ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সয়াবিন তেলের সংকট: দাম বাড়ছে, না পাওয়া যাচ্ছে

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 149

ফরিদপুরে রমজানের আগেই সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে তেলের দাম নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, কোম্পানিগুলো উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে।

বিস্তারিত:

ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কানাইপুরের পাইকারী ব্যবসায়ী গৌতম কুন্ডু জানান, “প্রায় দুই মাস যাবত কোম্পানী থেকে সয়াবিন তেল পাচ্ছিনা।” বসুন্ধরা গ্রুপের ডিলার সুকুমার ভৌমিক বলেন, “একমাস আগে ডিপুতে সয়াবিন তেলের অর্ডার করেছি এখনো পাইনি। ডিপু থেকে তেল সরবরাহ করছেনা।” বসুন্ধরা গ্রুপের ফরিদপুর অঞ্চলের ডিপু ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, “আমাদের প্রডাক্টশন আপাতত বন্ধ থাকার কারনে বাজারে তেল সরবরাহ করতে পারছিনা। তবে রমজানের মধ্যে প্রডাক্টশন চালু হবে কিনা সে বিষয়ে তার জানানেই।”

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, “গত শনিবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এ সংক্রান্তে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান বর্তমান সয়াবিন তেল কোম্পানিগুলো অধিক মুনাফার আশায় তাদের প্রডাক্টশন বন্ধ করে রেখেছেন। সেজন্য বাজারে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে পাইকারী ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে সয়াবিন তেলের সাথে কম চাহিদার পন্য নিতে বাধ্য করছেন। মিডিয়াকর্মীসহ পুলিশের সহযসগিতা পেলে রমজানের আগেই বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবো।”

কানাইপুর বাজারের ব্যবসায়ী আনন্দ দেবনাথ জানিয়েছেন, “রোববার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা, মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, চিনি ১২০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল  ১৮০-১৯০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০  টাকা ও রসুন প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। আদা ১০০ টাকা। পাইকারিতে ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে  ৯৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০০ টাকা ও চিনি ১২০ টাকা। এবার আড়তে পর্যাপ্ত পণ্যের মজুত আছে। সংকটের কোনও সম্ভাবনা নেই। এখন আমদানি অব্যাহত আছে। তবে তেলের সংকট আছে। ভোজ্যতেল সরবরাহকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতো তেল দিচ্ছে না। এবার রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্য কম বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছর এই সময়ে পণ্য বিক্রির জন্য দম ফেলার সময় থাকতো না। এবার ক্রেতা কম। তাই বিক্রিও কম।”

ট্যাগস :

ফরিদপুরে সয়াবিন তেলের সংকট: দাম বাড়ছে, না পাওয়া যাচ্ছে

আপডেট সময় : ১০:২৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ফরিদপুরে রমজানের আগেই সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে তেলের দাম নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, কোম্পানিগুলো উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে।

বিস্তারিত:

ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কানাইপুরের পাইকারী ব্যবসায়ী গৌতম কুন্ডু জানান, “প্রায় দুই মাস যাবত কোম্পানী থেকে সয়াবিন তেল পাচ্ছিনা।” বসুন্ধরা গ্রুপের ডিলার সুকুমার ভৌমিক বলেন, “একমাস আগে ডিপুতে সয়াবিন তেলের অর্ডার করেছি এখনো পাইনি। ডিপু থেকে তেল সরবরাহ করছেনা।” বসুন্ধরা গ্রুপের ফরিদপুর অঞ্চলের ডিপু ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম জানান, “আমাদের প্রডাক্টশন আপাতত বন্ধ থাকার কারনে বাজারে তেল সরবরাহ করতে পারছিনা। তবে রমজানের মধ্যে প্রডাক্টশন চালু হবে কিনা সে বিষয়ে তার জানানেই।”

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, “গত শনিবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এ সংক্রান্তে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান বর্তমান সয়াবিন তেল কোম্পানিগুলো অধিক মুনাফার আশায় তাদের প্রডাক্টশন বন্ধ করে রেখেছেন। সেজন্য বাজারে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে পাইকারী ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে সয়াবিন তেলের সাথে কম চাহিদার পন্য নিতে বাধ্য করছেন। মিডিয়াকর্মীসহ পুলিশের সহযসগিতা পেলে রমজানের আগেই বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবো।”

কানাইপুর বাজারের ব্যবসায়ী আনন্দ দেবনাথ জানিয়েছেন, “রোববার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা, মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, চিনি ১২০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল  ১৮০-১৯০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০  টাকা ও রসুন প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। আদা ১০০ টাকা। পাইকারিতে ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে  ৯৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০০ টাকা ও চিনি ১২০ টাকা। এবার আড়তে পর্যাপ্ত পণ্যের মজুত আছে। সংকটের কোনও সম্ভাবনা নেই। এখন আমদানি অব্যাহত আছে। তবে তেলের সংকট আছে। ভোজ্যতেল সরবরাহকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতো তেল দিচ্ছে না। এবার রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্য কম বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছর এই সময়ে পণ্য বিক্রির জন্য দম ফেলার সময় থাকতো না। এবার ক্রেতা কম। তাই বিক্রিও কম।”