সাবেক এমপির ফেসবুক লাইভ: ফরিদপুরের মহাসড়ক অচল
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 538
সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় টানা ১১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুটি মহাসড়ক ও ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে রাখেন তারা, যার ফলে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
টানা ১১ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ
ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙ্গা গোলচত্বর, ঢাকা-বরিশাল এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক গাছের গুঁড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে বন্ধ করে দেন। এতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রীসহ আটকে পড়া হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে।
এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে লাগেজ ও শিশুসহ ১৫ কিলোমিটার হেঁটে পথ পাড়ি দিতে দেখা যায়। একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষকে ভোগান্তি দিয়ে আন্দোলনের কোনো মানে হয় না।”
আন্দোলনে সাবেক এমপির সমর্থন
বিক্ষোভ চলাকালীন সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী অজ্ঞাত স্থান থেকে ফেসবুক লাইভে এসে আন্দোলনকারীদের সমর্থন দেন। তিনি বলেন, “আপনারা আন্দোলনে নেমেছেন—অবৈধ সরকার ও নির্বাচন কমিশনারকে উচিত জবাব দেবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দুই ইউনিয়ন ফেরত না দেবে এই অবৈধ সরকার, ততক্ষণ রোডঘাট যে যেখানে আছেন বন্ধ করে দেন।”
দাবি আদায়ে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
অবরোধ শেষে আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে। তারা বুধবার রেলপথ অবরোধ এবং উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় ঘেরাওয়ের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য এসকেন্দার হোসেন বলেন, “আমাদের নগরকান্দা দেওয়া হলে জারজ সন্তান হিসেবে গণ্য হব। আমরা রোহিঙ্গা হয়ে থাকতে চাই না।” জেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্যা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের দাবি আদায় না হলে আগামীকাল শুধু সড়ক নয়, রেলপথও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভাঙ্গার সব অফিস, আদালত, স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার কোনো যোগাযোগ করতে দেব না। এটা আমাদের মা ও মাটির দাবি।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও অবস্থান
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা জানান, আন্দোলনকারীদের দেওয়া স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এটা একটা জাতীয় সমস্যা। স্থানীয় সমস্যা হলে আমাদের পক্ষে সমাধান করা সহজ হতো, কিন্তু জাতীয় সমস্যার সমাধান জাতীয়ভাবেই খুঁজে বের করতে হবে।”




















