ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করে অন্তঃসত্ত্বা মায়ের আত্মহত্যা

মিজানুর রহমান ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 575

ফরিদপুরের সদরপুরে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করার পর এক অন্তঃসত্ত্বা মা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। এই নৃশংস ঘটনাটি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

যেভাবে ঘটলো মর্মান্তিক ঘটনা
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই গ্রামের মোতালেব মুন্সির ছেলে রমজান মুন্সির বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা একটি ঘরে পাঁচ বছর বয়সী শিশু হুজাইফার গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ কম্বল প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। আরেক ঘরে পাওয়া যায় তার মা, অন্তঃসত্ত্বা সুমাইয়া আক্তারকে (২২) ঝুলন্ত অবস্থায়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়ার আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সিজারিয়ান ডেলিভারির তারিখ নির্ধারিত ছিল।

ঝগড়ার অভিযোগ, তবে কারণ অজানা
নিহত সুমাইয়ার স্বামী রমজান মুন্সি বর্তমানে ফরিদপুরে রয়েছেন, যিনি পূর্বে সিঙ্গাপুরে প্রবাসে ছিলেন এবং আবার বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নিহত সুমাইয়ার শ্বশুর মোতালেব মুন্সি জানান, ছেলে-বউয়ের মধ্যে কোনো কলহ ছিল না এবং তাদের সম্পর্কও ভালো ছিল। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এই নির্মম ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো অজানা।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য
ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদীপ রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ এই ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ফরিদপুরে সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করে অন্তঃসত্ত্বা মায়ের আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ১০:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুরে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে গলাকেটে হত্যা করার পর এক অন্তঃসত্ত্বা মা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। এই নৃশংস ঘটনাটি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

যেভাবে ঘটলো মর্মান্তিক ঘটনা
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই গ্রামের মোতালেব মুন্সির ছেলে রমজান মুন্সির বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা একটি ঘরে পাঁচ বছর বয়সী শিশু হুজাইফার গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ কম্বল প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। আরেক ঘরে পাওয়া যায় তার মা, অন্তঃসত্ত্বা সুমাইয়া আক্তারকে (২২) ঝুলন্ত অবস্থায়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়ার আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সিজারিয়ান ডেলিভারির তারিখ নির্ধারিত ছিল।

ঝগড়ার অভিযোগ, তবে কারণ অজানা
নিহত সুমাইয়ার স্বামী রমজান মুন্সি বর্তমানে ফরিদপুরে রয়েছেন, যিনি পূর্বে সিঙ্গাপুরে প্রবাসে ছিলেন এবং আবার বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নিহত সুমাইয়ার শ্বশুর মোতালেব মুন্সি জানান, ছেলে-বউয়ের মধ্যে কোনো কলহ ছিল না এবং তাদের সম্পর্কও ভালো ছিল। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এই নির্মম ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো অজানা।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য
ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদীপ রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা। পুলিশ এই ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।