ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরবে? সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 239

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা (কেয়ারটেকার সরকার) পুনঃপ্রবর্তনের চূড়ান্ত আপিল শুনানি আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) পঞ্চম দিনের মতো শুরু হয়েছে। দেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে চলমান এই আইনি দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও বিচারিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চে শুনানি চলছে। এই শুনানির মূল উদ্দেশ্য হলো, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বৈধতা পুনর্বিবেচনা করা।

শুনানির প্রেক্ষাপট ও যুক্তিতর্ক

আগের চার দিন (২১, ২২, ২৩ ও ২৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আজ পঞ্চম দিনের শুনানিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে যুক্ত হয়েছেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

আগের শুনানি: গতকাল পর্যন্ত সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আইনজীবীরা তাঁদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। এছাড়াও, আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ:

সময় আইনি পদক্ষেপ ফলাফল
১৯৯৬ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৯৮ অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ ৩ জন হাইকোর্টে রিট করেন। সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
২০০৪ হাইকোর্ট রায় দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে রিট বাতিল করা হয়। সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
২০০৫ সুপ্রিম কোর্টে আপিল। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে আসে।
২০১১ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় দেন। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেওয়া হয়।
২০১১ (জুলাই) পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাশ ও গেজেট প্রকাশ। সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনী আনে।
রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনকারীরা

২০১১ সালে আপিল বিভাগের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর সরকার পরিবর্তনের (৫ আগস্ট) পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল এই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন করেন:

সুজন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে: সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি (তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভুঁইয়া ও জাহরা রহমান)।

রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (১৬ অক্টোবর) এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা: নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও গত বছর এই আবেদন করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরবে? সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা (কেয়ারটেকার সরকার) পুনঃপ্রবর্তনের চূড়ান্ত আপিল শুনানি আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) পঞ্চম দিনের মতো শুরু হয়েছে। দেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে চলমান এই আইনি দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও বিচারিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চে শুনানি চলছে। এই শুনানির মূল উদ্দেশ্য হলো, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অনুযায়ী প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বৈধতা পুনর্বিবেচনা করা।

শুনানির প্রেক্ষাপট ও যুক্তিতর্ক

আগের চার দিন (২১, ২২, ২৩ ও ২৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আজ পঞ্চম দিনের শুনানিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে যুক্ত হয়েছেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

আগের শুনানি: গতকাল পর্যন্ত সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আইনজীবীরা তাঁদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। এছাড়াও, আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ:

সময় আইনি পদক্ষেপ ফলাফল
১৯৯৬ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৯৮ অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ ৩ জন হাইকোর্টে রিট করেন। সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
২০০৪ হাইকোর্ট রায় দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে রিট বাতিল করা হয়। সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
২০০৫ সুপ্রিম কোর্টে আপিল। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে আসে।
২০১১ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় দেন। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেওয়া হয়।
২০১১ (জুলাই) পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাশ ও গেজেট প্রকাশ। সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনী আনে।
রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনকারীরা

২০১১ সালে আপিল বিভাগের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর সরকার পরিবর্তনের (৫ আগস্ট) পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল এই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন করেন:

সুজন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে: সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি (তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভুঁইয়া ও জাহরা রহমান)।

রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (১৬ অক্টোবর) এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা: নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও গত বছর এই আবেদন করেন।