ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে জমি লিখে না দেওয়ায় ছেলের মারধর, হাসপাতালে বাবা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
  • / 358

ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের চরজ্ঞানদিয়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছোট ছেলে সজিব বিশ্বাসের (২৮) হাতে নির্যাতিত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ষাটোর্ধ্ব বাবা নূর ইসলাম বিশ্বাস। তার অভিযোগ, বসতবাড়ির জমি লিখে না দেওয়ায় ছেলে ও ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্মমভাবে মারধর করেছে।

অসুস্থ শরীরেও অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানো নূর ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “কষ্ট করে অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে, জমিজমা বেচে, দেনা হয়ে ছেলেরে বিদেশে পাঠাইছি। এহন ও (ছেলে) আমারে চিনেই না। বউয়ের কথা শুনে ওর শ্বশুরবাড়ির মানুষ এনে আমারে মাইরছে।”

বিয়ে, সম্পত্তি ও নির্যাতনের চিত্র

নূর ইসলামের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় ছেলে পরিবার নিয়ে আলাদা থাকেন। অসুস্থ স্ত্রী রিজিয়া বেগমকে নিয়ে অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে চলে তার সংসার।

তিনি জানান, ২০১৬ সালে জমিজমা বিক্রি করে তিনি ছোট ছেলে সজিবকে সিঙ্গাপুর পাঠান। এর মধ্যে সজিব বাড়িতে এসে পরিবারের নিষেধ অমান্য করে একই গ্রামের এক তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করে। এরপর প্রবাসে গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। প্রায় ছয় বছর পর গত ২৯ মে দেশে ফিরে সে সরাসরি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেয়। দেশে এসেই সে বাড়িতে এসে বসতভিটার জমি লিখে দেওয়ার জন্য নূর ইসলামকে চাপ দিতে থাকে।

নূর ইসলাম বলেন, “আমার জমিই এইটুকু। আমি যদি এই জমি লিখে দেই, তাইলে আমারে কালকেই ঘাড় ধরে বাইর কইরা দিবে। আমি কোথায় যাব, আমারে তো পথে ফেলায় দিবে। জমি লেখা ছাড়াই তো বাড়ি থাকতে পারি না। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। পৃথিবীতে এ রকম যেন আর কারও সঙ্গে না হয়।”

নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে নূর ইসলাম জানান, ছেলের বউ এসে তাকে গালিগালাজ করে এবং জমি লিখে না দিলে গলাটিপে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর তারা ফোন করে লোকজনকে ডাকে। সেসব লোকজন নূর ইসলামের বুকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে এবং ঘাড়ে কিল-ঘুষি মারে। তার অভিযোগ, “আমার ছেলেই সবকিছু করাইছে।” তিনি আরও জানান, হাসপাতালে আসার পর তার গরুও ট্রাকে করে নিতে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা, তবে প্রতিবেশীরা তখন বাধা দেন।

পুলিশের ভূমিকা ও আইনগত পদক্ষেপ

এ বিষয়ে নূর ইসলাম ঘটনার দিন বিকেলে থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। তিনি এজাহারে ছেলে সজিব বিশ্বাস, সজিবের স্ত্রী তানজিলা, শ্যালক জিহাদ শেখ, শ্বশুর হালিম শেখ এবং স্থানীয় মানিক মণ্ডলসহ মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ করেছেন।

অভিযুক্ত সজিব বিশ্বাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও বন্ধ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. আসাদ উজ্জামান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যতটুকু জেনেছি, এটা পারিবারিক বিরোধ।”

ফরিদপুরে জমি লিখে না দেওয়ায় ছেলের মারধর, হাসপাতালে বাবা

আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের চরজ্ঞানদিয়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছোট ছেলে সজিব বিশ্বাসের (২৮) হাতে নির্যাতিত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ষাটোর্ধ্ব বাবা নূর ইসলাম বিশ্বাস। তার অভিযোগ, বসতবাড়ির জমি লিখে না দেওয়ায় ছেলে ও ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্মমভাবে মারধর করেছে।

অসুস্থ শরীরেও অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানো নূর ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “কষ্ট করে অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে, জমিজমা বেচে, দেনা হয়ে ছেলেরে বিদেশে পাঠাইছি। এহন ও (ছেলে) আমারে চিনেই না। বউয়ের কথা শুনে ওর শ্বশুরবাড়ির মানুষ এনে আমারে মাইরছে।”

বিয়ে, সম্পত্তি ও নির্যাতনের চিত্র

নূর ইসলামের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় ছেলে পরিবার নিয়ে আলাদা থাকেন। অসুস্থ স্ত্রী রিজিয়া বেগমকে নিয়ে অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে চলে তার সংসার।

তিনি জানান, ২০১৬ সালে জমিজমা বিক্রি করে তিনি ছোট ছেলে সজিবকে সিঙ্গাপুর পাঠান। এর মধ্যে সজিব বাড়িতে এসে পরিবারের নিষেধ অমান্য করে একই গ্রামের এক তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করে। এরপর প্রবাসে গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। প্রায় ছয় বছর পর গত ২৯ মে দেশে ফিরে সে সরাসরি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেয়। দেশে এসেই সে বাড়িতে এসে বসতভিটার জমি লিখে দেওয়ার জন্য নূর ইসলামকে চাপ দিতে থাকে।

নূর ইসলাম বলেন, “আমার জমিই এইটুকু। আমি যদি এই জমি লিখে দেই, তাইলে আমারে কালকেই ঘাড় ধরে বাইর কইরা দিবে। আমি কোথায় যাব, আমারে তো পথে ফেলায় দিবে। জমি লেখা ছাড়াই তো বাড়ি থাকতে পারি না। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। পৃথিবীতে এ রকম যেন আর কারও সঙ্গে না হয়।”

নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে নূর ইসলাম জানান, ছেলের বউ এসে তাকে গালিগালাজ করে এবং জমি লিখে না দিলে গলাটিপে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর তারা ফোন করে লোকজনকে ডাকে। সেসব লোকজন নূর ইসলামের বুকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে এবং ঘাড়ে কিল-ঘুষি মারে। তার অভিযোগ, “আমার ছেলেই সবকিছু করাইছে।” তিনি আরও জানান, হাসপাতালে আসার পর তার গরুও ট্রাকে করে নিতে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা, তবে প্রতিবেশীরা তখন বাধা দেন।

পুলিশের ভূমিকা ও আইনগত পদক্ষেপ

এ বিষয়ে নূর ইসলাম ঘটনার দিন বিকেলে থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। তিনি এজাহারে ছেলে সজিব বিশ্বাস, সজিবের স্ত্রী তানজিলা, শ্যালক জিহাদ শেখ, শ্বশুর হালিম শেখ এবং স্থানীয় মানিক মণ্ডলসহ মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ করেছেন।

অভিযুক্ত সজিব বিশ্বাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও বন্ধ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. আসাদ উজ্জামান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যতটুকু জেনেছি, এটা পারিবারিক বিরোধ।”