ফরিদপুরে স্কুলছাত্রকে জীবিত পুঁতে হত্যার হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:২০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৪
- / 190
ফরিদপুরে জিহাদ মাতুব্বর নামে এক স্কুলছাত্রকে রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে মারধরের পর কবর খুঁড়ে জ্যান্ত পুঁতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের আলীপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ওই স্কুলছাত্রের পরিবার।
জিহাদ জেলা সদরের বড় মাধবপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোস্তাক মাতুব্বরের ছেলে। সে কানাইপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
মোস্তাক মাতুব্বর বলেন, ‘গত শনিবার রাতে তার ১৩ বছরের ছেলে জিহাদ ওয়াজ শুনতে যাওয়ার সময় এলাকার বখাটে কয়েকজন কিশোর তাকে ধরে নিয়ে মারধরের পর কবর খুঁড়ে জ্যান্ত পুঁতে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তারা জিহাদকে জিম্মি করে আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে দিতে বলে।’
এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কিশোর জিহাদকে মারতে মারতে জামার কলার ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে একটি কবরস্থানে। সেখানে পৌঁছে আবারো তাকে মারতে মারতে এক কিশোরকে কোদাল দিয়ে গর্ত খুঁড়তে দেখা যায়। এ সময় জিহাদকে ওই যুবক বলে, ‘তোরে গলা কাটব না, জ্যান্তই পুঁইত্যা ফ্যালাব। কোহনে কোহনে ক? জায়গা পছন্দ কর।’ তখন তাদের একজনকে কবর খুঁড়তে খুঁড়তে হাহা করে হাসিতে ফেটে পড়তে দেখা যায়। এরপর কেউ একজন সেখানে এক কিশোরকে ফোন ধরিয়ে দেয়ার পরে তাদের মাঝে কথাবার্তা হয়। এর কিছুক্ষণ পর ওই কিশোর জিহাদকে ছেড়ে দিয়ে বলে, ‘বাইচ্যা গেলি আইজক্যার মতো। আর এসব কবি ক?’ তারপর তাকে সজোরে কিল-ঘুষি মারতে থাকে তারা।
জিহাদের মা মারিয়া আকতার বলেন, ‘রাতেই তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি আমরা। এখনো আতঙ্কে রয়েছে সে।’
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জিহাদ জানায়, কয়েক দিন আগে তার চাচাতো ভাইদের বাড়ির পেছনে নদীর পাড়ে জড়ো হয়ে শোরগোল করতে থাকা একদল বখাটের কাছে ‘ওখানে কারা’ বলে জানতে চেয়েছিল সে। এ অপরাধে ওই দিন সন্ধ্যায় প্রথমে তাকে একদফায় মারধর করা হয়। এরপর শনিবার রাতে বাবার কাছ থেকে হালিম খাওয়ার জন্য টাকা নিয়ে ওয়াজের মাঠে যাচ্ছিল সে। তখন ওই কিশোররা তাকে দোকান থেকে সিগারেট কিনে আনতে বলে আর তারপর তার সিগারেট কেনার ভিডিও করে। তখন তার বাবাকে সিগারেট কেনার ভিডিও দেখিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে নেয়।
এ ঘটনায় তার বাবা মোস্তাক মাতুব্বর রোববার রাতে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সিফাত (২৪), মাসুম (২৩), মারুফ (২০), আরাফাত (২০), সজল (২২), সাকিলসহ (১৯) আরো পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদউজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগটি পাওয়ার পর খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বিষয়টি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং রাতেই জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ একাধিক অভিযানও চালিয়েছে। শিরগিরই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’



















