দুই শত বছরের অবসান: অবশেষে মাটির রাস্তা পেল ফরিদপুরের এক জনপদ
- আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
- / 467
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর (স্থানীয়ভাবে বেষ্টপুর নামেও পরিচিত) গ্রামের মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। প্রায় দুই শত বছর ধরে রাস্তাবিহীন দুর্ভোগে থাকা এই গ্রামের মানুষ অবশেষে একটি মাটির রাস্তা পেয়েছে।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে গ্রামের অভ্যন্তরে নির্মিত নতুন এই মাটির রাস্তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সোনা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উৎসাহী গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
আনন্দ-উৎসব ও আবেগের মুহূর্ত
উদ্বোধন শেষে পুরো গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসী আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন। অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন, কারণ তারা এমন একটি সুযোগের জন্য দীর্ঘকাল অপেক্ষা করেছেন।
নতুন দিগন্তের সূচনা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে বর্ষাকালে নৌকা দিয়েই গ্রামের মানুষ চলাচল করতেন। জরুরি সময়ে রোগী বহনে কিংবা শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন এই রাস্তা যেন গ্রামবাসীর জীবনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, “এই রাস্তা শুধু মাটি দিয়ে নির্মিত নয়, এটি একটি ইতিহাসের অংশ। দুই শত বছর ধরে যোগাযোগের জন্য যে কষ্ট মানুষ করেছে, আজ সেই কষ্টের অবসান ঘটল। এ সড়ক গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
চেয়ারম্যানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন
রুপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “এই রাস্তাটি ছিল গ্রামের মানুষের প্রাণের দাবি। নির্বাচনের সময় আমি এই রাস্তাটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি, এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের।”
প্রকল্পের বিবরণ
উল্লেখ্য, প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা রাস্তার নির্মাণকাজ চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প (কাবিখা) এর অধীনে সরকারি অর্থায়নে এই রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।



















