ফরিদপুরে রাজন হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৫:০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
- / 510
ফরিদপুরের মধুখালীতে চাঞ্চল্যকর রাজন হত্যা মামলার দীর্ঘ ১১ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একই সঙ্গে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অনাদায়ে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রমাণ লোপাটের দায়ে ওই পাঁচজনকে আরও ৭ বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই, ২০২৫) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এই রায় দেন।
আদালতে উপস্থিত ও পলাতক আসামিরা
রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মো. আরমান হোসেন, মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলন, মো. মামুন শেখ ও ইলিয়াছ মৃধা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে, অপর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আছাদ শেখ পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত আসামিদের পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত সবার বাড়ি মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
এছাড়া, মামলার অন্য দুই আসামি মো. হাসান সিকদার ও মো. আশরাফুল শিকদারকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে খালাস দেওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ড ও তদন্তের বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহ মো. রাজন (২৮) বিকেলে তার মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করে। নিখোঁজের চার দিন পর রাজনের ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেলটি মধুখালী উপজেলার তারাপুর শ্মশানঘাট সংলগ্ন মধুমতী নদীর পানিতে জেলেরা মাছ ধরার সময় পায়।
পরে পুলিশ মামুনের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে বসতঘর তল্লাশি করে। মামুনের ব্যবহৃত প্যান্টের পকেটে রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেটটি পাওয়া যায় এবং কললিস্টের সূত্র ধরে আরমান হোসেনকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আরমান স্বীকার করেন যে, রাজনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মামুনের সহায়তায় কৌশলে কুড়ানিয়ার চর এলাকার একটি বাগানে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আছাদ, মামুন শেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাজনকে হত্যা করে এবং মরদেহ ওই বাগানের মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখে। পরে পুলিশ মাটি খুঁড়ে রাজনের মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডে মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলন সহ অন্যদের ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়া, বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড এবং পারিপার্শ্বিকতায় হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পায় পুলিশ।
আইনি প্রক্রিয়া ও রায় ঘোষণা
এই ঘটনায় নিহত রাজনের মা জোৎস্না বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রকিবুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, রাজনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার মরদেহ মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনেছে।



















