ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে করিম ট্রেডিংয়ের নিম্ন মানের কয়লায় ইটভাটা মালিকের ক্ষতি ২ কোটি টাকা

ফরিদপুর অফিস:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৪
  • / 156

ফরিদপুরে করিম ট্রেডিংয়ের নিম্ন মানের কয়লায় ইটভাটা মালিকের ক্ষতি ২ কোটি টাকা

ফরিদপুরে করিম গ্রুপের করিম ট্রেডিং থেকে সরবরাহকৃত নিম্ন মানের ও বালু মিশ্রিত কয়লায় ইটভাটা মালিকের প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেএসবি ইট ভাটার মালিক শেখ মোঃ শহিদুল ইসলাম। তবে অভিযোগ অস্বিকার করে করিম ট্রেডিং কর্মকর্তারা বলেছেন ইটভাটা মালিকের নিজস্ব কারিগরি সমস্যায় তাদের ইটের মান খারাপ হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ধলারমোড় এলাকায় অবস্থিত জেএসবি ব্রীকস লিঃ এর ইটভাটা। সেখানে ইট ভাটার ইট পোড়ানোর কিলিন বা সাঝেঁর মধ্যে সারি ধরে এখনও রাখা রয়েছে কয়েক লক্ষ ইট। সেই ইটগুলো ঠিকমত আগুনের তাপ না পাওয়ার কারনে ইটগুলো আর নির্মাণ কাজ বা অন্য কোন কাজে ব্যবহারের উপযোগী হয় নি।

এদিকে করিম ট্রেডিং কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হলে, করিম ট্রেডিংয়ের পক্ষ থেকে লোক গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু ইট ভাটার মালিককে কোন প্রকার সহায়তার আশ্বাস না দিয়ে চলে আসেন।

জেএসবি ইট ভাটার মালিক শেখ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর করিম ট্রেডিং থেকে প্রায় ৭শত টন কয়লা কিনে আমার ইটভাটায় ৮ রাউন্ড ইট পোড়ানো হয়। প্রথম দিকে তাদের কয়লার মান ভালো ছিলো এবং আমার ইটের মানও ভাল হয়। শেষের দিকে আড়াইশো টন বালি মিশ্রিত কয়লা সরবরাহ করায় আমার আড়াই রাউন্ড ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হই।

তিনি বলেন, এক রাউন্ড ইটে প্রায় ৯ লক্ষ ইট পোড়ানো হয়। আড়াই রাউন্ড ইটের মধ্যে প্রায় ১৫ লক্ষ ইট আমার নষ্ট হয়েছে। তাদের কাছে ক্ষতি পূরনের জন্য বললে, কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে আমাকে কোন প্রকার সহযোগীতা করেন নি। আমি এখন ব্যাংক লোন সহ আর্থিক ভাবে সংকটে পড়ে গেছি। করিম ট্রেডিংয়ের নিম্ন মানের কয়লায় আমার আগামীতে ব্যবসায় করার অবস্থা ধরে রাখতে পারছি না। অনেক ব্যবসায়ীই তাদের এরকম কাজের জন্য ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ছে।

নিম্ন মানের কয়লা সরবরাহর বিষয়ে করিম ট্রেঢিংয়ের ম্যানেজার ইলিয়াস আহমেদ বলেন, আমাদের কয়লার কোন প্রকার সমস্যা নেই। করিম ট্রেডিং ফরিদপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। করিম ট্রেডিং ফরিদপুরের প্রায় ৫০ টি ইটভাটায় কয়লা সরবরাহ করে। কোন ইটভাটা মালিকের  এমন কোন অভিযোগ নেই। জেএসবি ইট ভাটা মালিকের কাছে আমরা অনেক টাকা পাবো। সেটা নিয়ে গরিমশি করার জন্যও এমন বানোয়াট অভিযোগ দিতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা জেএসবি ইট ভাটা পরিদর্শন করেছি। আমরা সেখানে কয়লার কোন সমস্যা দেখতে পাইনি। সেখানে তাদের নিজস্ব কারিগরী সমস্যার কারনে ইটের মান খারাপ হয়েছে। তাদের ইট পোড়ানোর কারিগরদের অদক্ষতায় কারনে তাদের ইটের মান খারাপ হয়েছে। তাদের কারিগর ইট পোড়ানোর সময় সাঁচের মধ্যে কয়লার মাধ্যমে যে আগুন তৈরি করে সে সময় তাপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থায় কখনও তাপ বাড়াতে হয় কখনও তাপ কমাতে হয়। তারা সে কাজটি ঠিকমত করতে পারেনি। তাদের ক্ষতিটা তাদের নিজেদের অদক্ষতার ক্ষতি।

ট্যাগস :

ফরিদপুরে করিম ট্রেডিংয়ের নিম্ন মানের কয়লায় ইটভাটা মালিকের ক্ষতি ২ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৬:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৪

ফরিদপুরে করিম গ্রুপের করিম ট্রেডিং থেকে সরবরাহকৃত নিম্ন মানের ও বালু মিশ্রিত কয়লায় ইটভাটা মালিকের প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জেএসবি ইট ভাটার মালিক শেখ মোঃ শহিদুল ইসলাম। তবে অভিযোগ অস্বিকার করে করিম ট্রেডিং কর্মকর্তারা বলেছেন ইটভাটা মালিকের নিজস্ব কারিগরি সমস্যায় তাদের ইটের মান খারাপ হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুর সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ধলারমোড় এলাকায় অবস্থিত জেএসবি ব্রীকস লিঃ এর ইটভাটা। সেখানে ইট ভাটার ইট পোড়ানোর কিলিন বা সাঝেঁর মধ্যে সারি ধরে এখনও রাখা রয়েছে কয়েক লক্ষ ইট। সেই ইটগুলো ঠিকমত আগুনের তাপ না পাওয়ার কারনে ইটগুলো আর নির্মাণ কাজ বা অন্য কোন কাজে ব্যবহারের উপযোগী হয় নি।

এদিকে করিম ট্রেডিং কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হলে, করিম ট্রেডিংয়ের পক্ষ থেকে লোক গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু ইট ভাটার মালিককে কোন প্রকার সহায়তার আশ্বাস না দিয়ে চলে আসেন।

জেএসবি ইট ভাটার মালিক শেখ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর করিম ট্রেডিং থেকে প্রায় ৭শত টন কয়লা কিনে আমার ইটভাটায় ৮ রাউন্ড ইট পোড়ানো হয়। প্রথম দিকে তাদের কয়লার মান ভালো ছিলো এবং আমার ইটের মানও ভাল হয়। শেষের দিকে আড়াইশো টন বালি মিশ্রিত কয়লা সরবরাহ করায় আমার আড়াই রাউন্ড ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হই।

তিনি বলেন, এক রাউন্ড ইটে প্রায় ৯ লক্ষ ইট পোড়ানো হয়। আড়াই রাউন্ড ইটের মধ্যে প্রায় ১৫ লক্ষ ইট আমার নষ্ট হয়েছে। তাদের কাছে ক্ষতি পূরনের জন্য বললে, কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে আমাকে কোন প্রকার সহযোগীতা করেন নি। আমি এখন ব্যাংক লোন সহ আর্থিক ভাবে সংকটে পড়ে গেছি। করিম ট্রেডিংয়ের নিম্ন মানের কয়লায় আমার আগামীতে ব্যবসায় করার অবস্থা ধরে রাখতে পারছি না। অনেক ব্যবসায়ীই তাদের এরকম কাজের জন্য ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ছে।

নিম্ন মানের কয়লা সরবরাহর বিষয়ে করিম ট্রেঢিংয়ের ম্যানেজার ইলিয়াস আহমেদ বলেন, আমাদের কয়লার কোন প্রকার সমস্যা নেই। করিম ট্রেডিং ফরিদপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। করিম ট্রেডিং ফরিদপুরের প্রায় ৫০ টি ইটভাটায় কয়লা সরবরাহ করে। কোন ইটভাটা মালিকের  এমন কোন অভিযোগ নেই। জেএসবি ইট ভাটা মালিকের কাছে আমরা অনেক টাকা পাবো। সেটা নিয়ে গরিমশি করার জন্যও এমন বানোয়াট অভিযোগ দিতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা জেএসবি ইট ভাটা পরিদর্শন করেছি। আমরা সেখানে কয়লার কোন সমস্যা দেখতে পাইনি। সেখানে তাদের নিজস্ব কারিগরী সমস্যার কারনে ইটের মান খারাপ হয়েছে। তাদের ইট পোড়ানোর কারিগরদের অদক্ষতায় কারনে তাদের ইটের মান খারাপ হয়েছে। তাদের কারিগর ইট পোড়ানোর সময় সাঁচের মধ্যে কয়লার মাধ্যমে যে আগুন তৈরি করে সে সময় তাপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থায় কখনও তাপ বাড়াতে হয় কখনও তাপ কমাতে হয়। তারা সে কাজটি ঠিকমত করতে পারেনি। তাদের ক্ষতিটা তাদের নিজেদের অদক্ষতার ক্ষতি।