্যপট বদলের চমক

আপডেট সময় : ০১:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছেন। জুলাইয়ে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পর অনেকেই ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করলেও বাস্তবে তার সরকার দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সফলতা—সব ক্ষেত্রেই ড. ইউনূসের নেতৃত্ব প্রশংসিত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে একধরনের আস্থার জন্ম নিয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন সাফল্য

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ ছিল অতীতের সব সরকার। কিন্তু ইউনূস সরকারের উদ্যোগে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসে বাজারের নিয়ন্ত্রণ দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। ডিম, পেঁয়াজ, চিনি—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। সাধারণ মানুষ বলছে, রমজানে এরকম স্থিতিশীল বাজার তারা কোনোদিন দেখেনি।

নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রায় ইতিহাস গড়া

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার দেশের মানুষ পেয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী অভিজ্ঞতা। যানজট, ভোগান্তি বা ট্রেন-বাসের শিডিউল বিপর্যয়—কোনোটাই ছিল না। হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিবিড় তদারকির কারণে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গসহ অন্যান্য রুটে যাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল না বাড়তি ভিড় বা বিশৃঙ্খলা। যাত্রীরা বলছেন, এমন শান্তিপূর্ণ ঈদযাত্রা তারা গত ৪০ বছরেও দেখেননি।

ট্রেনযাত্রায় ছিল শৃঙ্খলা ও স্বস্তি

ঈদের সময় ট্রেনযাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট না পাওয়া কিংবা কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য এবার আর দেখা যায়নি। কমলাপুরসহ দেশের বড় রেলস্টেশনগুলোতে এবার সময়মতো ট্রেন ছাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা। সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, এবার টিকিট পাওয়া, যাত্রা এবং সার্ভিস—সব কিছুতেই তারা সন্তুষ্ট।

রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন উচ্চতা

ড. ইউনূসের সরকারের সময় প্রবাসী আয় অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। মার্চ মাসেই প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। রোজা ও ঈদ উপলক্ষে এই প্রবাহ কিছুটা বাড়বে, এমন ধারণা থাকলেও এমন উচ্চমাত্রার প্রবাহ অনেককেই চমকে দিয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ

বিগত ১৭ বছরে অর্থ পাচারের কারণে সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর তারল্য সমস্যার সমাধানে কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সংকট সমাধানের পরিবর্তে গ্যারান্টির মাধ্যমে সীমিত সহায়তা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর পর্ষদে পরিবর্তন এনে আস্থা ফিরিয়েছে সরকার। ফলে ব্যাংকিং খাতেও ফিরেছে স্থিতি ও বিশ্বাস।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ছয় মাসেই অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে ইউনূস সরকার। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় এসেছে নতুন গতি। রোহিঙ্গা সংকটেও এসেছে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি—প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। বিশেষ করে চীন সফরে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগচুক্তির পর ভারতও নতুন করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে উদ্যোগী হয়েছে।

মোদি-ইউনূস বৈঠকে রাজনৈতিক ইঙ্গিত

গত ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ড. ইউনূসের ৪০ মিনিটের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছিল বহুল আলোচিত। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, এই বৈঠকে মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়ে নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। এমনকি ভবিষ্যতে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে—এমন ধারণাও প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউনূসের ব্যাপক প্রশংসা

ড. ইউনূসের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। হাজার হাজার মানুষ তাকে অন্তত আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। কেউ কেউ চাইছেন, তিনি যেন প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে তবেই নির্বাচন দেন। অনেকেই তাকে তুলনা করছেন দেশের একমাত্র বাস্তব ‘সংস্কারক’-এর সঙ্গে।