ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কৃষান হাটের অফিসে লুটপাট, হাটের পরিচালক বাবুকে মারধোর

রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪
  • / 232

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট বেতুয়াবাড়ি এলাকার মিজান চৌধুরী হাউজিং এস্টেটের পাশে কৃষান হাটের অফিসে লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় হাটের পরিচালক মোঃ বাবু শেখকে মারধোর করে। মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তারা।

ফরিদপুরে প্রায় ৪০ বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে কৃষাণ হাটা। এখানে উত্তর বঙ্গের প্রায় ১০ টি জেলাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসে তাদের শ্রম বিক্রি করতে। এই কৃষানেরা এ হাট থেকে ফরিদপুর জেলা সহ আশে পাশের বিভিন্ন জেলায় কৃষানী কাজের জন্য বিক্রয় হয়ে যায়। আর যারা কাজ পান না তারা এ হাটেই অবস্থান নেন। কৃষি কাজের মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কৃষান এখানে কেনাবেচা হয় কাজের জন্য।

এই হাটের কৃষানীদের নানা ভাবে হয়রানী, লাঞ্চিত ও চাঁদাবাজীসহ হয়রানী করে থাকে স্থানীয় কিছু বখাটে ও দুর্বৃত্তরা। এই বখাটেদের অনেকবারই কৃষানীদের হয়রানি করতে নিষেধ করেন কৃষান হাটের দায়িত্বে থাকা মোঃ বাবু শেখ। এই বখাটেদের প্রতিবাদ করাই কাল হলো বাবু শেখের।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দুর্বৃত্ত বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হানা দেয় কৃষান হাটে ও বাবু শেখের অফিসে। এসময় তাকে বেধরক মারপিট করে দুর্বৃত্তরা। তান্ডব চালিয়ে ভাংচুর করে বাবু শেখের অফিস। করা হয় লুটপাট। দুর্বৃত্তরা অফিস ও বাবু শেখের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, মোবাইল সহ প্রায় ১ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মোঃ বাবু শেখ ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় দুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতদের ১০/১২জন আসামী করে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

মোঃ বাবু শেখ বলেন, স্থানীয় গোয়ালচামট ১ নং সড়ক নিবাসী রানা চক্রবর্তীর ছেলে রাহুল এবং শোভারামপুর কবিরের মোড় এলাকার আহাদুলসহ কতিপয় দুর্বৃত্ত ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কৃষান হাটের কৃষকদের উপর নানা ভাবে হয়রানি ও চাঁদা দাবি করে আসতো। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে একাধিকবার তাদের এ অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করি। গত কয়েকদিন আগেও তারা হাটের পিছনে কৃষানরা গোছল করতে গেলে কয়েককৃষককে লাঞ্চিত করে। আমি তখনই গিয়ে তাদের প্রতিবাদ করি। এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সেসময় আমার সাথে খুবই বেপরোয়া আচরন করে।

তিনি বলেন, গতকাল রাত ৯ টার দিকে তারা মুখে মাক্স পরে দেশীয় অস্ত্র চাপাটি, চাইনিজ কুরাল, রড, পাইপ ইত্যাদি নিয়ে ১০-১৫ জনের বাহিনী আমার অফিসে এসে হামলা চালায়। রাত হওয়ায় অফিসে আমি ও আমার স্টাফ মামুন ও তাহের উপস্থিত ছিলো। দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে আমাদের জিম্মি করে ফেলে অফিস কক্ষে। এসময় তারা আমাকে রড ও পাইপ দিয়ে বেধরক মারপিট করে ও অফিসে থাকা নহদ ৬০ হাজার টাকা তারা লুট করে নিয়ে যায়। আর মামুনের মোবাইল ফোনটিও তারা নিয়ে চলে যায়। চলে যাওয়ার সময় রাহুল ও আহাদুলের মুখের মাক্স খুলে যাওয়ায় আমি তাদের চিনতে পারি।

মোঃ মামুন মিয়া বলেন, ঘটনার সময় আমি পাশেই ছিলাম। অফিস রুমে চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে তারা আমাকেও মারপিট করে, মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা চলে গেলে বাবু শেখকে উদ্বার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। বাবু শেখের হাতে, মাথায়, পিঠে নিলা ফোলা জখম আছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হাসানউজ্জামান বলেন, গোয়ালচামট এলাকায় কৃষান হাটের ঘটনার বিষয়ে একটি সাধারন ডায়েরি হয়েছে। গত রাতেই আসামীদের ধরতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে আমরা কাজ করছি।

ফরিদপুরে কৃষান হাটের অফিসে লুটপাট, হাটের পরিচালক বাবুকে মারধোর

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট বেতুয়াবাড়ি এলাকার মিজান চৌধুরী হাউজিং এস্টেটের পাশে কৃষান হাটের অফিসে লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় হাটের পরিচালক মোঃ বাবু শেখকে মারধোর করে। মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তারা।

ফরিদপুরে প্রায় ৪০ বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে কৃষাণ হাটা। এখানে উত্তর বঙ্গের প্রায় ১০ টি জেলাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ আসে তাদের শ্রম বিক্রি করতে। এই কৃষানেরা এ হাট থেকে ফরিদপুর জেলা সহ আশে পাশের বিভিন্ন জেলায় কৃষানী কাজের জন্য বিক্রয় হয়ে যায়। আর যারা কাজ পান না তারা এ হাটেই অবস্থান নেন। কৃষি কাজের মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কৃষান এখানে কেনাবেচা হয় কাজের জন্য।

এই হাটের কৃষানীদের নানা ভাবে হয়রানী, লাঞ্চিত ও চাঁদাবাজীসহ হয়রানী করে থাকে স্থানীয় কিছু বখাটে ও দুর্বৃত্তরা। এই বখাটেদের অনেকবারই কৃষানীদের হয়রানি করতে নিষেধ করেন কৃষান হাটের দায়িত্বে থাকা মোঃ বাবু শেখ। এই বখাটেদের প্রতিবাদ করাই কাল হলো বাবু শেখের।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দুর্বৃত্ত বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হানা দেয় কৃষান হাটে ও বাবু শেখের অফিসে। এসময় তাকে বেধরক মারপিট করে দুর্বৃত্তরা। তান্ডব চালিয়ে ভাংচুর করে বাবু শেখের অফিস। করা হয় লুটপাট। দুর্বৃত্তরা অফিস ও বাবু শেখের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, মোবাইল সহ প্রায় ১ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মোঃ বাবু শেখ ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় দুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতদের ১০/১২জন আসামী করে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

মোঃ বাবু শেখ বলেন, স্থানীয় গোয়ালচামট ১ নং সড়ক নিবাসী রানা চক্রবর্তীর ছেলে রাহুল এবং শোভারামপুর কবিরের মোড় এলাকার আহাদুলসহ কতিপয় দুর্বৃত্ত ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কৃষান হাটের কৃষকদের উপর নানা ভাবে হয়রানি ও চাঁদা দাবি করে আসতো। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে একাধিকবার তাদের এ অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করি। গত কয়েকদিন আগেও তারা হাটের পিছনে কৃষানরা গোছল করতে গেলে কয়েককৃষককে লাঞ্চিত করে। আমি তখনই গিয়ে তাদের প্রতিবাদ করি। এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সেসময় আমার সাথে খুবই বেপরোয়া আচরন করে।

তিনি বলেন, গতকাল রাত ৯ টার দিকে তারা মুখে মাক্স পরে দেশীয় অস্ত্র চাপাটি, চাইনিজ কুরাল, রড, পাইপ ইত্যাদি নিয়ে ১০-১৫ জনের বাহিনী আমার অফিসে এসে হামলা চালায়। রাত হওয়ায় অফিসে আমি ও আমার স্টাফ মামুন ও তাহের উপস্থিত ছিলো। দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে আমাদের জিম্মি করে ফেলে অফিস কক্ষে। এসময় তারা আমাকে রড ও পাইপ দিয়ে বেধরক মারপিট করে ও অফিসে থাকা নহদ ৬০ হাজার টাকা তারা লুট করে নিয়ে যায়। আর মামুনের মোবাইল ফোনটিও তারা নিয়ে চলে যায়। চলে যাওয়ার সময় রাহুল ও আহাদুলের মুখের মাক্স খুলে যাওয়ায় আমি তাদের চিনতে পারি।

মোঃ মামুন মিয়া বলেন, ঘটনার সময় আমি পাশেই ছিলাম। অফিস রুমে চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে তারা আমাকেও মারপিট করে, মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা চলে গেলে বাবু শেখকে উদ্বার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। বাবু শেখের হাতে, মাথায়, পিঠে নিলা ফোলা জখম আছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হাসানউজ্জামান বলেন, গোয়ালচামট এলাকায় কৃষান হাটের ঘটনার বিষয়ে একটি সাধারন ডায়েরি হয়েছে। গত রাতেই আসামীদের ধরতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে আমরা কাজ করছি।