ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের নামে পাঠাগার, এখন নেশাখোরদের দখলে
- আপডেট সময় : ০১:১৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 141
ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের স্মরণে সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নির্মিত পাঠাগারটি এখন অভিভাবকহীন। বই ও পাঠকশূন্য পাঠাগারটি বর্তমানে নেশাখোরদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও জানেন না এখানে কোনো পাঠাগার রয়েছে কি না। একইসঙ্গে পাঠাগারটির দেড় হাজারের বেশি বইসহ সব আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশ বলছে, তারা কিছুই জানে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনার দুর্গম শৈলজানা চরে অবস্থিত উমারপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি চারচালা পুরনো টিনের ঘর। বাইরে পাঠাগারের কোন সাইনবোর্ড নেই। ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, চৌকিতে শুয়ে একজন বিড়ি টানছেন। মেঝেতে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বিড়ির খোশা ও খালি বোতল। ময়লা ও উৎকট গন্ধে ভরে আছে ঘরটি।
স্থানীয়রা জানান, ২০১০ সালের দিকে বেসরকারি এনজিওর অর্থায়নে একটি শহীদ মিনার ও পাঠাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে যমুনার ভাঙনে সেগুলো বিলীন হয়ে যায়। এরপর কয়েকবার পাঠাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে যে ঘরটি তৈরি করা হয়েছে, সেটিও পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হতে চলেছে। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা এই পাঠাগার সম্পর্কে কিছুই জানে না।
বই ও আসবাবপত্র আত্মসাতের অভিযোগ
শৈলজানা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, পাঠাগারটি প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় আব্দুল হাকিম মেম্বার দেড় হাজার বই, বই রাখার আসবাব, চেয়ার-টেবিল তার বাড়িতে নিয়ে গেছেন। পরে সেগুলো আর ফেরত দেননি। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে হাকিম মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ভাষা সৈনিক মতিনের নাতি গোলাম মোহাম্মদ অভি জানান, পাঠাগারের বই ও আসবাবপত্র আত্মসাতের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পাঠাগারটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের কর্ম ও চিন্তা নিয়ে গবেষণা করা গবেষক হান্নান মোর্শেদ রতন বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাঠাগারটি নেশাখোরদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। চৌহালী থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, পাঠাগার সম্পর্কে কেউ কখনও অভিযোগ করেনি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জুয়েল মিয়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের স্মৃতি ও ভাষা আন্দোলনের চেতনা সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে।





















