ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো: ড. ইউনূস

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 145

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বলেন, “আমাদের দায়িত্ব সম্পূর্ণ হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো কার্যকর করা হলে আমরা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।”

সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ:

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বর্তমান পরিস্থিতি:

লিখিত বক্তব্যে ড. ইউনূস ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরে, বিশেষ করে তরুণ সমাজ তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবনতি হয়েছে এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধে প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে ১১৮ জন শিশু ছিল। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ নতুন করে জন্ম নিয়েছে।

সংস্কার পরিকল্পনা:

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা জনগণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

নেতৃত্ব গ্রহণের কারণ:

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য ছাত্রনেতারা আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। জনগণের স্বার্থে আমি এই দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।”

বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ:

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিমসটেক অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটি আমার প্রথম সরাসরি আলোচনা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের এবং আমার প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তা জানানোর জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিমসটেক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।”

বিমসটেক সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ:

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকক পৌঁছান। সম্মেলনে বাংলাদেশ বিমসটেকের পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো: ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ১২:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বলেন, “আমাদের দায়িত্ব সম্পূর্ণ হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো কার্যকর করা হলে আমরা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।”

সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ:

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বর্তমান পরিস্থিতি:

লিখিত বক্তব্যে ড. ইউনূস ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরে, বিশেষ করে তরুণ সমাজ তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবনতি হয়েছে এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধে প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে ১১৮ জন শিশু ছিল। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ নতুন করে জন্ম নিয়েছে।

সংস্কার পরিকল্পনা:

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা জনগণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

নেতৃত্ব গ্রহণের কারণ:

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য ছাত্রনেতারা আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। জনগণের স্বার্থে আমি এই দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।”

বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ:

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিমসটেক অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটি আমার প্রথম সরাসরি আলোচনা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের এবং আমার প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তা জানানোর জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিমসটেক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।”

বিমসটেক সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ:

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকক পৌঁছান। সম্মেলনে বাংলাদেশ বিমসটেকের পরবর্তী সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে।