ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ: বাড়তে পারে লোডশেডিং

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
  • / 231

আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিং আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডায় অবস্থিত।

দুই ইউনিটেই উৎপাদন বন্ধ

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয় ৮ এপ্রিল। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে দ্বিতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ সরবরাহ না ফিরলে লোডশেডিং বাড়বে

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ) এবং পিডিবির (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) একটি সূত্র জানিয়েছে, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকলে রোববার থেকে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। ঘাটতি মেটাতে পেট্রোবাংলার কাছে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ চাওয়া হয়েছে।

আগে কত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল

সূত্র জানায়, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ১,৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। ৮ এপ্রিলের পরও প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট সরবরাহ পেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে সম্পূর্ণ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে শনিবার সন্ধ্যায় একটি ইউনিট চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুরনো বিরোধের প্রেক্ষাপট

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কয়লার দাম নিয়ে বিরোধ এবং বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে গত বছরও একবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল আদানি গ্রুপ। পরবর্তীতে নিয়মিত বিল পরিশোধ শুরু হলে একটি ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুরো সরবরাহ পুনরায় চালুর জন্য পিডিবি অনুরোধ করে এবং মার্চ থেকে দুটি ইউনিটই চালু থাকে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা

পিজিসিবি ও পিডিবি সূত্র জানায়, শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। বেলা ১টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৩,৫০০ মেগাওয়াট, যেখানে ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। প্রথমে বন্ধ হওয়া ইউনিটটি দ্রুত চালুর চেষ্টা করছে আদানি।
তিনি আরও বলেন, দেশে ঘাটতি মেটাতে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে এবং গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া গেলে চাহিদামতো উৎপাদন সম্ভব হবে।

আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চুক্তির প্রেক্ষাপট

২০১৭ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার জন্য চুক্তি করে পিডিবি। ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ইউনিটসহ ১,৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা সম্পন্ন। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ২৫ বছর ধরে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনবে।
প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালু হয় ওই বছরের জুনে। বর্তমানে আদানির সঙ্গে পিডিবির এই চুক্তি পর্যালোচনার কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি কমিটি।

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ: বাড়তে পারে লোডশেডিং

আপডেট সময় : ০৭:৫০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫

আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিং আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডায় অবস্থিত।

দুই ইউনিটেই উৎপাদন বন্ধ

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয় ৮ এপ্রিল। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে দ্বিতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ সরবরাহ না ফিরলে লোডশেডিং বাড়বে

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ) এবং পিডিবির (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) একটি সূত্র জানিয়েছে, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকলে রোববার থেকে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। ঘাটতি মেটাতে পেট্রোবাংলার কাছে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ চাওয়া হয়েছে।

আগে কত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল

সূত্র জানায়, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ১,৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। ৮ এপ্রিলের পরও প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট সরবরাহ পেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে সম্পূর্ণ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে শনিবার সন্ধ্যায় একটি ইউনিট চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুরনো বিরোধের প্রেক্ষাপট

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কয়লার দাম নিয়ে বিরোধ এবং বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে গত বছরও একবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল আদানি গ্রুপ। পরবর্তীতে নিয়মিত বিল পরিশোধ শুরু হলে একটি ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুরো সরবরাহ পুনরায় চালুর জন্য পিডিবি অনুরোধ করে এবং মার্চ থেকে দুটি ইউনিটই চালু থাকে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা

পিজিসিবি ও পিডিবি সূত্র জানায়, শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। বেলা ১টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৩,৫০০ মেগাওয়াট, যেখানে ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। প্রথমে বন্ধ হওয়া ইউনিটটি দ্রুত চালুর চেষ্টা করছে আদানি।
তিনি আরও বলেন, দেশে ঘাটতি মেটাতে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে এবং গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া গেলে চাহিদামতো উৎপাদন সম্ভব হবে।

আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চুক্তির প্রেক্ষাপট

২০১৭ সালে আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ কেনার জন্য চুক্তি করে পিডিবি। ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ইউনিটসহ ১,৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা সম্পন্ন। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ২৫ বছর ধরে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনবে।
প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালু হয় ওই বছরের জুনে। বর্তমানে আদানির সঙ্গে পিডিবির এই চুক্তি পর্যালোচনার কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি কমিটি।