ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ‘সমকামিতার’ অভিযোগে আটক ৩ যুবক সম্পর্কে যা জানা গেল

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 969

ফরিদপুর শহরের একটি ছাত্রাবাসে সমকামিতার অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে শহরের কমলাপুর মহল্লার চানমারী এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়।

জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে ওই ছাত্রাবাস থেকে মোট ৫ যুবককে সমকামিতার অভিযোগে হাতেনাতে আটক করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী। পরে তাদের মধ্যে ৩ জনকে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও, মূল অভিযুক্ত অপর দুই ছাত্রকে পুলিশ আসার আগেই মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় তাদের পরিবার।

আটককৃতরা হলেন—সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জিহাদ হোসেন (২৮), শহরের নিউমার্কেট এলাকার দর্জি বাবু খান (৩৮) এবং গোয়ালচামট শ্রী অঙ্গনের বাসিন্দা কৃষ্ণ মন্ডল (৩০)। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের হাতে প্রথমে রাজ ও আরিয়ান নামের মূল অভিযুক্ত দুই ছাত্র আটক হলেও পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

যেভাবে প্রকাশ্যে এলো ঘটনা:

মেসের বোর্ডার ফাহিম বিশ্বাস ও নাহিদ জানান, প্রায় ১০ দিন আগে রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হাসান রাজ চানমারী এলাকার এই মেসে সিট নেন। মেসে ওঠার পর থেকেই তার চলাফেরা ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। একপর্যায়ে হাসান রাজ মেসেরই অন্য এক ছাত্রকে সমকামিতার কুপ্রস্তাব দিলে বিষয়টি সবার সামনে আসে।

গত শুক্রবার রাতে হাসান রাজকে জেরা করা হলে সে সমকামিতার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তার এবং পাশের আরেকটি মেসের বাসিন্দা আরিয়ানের মোবাইল চেক করে ফেসবুকে ফেক আইডি দিয়ে পরিচালিত একাধিক ‘গে গ্রুপের’ (সমকামী অনলাইন গ্রুপ) সন্ধান পান মেসের অন্য ছাত্ররা।

এরপর মেসের ছাত্ররা কৌশলে হাসান ও আরিয়ানকে দিয়ে ওই ফেসবুক গ্রুপের অন্য ৩ সদস্যকে মেসে আসার আমন্ত্রণ জানান। শনিবার দুপুরে জিহাদ, বাবু ও কৃষ্ণ মন্ডল ওই মেসে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ছাত্ররা তাদের হাতেনাতে আটকে রেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেয়।

অভিযুক্তদের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি:

আটক হওয়া দর্জি বাবু খান জানান, তার স্ত্রীসহ ২ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের সাথে জড়িত। ফরিদপুরের একটি এইডস ও যৌনবাহিত রোগ (STD) নিয়ে কাজ করা এনজিওতে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে এই সমকামী চক্রের ছেলেদের সাথে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অপরদিকে রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র জিহাদ জানান, ফেসবুকে হাসান রাজের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল। গত এক বছর ধরে তিনি এসবের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও হাসান রাজের সাথে আজই তার প্রথম সরাসরি দেখা করার কথা ছিল।

পুলিশের বক্তব্য:

খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাবু খান, জিহাদ হোসেন ও কৃষ্ণ মন্ডলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে ‘সমকামিতার’ অভিযোগে আটক ৩ যুবক সম্পর্কে যা জানা গেল

আপডেট সময় : ১০:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ফরিদপুর শহরের একটি ছাত্রাবাসে সমকামিতার অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে শহরের কমলাপুর মহল্লার চানমারী এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়।

জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে ওই ছাত্রাবাস থেকে মোট ৫ যুবককে সমকামিতার অভিযোগে হাতেনাতে আটক করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী। পরে তাদের মধ্যে ৩ জনকে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও, মূল অভিযুক্ত অপর দুই ছাত্রকে পুলিশ আসার আগেই মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় তাদের পরিবার।

আটককৃতরা হলেন—সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জিহাদ হোসেন (২৮), শহরের নিউমার্কেট এলাকার দর্জি বাবু খান (৩৮) এবং গোয়ালচামট শ্রী অঙ্গনের বাসিন্দা কৃষ্ণ মন্ডল (৩০)। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের হাতে প্রথমে রাজ ও আরিয়ান নামের মূল অভিযুক্ত দুই ছাত্র আটক হলেও পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

যেভাবে প্রকাশ্যে এলো ঘটনা:

মেসের বোর্ডার ফাহিম বিশ্বাস ও নাহিদ জানান, প্রায় ১০ দিন আগে রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হাসান রাজ চানমারী এলাকার এই মেসে সিট নেন। মেসে ওঠার পর থেকেই তার চলাফেরা ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। একপর্যায়ে হাসান রাজ মেসেরই অন্য এক ছাত্রকে সমকামিতার কুপ্রস্তাব দিলে বিষয়টি সবার সামনে আসে।

গত শুক্রবার রাতে হাসান রাজকে জেরা করা হলে সে সমকামিতার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে তার এবং পাশের আরেকটি মেসের বাসিন্দা আরিয়ানের মোবাইল চেক করে ফেসবুকে ফেক আইডি দিয়ে পরিচালিত একাধিক ‘গে গ্রুপের’ (সমকামী অনলাইন গ্রুপ) সন্ধান পান মেসের অন্য ছাত্ররা।

এরপর মেসের ছাত্ররা কৌশলে হাসান ও আরিয়ানকে দিয়ে ওই ফেসবুক গ্রুপের অন্য ৩ সদস্যকে মেসে আসার আমন্ত্রণ জানান। শনিবার দুপুরে জিহাদ, বাবু ও কৃষ্ণ মন্ডল ওই মেসে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ছাত্ররা তাদের হাতেনাতে আটকে রেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেয়।

অভিযুক্তদের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি:

আটক হওয়া দর্জি বাবু খান জানান, তার স্ত্রীসহ ২ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের সাথে জড়িত। ফরিদপুরের একটি এইডস ও যৌনবাহিত রোগ (STD) নিয়ে কাজ করা এনজিওতে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে এই সমকামী চক্রের ছেলেদের সাথে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অপরদিকে রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র জিহাদ জানান, ফেসবুকে হাসান রাজের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল। গত এক বছর ধরে তিনি এসবের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও হাসান রাজের সাথে আজই তার প্রথম সরাসরি দেখা করার কথা ছিল।

পুলিশের বক্তব্য:

খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাবু খান, জিহাদ হোসেন ও কৃষ্ণ মন্ডলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।