ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে অর্ধকোটি টাকার জমি দখলে প্রভাবশালীদের দাপট, আইনের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 440

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। জমির প্রকৃত মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে আদালতের রায় হাতে পেয়েও জমি বুঝে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জমির ইতিহাস ও মালিকানা বিবরণ

জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের সহস্রাইল বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ১৩৯ নং সহস্রাইল মৌজার ১৫২ নং এসএ খতিয়ানের ২৩৮১ নং দাগভুক্ত ৬৬ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন মৃত মীর খোরসেদ আলী ও মৃত মীর হাশেম আলী। উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের সন্তানরা জমির মালিকানা লাভ করেন।
১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মৃত খোরসেদ আলীর দুই পুত্র কাশেম আলী ও মোশারেফ আলী এবং মৃত মীর হাশেম আলীর কাছ থেকে পৃথকভাবে মোট ১৮ শতাংশ জমি কিনে নেন রোকেয়া বেগম, সহস্রাইল গ্রামের বাসিন্দা বারিক শেখের স্ত্রী। পরে বিএস রেকর্ডে রোকেয়া বেগমের নামে মালিকানা অন্তর্ভুক্ত হয়। রাস্তার উন্নয়ন কাজে ২ শতাংশ জমি সরকারি কাজে চলে যাওয়ায় বর্তমানে ১৬ শতাংশ জমি তার উত্তরাধিকারদের দখলে রয়েছে।

জমি দখলের অভিযোগ

ভুক্তভোগী ওয়ারিশরা জানান, ২০০১ সাল থেকে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতা রাস্তার পাশে ফাঁকা জমি পেয়ে টিনের ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করে নেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আজিজার মোল্যা, শেখর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য (মৃত) সোহরাব শেখ, যুবলীগ নেতা ইমরুল চৌধুরী, মিহির বিশ্বাস, মৃত লাল মিয়া মণ্ডল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অরুন মিয়া এবং আব্দুল জলিল মোল্যা।
তারা দাবি করছেন, কোমেলা বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে জমি কিনেছেন। তবে বাস্তবে কোমেলা বেগম তার জমি অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন এবং দখল করা জমির সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

আদালতের রায় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

২০০৫ সালে জমির প্রকৃত মালিকরা আদালতে মামলা করে রায় পান এবং জমির মালিকানা তাদের পক্ষে স্বীকৃত হয়। তারপরও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধায় জমির দখল বুঝে পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। ভুক্তভোগীরা বলেন,
“আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের জমি ফিরে পেতে চাই। আদালতের রায় আমাদের পক্ষে, কিন্তু প্রভাবশালীরা দখল ছাড়ছে না। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই।”

অভিযুক্তদের বক্তব্য

মিহির বিশ্বাস বলেন,
“আমরা কোমেলার ৩ শতাংশ জমি কিনেছিলাম। ২০০১ সালে ফাঁকা জায়গা পেয়ে দোকান ঘর তুলেছি।”

সাবেক চেয়ারম্যান আজিজার মোল্যা বলেন,
“আমার নামে জমি নেই। তবে ফাঁকা জায়গা কাওসার নামে পজিশন বিক্রি করেছি।”

যুবলীগ নেতা ইমরুল চৌধুরী জানান,
“প্রকৃতপক্ষে জমি আমরা দখল করিনি। তাদের জমি ঘিরে দখলে রেখেছিলাম। পরে খাদ ভরাট করে নিজেদের দখলে নিই। এখন মামলা চলছে, আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।”

প্রশাসনের অবস্থান

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম রাব্বানী সোহেল বলেন,
“শেখর ইউনিয়নের তহশিলদার জমি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। জমি নিয়ে কোর্টে মামলা চলমান। আদালতের রায়ে যাকে জমির মালিক ঘোষণা করা হবে, তাকেই জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”

ট্যাগস :

ফরিদপুরে অর্ধকোটি টাকার জমি দখলে প্রভাবশালীদের দাপট, আইনের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি

আপডেট সময় : ১১:০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। জমির প্রকৃত মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে আদালতের রায় হাতে পেয়েও জমি বুঝে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জমির ইতিহাস ও মালিকানা বিবরণ

জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের সহস্রাইল বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ১৩৯ নং সহস্রাইল মৌজার ১৫২ নং এসএ খতিয়ানের ২৩৮১ নং দাগভুক্ত ৬৬ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন মৃত মীর খোরসেদ আলী ও মৃত মীর হাশেম আলী। উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের সন্তানরা জমির মালিকানা লাভ করেন।
১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মৃত খোরসেদ আলীর দুই পুত্র কাশেম আলী ও মোশারেফ আলী এবং মৃত মীর হাশেম আলীর কাছ থেকে পৃথকভাবে মোট ১৮ শতাংশ জমি কিনে নেন রোকেয়া বেগম, সহস্রাইল গ্রামের বাসিন্দা বারিক শেখের স্ত্রী। পরে বিএস রেকর্ডে রোকেয়া বেগমের নামে মালিকানা অন্তর্ভুক্ত হয়। রাস্তার উন্নয়ন কাজে ২ শতাংশ জমি সরকারি কাজে চলে যাওয়ায় বর্তমানে ১৬ শতাংশ জমি তার উত্তরাধিকারদের দখলে রয়েছে।

জমি দখলের অভিযোগ

ভুক্তভোগী ওয়ারিশরা জানান, ২০০১ সাল থেকে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতা রাস্তার পাশে ফাঁকা জমি পেয়ে টিনের ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করে নেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আজিজার মোল্যা, শেখর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য (মৃত) সোহরাব শেখ, যুবলীগ নেতা ইমরুল চৌধুরী, মিহির বিশ্বাস, মৃত লাল মিয়া মণ্ডল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অরুন মিয়া এবং আব্দুল জলিল মোল্যা।
তারা দাবি করছেন, কোমেলা বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে জমি কিনেছেন। তবে বাস্তবে কোমেলা বেগম তার জমি অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন এবং দখল করা জমির সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

আদালতের রায় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

২০০৫ সালে জমির প্রকৃত মালিকরা আদালতে মামলা করে রায় পান এবং জমির মালিকানা তাদের পক্ষে স্বীকৃত হয়। তারপরও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধায় জমির দখল বুঝে পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। ভুক্তভোগীরা বলেন,
“আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের জমি ফিরে পেতে চাই। আদালতের রায় আমাদের পক্ষে, কিন্তু প্রভাবশালীরা দখল ছাড়ছে না। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই।”

অভিযুক্তদের বক্তব্য

মিহির বিশ্বাস বলেন,
“আমরা কোমেলার ৩ শতাংশ জমি কিনেছিলাম। ২০০১ সালে ফাঁকা জায়গা পেয়ে দোকান ঘর তুলেছি।”

সাবেক চেয়ারম্যান আজিজার মোল্যা বলেন,
“আমার নামে জমি নেই। তবে ফাঁকা জায়গা কাওসার নামে পজিশন বিক্রি করেছি।”

যুবলীগ নেতা ইমরুল চৌধুরী জানান,
“প্রকৃতপক্ষে জমি আমরা দখল করিনি। তাদের জমি ঘিরে দখলে রেখেছিলাম। পরে খাদ ভরাট করে নিজেদের দখলে নিই। এখন মামলা চলছে, আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।”

প্রশাসনের অবস্থান

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম রাব্বানী সোহেল বলেন,
“শেখর ইউনিয়নের তহশিলদার জমি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। জমি নিয়ে কোর্টে মামলা চলমান। আদালতের রায়ে যাকে জমির মালিক ঘোষণা করা হবে, তাকেই জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”