ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল

বিদেশি কূটনীতিকদের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে মডেল মেঘনা আলম ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 353

মডেল মেঘনা আলমের সঙ্গে আরও দুজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এদেরও ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করার পরিকল্পনা ছিল মেঘনা এবং তার সহযোগীদের। যদিও মেঘনা আদালতে দাবি করেছেন, তার একমাত্র সম্পর্ক ছিল সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। তবে মেঘনার সহযোগী দেওয়ান সামিরকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব নতুন তথ্য মিলেছে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মেঘনা ও তার সহযোগীরা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিলেন। এই বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য মেঘনা আলমকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে রিমান্ডে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মামলা, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ

১৫ এপ্রিল ধানমন্ডি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবদুল আলীম মডেল মেঘনা আলম, দেওয়ান সামির এবং আরও দুই-তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, এই চক্র এক কূটনীতিকের কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) দাবি করে। যদিও এজাহারে কূটনীতিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ব্ল্যাকমেইল পরিকল্পনা ও চক্রের তৎপরতা

পুলিশ জানিয়েছে, দেওয়ান সামিরসহ পুরো চক্রকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তারা মেঘনাকে ব্যবহার করে আরও দুজন কূটনীতিককে ফাঁসানোর ছক কষেছিল। এমনকি এই চক্রের সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা বা চক্র জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মেঘনার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব

অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন কনটেন্ট অনুযায়ী, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় মেঘনাকে দিয়ে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানির বাজার ধ্বংস করা।

একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে মেঘনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাকে ব্যবহার করে মেঘনা বিদেশে আদম পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভারত সফর ও হাই কমিশনের সাথে সুসম্পর্ক

মেঘনা আলম ভারতের বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে ভিআইপি মর্যাদায় অংশগ্রহণ করতেন এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল। তিনি একাধিকবার ভারত সফর করেছেন বলেও জানা গেছে। অন্য এক ভিডিওতে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে মেঘনার ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে সংযোগ স্থাপন করেছিলেন।

দেওয়ান সামিরের স্বীকারোক্তিতে পুলিশের অগ্রগতি

রিমান্ডে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে দেওয়ান সামির পুরো চক্রের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বসুন্ধরা এলাকায় বসবাস করলেও মেঘনা ও সামির ধানমন্ডির এক রেস্টুরেন্টে সৌদি কূটনীতিককে ব্ল্যাকমেইল করার পরিকল্পনা করে।

চক্রটি শুরুতে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ভয় দেখিয়ে ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করে। রাষ্ট্রদূত প্রথমে ২.১ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হলেও চক্রটি পুরো অর্থ দাবি করে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে সামিরের দেওয়া তথ্য যাচাই করে এর সত্যতা পেয়েছে। তবে চক্রের আরও সদস্যদের পরিচয় প্রকাশে উৎস গোপন রেখেছে।

‘র’ এর দীর্ঘমেয়াদী তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তৎপরতা নতুন কিছু নয়। ১৯৭১ সালের পূর্বে থেকেই এই সংস্থাটি বাংলাদেশে ইতিহাস বিকৃতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসিনার শাসনামলে ‘র’ বেশ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পায়। সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি মন্ত্রীদেরও ‘র’ তাদের কাজে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসিনার পতনের পর ‘র’ আরও সক্রিয় হয় এবং মেঘনার মতো ব্যক্তিদের ব্যবহার করে বিদেশি কূটনীতিকদের হানিট্র্যাপে ফেলার চেষ্টা চালায়।

তদন্ত সূত্র বলছে, শুধু মেঘনা বা সামির নয়, এই ধরনের অপারেশনে আরও কিছু ভিআইপি জড়িত থাকতে পারেন। ভারতের উদ্দেশ্য যে কোনো উপায়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং নতুন সরকারকে অস্থির করে তোলা।

তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল

বিদেশি কূটনীতিকদের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে মডেল মেঘনা আলম ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

মডেল মেঘনা আলমের সঙ্গে আরও দুজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এদেরও ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করার পরিকল্পনা ছিল মেঘনা এবং তার সহযোগীদের। যদিও মেঘনা আদালতে দাবি করেছেন, তার একমাত্র সম্পর্ক ছিল সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। তবে মেঘনার সহযোগী দেওয়ান সামিরকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব নতুন তথ্য মিলেছে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মেঘনা ও তার সহযোগীরা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিলেন। এই বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য মেঘনা আলমকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে রিমান্ডে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মামলা, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ

১৫ এপ্রিল ধানমন্ডি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবদুল আলীম মডেল মেঘনা আলম, দেওয়ান সামির এবং আরও দুই-তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, এই চক্র এক কূটনীতিকের কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) দাবি করে। যদিও এজাহারে কূটনীতিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ব্ল্যাকমেইল পরিকল্পনা ও চক্রের তৎপরতা

পুলিশ জানিয়েছে, দেওয়ান সামিরসহ পুরো চক্রকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তারা মেঘনাকে ব্যবহার করে আরও দুজন কূটনীতিককে ফাঁসানোর ছক কষেছিল। এমনকি এই চক্রের সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা বা চক্র জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মেঘনার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব

অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন কনটেন্ট অনুযায়ী, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রত্যক্ষ সহায়তায় মেঘনাকে দিয়ে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানির বাজার ধ্বংস করা।

একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে মেঘনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাকে ব্যবহার করে মেঘনা বিদেশে আদম পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভারত সফর ও হাই কমিশনের সাথে সুসম্পর্ক

মেঘনা আলম ভারতের বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে ভিআইপি মর্যাদায় অংশগ্রহণ করতেন এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল। তিনি একাধিকবার ভারত সফর করেছেন বলেও জানা গেছে। অন্য এক ভিডিওতে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে মেঘনার ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে সংযোগ স্থাপন করেছিলেন।

দেওয়ান সামিরের স্বীকারোক্তিতে পুলিশের অগ্রগতি

রিমান্ডে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে দেওয়ান সামির পুরো চক্রের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বসুন্ধরা এলাকায় বসবাস করলেও মেঘনা ও সামির ধানমন্ডির এক রেস্টুরেন্টে সৌদি কূটনীতিককে ব্ল্যাকমেইল করার পরিকল্পনা করে।

চক্রটি শুরুতে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ভয় দেখিয়ে ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করে। রাষ্ট্রদূত প্রথমে ২.১ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হলেও চক্রটি পুরো অর্থ দাবি করে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে সামিরের দেওয়া তথ্য যাচাই করে এর সত্যতা পেয়েছে। তবে চক্রের আরও সদস্যদের পরিচয় প্রকাশে উৎস গোপন রেখেছে।

‘র’ এর দীর্ঘমেয়াদী তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তৎপরতা নতুন কিছু নয়। ১৯৭১ সালের পূর্বে থেকেই এই সংস্থাটি বাংলাদেশে ইতিহাস বিকৃতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসিনার শাসনামলে ‘র’ বেশ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পায়। সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি মন্ত্রীদেরও ‘র’ তাদের কাজে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসিনার পতনের পর ‘র’ আরও সক্রিয় হয় এবং মেঘনার মতো ব্যক্তিদের ব্যবহার করে বিদেশি কূটনীতিকদের হানিট্র্যাপে ফেলার চেষ্টা চালায়।

তদন্ত সূত্র বলছে, শুধু মেঘনা বা সামির নয়, এই ধরনের অপারেশনে আরও কিছু ভিআইপি জড়িত থাকতে পারেন। ভারতের উদ্দেশ্য যে কোনো উপায়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং নতুন সরকারকে অস্থির করে তোলা।