অপহরণের নাটক ও চাঁদার ফাঁদ, গ্রেপ্তার মা-মেয়ে
- আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
- / 321
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অভিনব কায়দায় প্রতারণার অভিযোগে এক মা ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা প্রথমে টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে। পরে অপহরণের নাটক সাজিয়ে দাবি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। টাকা না দিলে ভয় দেখিয়ে দেওয়া হয় ধর্ষণচেষ্টা বা অপহরণের মামলা। শেষ পর্যন্ত অনেকে হয়রানি এড়াতে টাকা দিয়ে মুক্তি পান।
গ্রেপ্তার মা ও মেয়ে
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বিথী হাওয়া ওরফে বিবি হাওয়া এবং তাঁর মেয়ে সুরভী সুলতানা। সোমবার (৭ এপ্রিল) রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিউমার্কেট থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘড়ির দোকানিকে ফাঁসানোর চেষ্টা
নিউমার্কেট থানার ওসি মোহসিন উদ্দিন জানান, মিনিতা প্লাজা শপিং সেন্টারের একটি ঘড়ির দোকানের মালিক সৈকত আলীকে টার্গেট করে প্রতারণার পরিকল্পনা করেন মা-মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ধরনের প্রতারণার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা আগে থেকেই ছিল। তাদের বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি প্রতারণার মামলা রয়েছে।
কৌশলে সম্পর্ক গড়ে তোলা
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘড়ি কিনতে এসে বিথী হাওয়া পরিচিত হন সৈকতের স্ত্রীর সঙ্গে। পরে ফোনে যোগাযোগ বাড়ে। ২০ মার্চ বিথী দোকানে এসে তাঁর মেয়েকে বিক্রয়কর্মী হিসেবে চাকরি দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরদিন সুরভী দোকানে কাজে যোগ দেন। কিন্তু তাঁর আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় সৈকত তাকে আর না আসতে বলেন। এরপরও সুরভী ২২ মার্চ দোকানে যান এবং কিছুক্ষণ পর অসুস্থতার ভান করেন। বিকেলে তাকে বাসে তুলে দেন সৈকত।
অপহরণের নাটক শুরু
রাত ৮টার দিকে বিথী ফোন করে জানায়, সুরভী বাসায় ফেরেনি এবং তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর জানানো হয়, তাকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবি করা হয়, যেহেতু মেয়েটি সৈকতের দোকান থেকে অপহৃত হয়েছে, তাই মুক্তিপণের দায় তারই।
পরদিন সুরভী ফোন করে জানায়, সে কৌশলে অপহরণকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছে। এরপর আরও একবার বিথীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ভয় দেখিয়ে চাঁদা চাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশের তৎপরতায় ফাঁস হলো প্রতারণা
সৈকতের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে, তদন্তে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর হুমকি দিয়ে সৈকতের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা করার হুমকি দেন মা-মেয়ে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করে। তদন্তে জানা যায়, অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি, পুরো ঘটনাই ছিল একটি সাজানো ফাঁদ।



















