ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার সন্দেহে ফরিদপুরে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 596

ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকার ভাড়া বাসায় পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম লিপি বেগম (৪৫)।

লিপি বেগমকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম কালা (৬০) হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী?

নিহত লিপি বেগম ও অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম কালার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই দম্পতির মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে জানা যায়।

ছেলে ও ঝগড়ার সূত্রপাত: তাঁদের ছেলে পনির ইসলাম (২৮) জানান, বাবা-মায়ের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া হতো এবং বুধবার রাতেও তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাতনি: ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা নাতনি স্মৃতি আক্তার জানায়, শফিকুল ইসলাম কালা ঘরে ঢুকে জামাকাপড় নিতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে ‘তুমি বাবলুর সঙ্গে কী করছো?’ বলে প্রশ্ন করেন।

কোরআন ছুঁয়ে শপথ: ঝগড়ার একপর্যায়ে দাদা শফিকুল ইসলাম দাদিকে কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করে বলতে বলেন যে তিনি কোনো অন্যায় করেননি। দাদি কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ নিতে রাজি না হওয়ায় হঠাৎ দাদা কোমর থেকে ছুরি বের করে তাঁর গলায় বসিয়ে দেন।

পালিয়ে যাওয়া: এরপরই শফিকুল ইসলাম কালা নিজের জামাকাপড় নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পুলিশের পদক্ষেপ

কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হাসপাতালে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসক লিপি বেগমকে মৃত ঘোষণা করার পর পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী শফিকুল ইসলাম কালাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পরকীয়ার সন্দেহে ফরিদপুরে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভাটি লক্ষ্মীপুর এলাকার ভাড়া বাসায় পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম লিপি বেগম (৪৫)।

লিপি বেগমকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম কালা (৬০) হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী?

নিহত লিপি বেগম ও অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম কালার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই দম্পতির মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে জানা যায়।

ছেলে ও ঝগড়ার সূত্রপাত: তাঁদের ছেলে পনির ইসলাম (২৮) জানান, বাবা-মায়ের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া হতো এবং বুধবার রাতেও তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাতনি: ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা নাতনি স্মৃতি আক্তার জানায়, শফিকুল ইসলাম কালা ঘরে ঢুকে জামাকাপড় নিতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে ‘তুমি বাবলুর সঙ্গে কী করছো?’ বলে প্রশ্ন করেন।

কোরআন ছুঁয়ে শপথ: ঝগড়ার একপর্যায়ে দাদা শফিকুল ইসলাম দাদিকে কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করে বলতে বলেন যে তিনি কোনো অন্যায় করেননি। দাদি কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ নিতে রাজি না হওয়ায় হঠাৎ দাদা কোমর থেকে ছুরি বের করে তাঁর গলায় বসিয়ে দেন।

পালিয়ে যাওয়া: এরপরই শফিকুল ইসলাম কালা নিজের জামাকাপড় নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পুলিশের পদক্ষেপ

কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হাসপাতালে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসক লিপি বেগমকে মৃত ঘোষণা করার পর পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী শফিকুল ইসলাম কালাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।