চট্টগ্রামে ডুবে গেছে রাস্তা, উপড়ে গেছে ল্যাম্পপোস্ট, নগরবাসী চিন্তিত
- আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০২৪
- / 197
স্বস্তির বৃষ্টিতে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে কোথাও কোথাও জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সোমবার (৬ মে) বিকাল ৩টা থেকে এ বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে ৫টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ছিল দমকা হাওয়া।
দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বেশ কিছু নিচু এলাকায় পানি জমে সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। এতে লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পড়তে হয়েছে। সড়কের ওপর গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।
শুধু যে জলাবদ্ধতা তা নয়, বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ায় নগরের জিইসি মোড় এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারসহ খুঁটি ভেঙে পড়ে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিকেলেই আঁধার নেমে আসে নগরজুড়ে। ভোগান্তি আর দুর্ভোগ সঙ্গী করে ঘরে ফিরতে হয়েছে অনেককেই।
মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে সোমবার বিকেলে বন্দরনগর চট্টগ্রামের নিচু এলাকাসহ অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় সড়ক। নগরের পাঁচলাইশ, প্রবর্তক মোড়, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, শুলকবহর, মির্জাপুল, ওয়াসা মোড়, তিন পোলের মাথা, আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ এলাকা, চকবাজার, বহদ্দারহাট এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। কোথাও কোথাও গোড়ালি থেকে হাঁটুসমান পানি জমেছিল।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার বিকেল চারটা থেকে আজ সোমবার বিকেল চারটা পর্যন্ত ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য তিনটি সংস্থা চারটি প্রকল্প বাস্তবায়িত করছে। এসব প্রকল্পের কাজ চলছে ৭ থেকে ১০ বছর ধরে। এরপরও মৌসুমের প্রথম ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, প্রবর্তক মোড়ে গাড়ির জট। মোড়ে শত শত মানুষ গাড়ির অপেক্ষায়। মাঝেমধ্যে রিকশা কিংবা অটোরিকশা এলেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। কারও জায়গা হয়, কারও হয়নি। এর মধ্যে প্রবর্তক মোড় থেকে ২ নম্বর গেট পর্যন্ত ২০ টাকার রিকশাভাড়া নেওয়া হয় ৫০ টাকা।
এমন সময়ে জলাবদ্ধতা যেন নিয়মিত ঘটনা চকবাজারের মুহাম্মদ শাহ আলী লেনে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চাক্তাই খালের পাশের এলাকায় বৃষ্টি শুরুর পরপরই পানি উঠতে শুরু করে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায়ও পানি জমেছিল বলে জানান বাসিন্দা আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্ভোগ যেন দূর হবে না। প্রতিবছরই আশ্বাস দেন কর্তারা, কিন্তু একবার বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি।’
সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান তারেক ঘটনাস্থল থেকে গণমাধ্যমকে জানান, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গাছ ও ট্রান্সফরমার সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। অনেক পুরোনো এবং বড় গাছ হওয়ায় সড়ক থেকে গাছ সরাতে কিছুটা সময় লাগছে।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ সবচেয়ে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও প্রকল্প পরিচালক ফেরদৌস আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বৃষ্টিতে কিছু কিছু জায়গায় পানি উঠেছে। তবে কোথাও বেশিক্ষণ পানি জমেছিল না। প্রকল্পের আওতায় খালগুলো পরিষ্কার করায় পানি দ্রুত নেমে গেছে। আর কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে।




















