ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট চাওয়ায় শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 417

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে কেন্দ্র করে এক কওমী মাদরাসা শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার খবর পাওয়া গেছে। ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট চাওয়ায় ওই শিক্ষককে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে এলাকা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

📍 ঘটনার বিবরণ ও শিক্ষকের অভিযোগ

ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম হাফেজ মো. মুকতার হুসাইন (৫০)। তিনি সালথার ইউসুফদিয়া রহমানিয়া তালতলা মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সালথা উপজেলা খেলাফত মজলিস কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

হাফেজ মুকতার হুসাইন অভিযোগ করেন:

মঙ্গলবার সকালে ক্লাস চলাকালীন মাদরাসার মোহতামিমের ভাই কাইয়ুম মোল্যা তাকে ডেকে নিয়ে রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ার বিষয়ে জেরা করেন।

সত্য স্বীকার করলে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তার বকেয়া বেতন পরিশোধ করে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিদায় করে দেয়।

🗳️ ১১ দলীয় জোটের প্রতিবাদ

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সালথা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী আল্লামা আকরাম আলীর পক্ষে কাজ করায় আমাদের এক কর্মীকে হুমকি ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। সালথা ও নগরকান্দায় বর্তমানে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই।” তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

🚫 মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি

তবে শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার মোহতামিমের ভাই কাইয়ুম মোল্যা। তার দাবি:

“তাকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। তিনি ক্লাস চলাকালীন ছাত্রদের কাছে রিকশা মার্কায় ভোট চাইতেন এবং তাদের পরিবারকে চাপ দিতেন। এতে মাদরাসার শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। আমরা তাকে কেবল ভোট চাইতে নিষেধ করেছি, কিন্তু তিনি নিজেই ক্ষুব্ধ হয়ে মাদরাসা ত্যাগ করেছেন।”

🚔 প্রশাসনের বক্তব্য

সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা আবেদন জমা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালথার রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ফরিদপুরে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট চাওয়ায় শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে কেন্দ্র করে এক কওমী মাদরাসা শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার খবর পাওয়া গেছে। ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট চাওয়ায় ওই শিক্ষককে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে এলাকা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

📍 ঘটনার বিবরণ ও শিক্ষকের অভিযোগ

ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম হাফেজ মো. মুকতার হুসাইন (৫০)। তিনি সালথার ইউসুফদিয়া রহমানিয়া তালতলা মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সালথা উপজেলা খেলাফত মজলিস কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

হাফেজ মুকতার হুসাইন অভিযোগ করেন:

মঙ্গলবার সকালে ক্লাস চলাকালীন মাদরাসার মোহতামিমের ভাই কাইয়ুম মোল্যা তাকে ডেকে নিয়ে রিকশা মার্কায় ভোট চাওয়ার বিষয়ে জেরা করেন।

সত্য স্বীকার করলে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তার বকেয়া বেতন পরিশোধ করে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিদায় করে দেয়।

🗳️ ১১ দলীয় জোটের প্রতিবাদ

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সালথা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী আল্লামা আকরাম আলীর পক্ষে কাজ করায় আমাদের এক কর্মীকে হুমকি ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। সালথা ও নগরকান্দায় বর্তমানে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই।” তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

🚫 মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি

তবে শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার মোহতামিমের ভাই কাইয়ুম মোল্যা। তার দাবি:

“তাকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। তিনি ক্লাস চলাকালীন ছাত্রদের কাছে রিকশা মার্কায় ভোট চাইতেন এবং তাদের পরিবারকে চাপ দিতেন। এতে মাদরাসার শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। আমরা তাকে কেবল ভোট চাইতে নিষেধ করেছি, কিন্তু তিনি নিজেই ক্ষুব্ধ হয়ে মাদরাসা ত্যাগ করেছেন।”

🚔 প্রশাসনের বক্তব্য

সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা আবেদন জমা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালথার রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।