ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ হলো বিনিয়োগ সম্মেলন

নতুন বাংলাদেশের ধারণা পেল বিদেশিরা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫
  • / 158

চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০৩৫ সালের নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এতে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যায়। আয়োজক বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানায়, এই সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি পাইপলাইন তৈরি হয়েছে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ

বিডার ‘হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট’ নাহিয়ান রহমান জানান, সম্মেলনে প্রায় সাড়ে ৪০০ বিদেশি বিনিয়োগকারী অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দেশে ফিরে গেছেন। স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।

চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ উদ্যোগ

নাহিয়ান রহমান জানান, চীনের পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হান্ডার সঙ্গে ১৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশি কোম্পানি শপআপ পেয়েছে ১১ কোটি ডলার। এছাড়া মার্কিন কোম্পানি স্টারলিঙ্ক বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক ইন্টারনেট চালু করেছে। চীনের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ

নাসা, ইনডিটেক্স, জিওডারনো, ডিপি ওয়ার্ল্ড, লাফার্জ হোলসিমসহ অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ছাড়া শ্রম উন্নয়নে আইএলও-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নীতির ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ

বিনিয়োগকারীরা নীতির ধারাবাহিকতা, সম্পদের সহজলভ্যতা এবং প্রশাসনিক জটিলতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং এনবিআরের গ্রীণ চ্যানেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ

নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি এই সম্মেলনে অংশ নেয়। বিডার চেয়ারম্যান জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিশ্রুতি

সম্মেলন শেষে জামায়াতে ইসলামী পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, তাদের দলের ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তিখাতে কাজ করতে প্রস্তুত। মোবারক হোসাইন বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য মাইলফলক। তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ শীর্ষ ২০ অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে।

এনসিপির লক্ষ্য ‘ইনভেস্টমেন্ট হেভেন’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশকে শীর্ষ ১৫টি বিনিয়োগবান্ধব দেশের মধ্যে নিয়ে যাবেন। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং জানান, বেকারত্ব হ্রাসে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

শেষ হলো বিনিয়োগ সম্মেলন

নতুন বাংলাদেশের ধারণা পেল বিদেশিরা

আপডেট সময় : ১২:৪০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০৩৫ সালের নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এতে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যায়। আয়োজক বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানায়, এই সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি পাইপলাইন তৈরি হয়েছে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ

বিডার ‘হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট’ নাহিয়ান রহমান জানান, সম্মেলনে প্রায় সাড়ে ৪০০ বিদেশি বিনিয়োগকারী অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দেশে ফিরে গেছেন। স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ বাস্তবায়নে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।

চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ উদ্যোগ

নাহিয়ান রহমান জানান, চীনের পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হান্ডার সঙ্গে ১৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশি কোম্পানি শপআপ পেয়েছে ১১ কোটি ডলার। এছাড়া মার্কিন কোম্পানি স্টারলিঙ্ক বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক ইন্টারনেট চালু করেছে। চীনের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ

নাসা, ইনডিটেক্স, জিওডারনো, ডিপি ওয়ার্ল্ড, লাফার্জ হোলসিমসহ অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ছাড়া শ্রম উন্নয়নে আইএলও-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নীতির ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ

বিনিয়োগকারীরা নীতির ধারাবাহিকতা, সম্পদের সহজলভ্যতা এবং প্রশাসনিক জটিলতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং এনবিআরের গ্রীণ চ্যানেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ

নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি এই সম্মেলনে অংশ নেয়। বিডার চেয়ারম্যান জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিশ্রুতি

সম্মেলন শেষে জামায়াতে ইসলামী পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, তাদের দলের ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তিখাতে কাজ করতে প্রস্তুত। মোবারক হোসাইন বলেন, ড. ইউনূসের বক্তব্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য মাইলফলক। তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ শীর্ষ ২০ অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে।

এনসিপির লক্ষ্য ‘ইনভেস্টমেন্ট হেভেন’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশকে শীর্ষ ১৫টি বিনিয়োগবান্ধব দেশের মধ্যে নিয়ে যাবেন। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং জানান, বেকারত্ব হ্রাসে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।