ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে রাতে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের পর নারীর মৃত্যু, সাবেক ইউপি মেম্বার পালাতক

মিজানুর রহমান সদরপুর, ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 866

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেমানা গ্রামে ধর্ষণের পর শেফালী বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মোমরেজ খালাসী ও তার দুই সহযোগী পলাতক রয়েছেন। নিহত শেফালী বেগম ছলেমানা গ্রামের বাসিন্দা এবং শফি খালাসীর স্ত্রী।

রাতের আড্ডা থেকে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয়রা জানান, খালাসী ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা মোমরেজ খালাসী ও তার দুই সহযোগী শেফালীর বাড়িতে এসে দোচালা টিনের ঘরে বসে আড্ডা দেয়। কিছুক্ষণ পর মোমরেজ শেফালীকে ডাক দিয়ে একাকী নিজের সঙ্গে অন্য ঘরে নিয়ে যায়। এরপর শেফালী অসুস্থ হয়ে পড়লে মোমরেজ তাকে কোলে করে চৌচালা টিনের ঘরে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।

নাতনির চোখে ঘটনার পরিণতি
নিহত শেফালীর নাতনি তাজবিন আক্তার (১৩) বলেন, “নানীর অবস্থা খারাপ দেখে আমি চিৎকার করি। এরপর স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে।” পরে পরিবারের সদস্যরা শেফালীকে দ্রুত বিশ্ব জাকের মঞ্জিল হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে রাত ৪টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সম্পর্কের অতীত ও পুলিশের ভাষ্য
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেফালীর স্বামীর তিনজন স্ত্রী ছিলেন, তিনি ছিলেন ছোট স্ত্রী। প্রতিবেশীরা জানান, মোমরেজ খালাসীর সঙ্গে শেফালীর দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সে কারণে মোমরেজ মাঝেমধ্যে শেফালীর বাড়িতে রাত যাপন করতেন।

ধারণা ও তদন্ত চলছে
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শেফালীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”

ট্যাগস :

ফরিদপুরে রাতে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের পর নারীর মৃত্যু, সাবেক ইউপি মেম্বার পালাতক

আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেমানা গ্রামে ধর্ষণের পর শেফালী বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মোমরেজ খালাসী ও তার দুই সহযোগী পলাতক রয়েছেন। নিহত শেফালী বেগম ছলেমানা গ্রামের বাসিন্দা এবং শফি খালাসীর স্ত্রী।

রাতের আড্ডা থেকে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয়রা জানান, খালাসী ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা মোমরেজ খালাসী ও তার দুই সহযোগী শেফালীর বাড়িতে এসে দোচালা টিনের ঘরে বসে আড্ডা দেয়। কিছুক্ষণ পর মোমরেজ শেফালীকে ডাক দিয়ে একাকী নিজের সঙ্গে অন্য ঘরে নিয়ে যায়। এরপর শেফালী অসুস্থ হয়ে পড়লে মোমরেজ তাকে কোলে করে চৌচালা টিনের ঘরে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।

নাতনির চোখে ঘটনার পরিণতি
নিহত শেফালীর নাতনি তাজবিন আক্তার (১৩) বলেন, “নানীর অবস্থা খারাপ দেখে আমি চিৎকার করি। এরপর স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে।” পরে পরিবারের সদস্যরা শেফালীকে দ্রুত বিশ্ব জাকের মঞ্জিল হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে রাত ৪টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সম্পর্কের অতীত ও পুলিশের ভাষ্য
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেফালীর স্বামীর তিনজন স্ত্রী ছিলেন, তিনি ছিলেন ছোট স্ত্রী। প্রতিবেশীরা জানান, মোমরেজ খালাসীর সঙ্গে শেফালীর দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সে কারণে মোমরেজ মাঝেমধ্যে শেফালীর বাড়িতে রাত যাপন করতেন।

ধারণা ও তদন্ত চলছে
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শেফালীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”