ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজিনার স্বীকারোক্তি ‘মা তুলে বাজে গালি দেয়ায় খুন করেছি’

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪
  • / 354

গ্রেফতার হওয়া রোজিনা আক্তার

ফরিদপুর বাস টার্মিনাল থেকে লাগেজ বন্দী অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দৌলতদিয়ার পতিতাপল্লীর এক যৌনকর্মী নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই লাশটি পাবনা জেলার নতুন গোহাইল বাড়ি গ্রামের মিলন প্রামানিকের। তিনি রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যাতায়াতের সুবাদে রোজিনা আক্তার (৩০) নামে সেখানে একজন পতিতার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মিলনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে রোজিনা। রোজিনা বলেন,‘মা তুলে বাজে ভাষায় গালি দেয়ায় রাগের মাথায় আমি একাই তারে মারছি। তার কাছে টাকা পাইতাম। সেই টাকা ছাড়ানোর জন্য ঝগড়া হয়।’

গত শনিবার ২৭ জানুয়ারি সকালে ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনালে ফেলে যাওয়া একটি লাগেজ থেকে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ঘটনার পরে সিসি টিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় রোজিনা বেগমের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং ঢাকার কদমতলী জুরাইনের দেওয়ান বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা রুজুর পর কোতোয়ালি থানার এসআই শামীম হাসানের নেতৃত্বে ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার থেকে মাহেন্দ্র গাড়ি শনাক্ত করে ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়। তার দেয়া তথ্য মতে লাগেজ বহনকারী রিকশা চালককে আটক করার পর পাওয়া যায় রোজিনার সন্ধান। তবে দৌলতদিয়ার পতিতাপল্লীর জনৈক রুবেল মাতুব্বর -এর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় রোজিনার ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনাকে জুরাইনের দেওয়ান বাড়ীর ষষ্ঠ তলা হতে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন:সদরপুরে রাতের আধারে পদ্মা পাড়ের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

যেকারণে যেভাবে হত্যাকাণ্ড : রোজিনাকে গ্রেফতারের পর সে পুলিশকে জানায়, নিহত মিলন তার ঘরে যেতো মাঝেমধ্যেই। ঘটনার আগেরদিন মিলন তার ঘরে আসে। রাত ২টার দিকে তাদের মাঝে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে রোজিনার মা তুলে গালি দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে রোজিনা তার পরিহিত ওড়না গলায় পেঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে খাট হতে নামিয়ে লাশটি কম্বল, বড় বেডশীট ও বালিশের কাভার দিয়ে মুড়িয়ে তার ঘরে থাকা বড় একটি লাগেজের মধ্যে রাখে। পরে লাশ গুম করতে প্রথমে ৬০০ টাকা ভাড়ায় একটি রিকশায় করে মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে নেয়। সেখান থেকে ৬০০ টাকা ভাড়ায় মাহেন্দ্রতে উঠিয়ে দৌলতদিয়া থেকে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে আসে। সেখান ঢাকাগামী বিকাশ পরিবহনের একটি টিকেট কাটে এবং লাগেজটি গাড়ির মালামাল রাখার বাক্সে রেখে নাস্তা করার কথা বলে পালিয়ে যায়। তবে গাড়ি ছাড়ার নির্ধারিত মুহুর্তে মালিক না পেয়ে গাড়ির লোকেরা লাগেজটি বাস টার্মিনালে রেখে যায়।

 

যেভাবে পতিতাপল্লীতে রোজিনা
রোজিনার ভাষ্য অনুযায়ী সে প্রায় একযুগ গোয়ালন্দঘাটের দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে রয়েছে। ১৪ বছর বয়সে তার বাবামা তাকে বিয়ে দেয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর তাদের তালাক হয়ে যায়। তারপর দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর চা দোকানদার হাকিমের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। হাকিম মারা যাওয়ার পর সে সুজন নামে আরেকজনকে বিয়ে করে। এভাবেই দৌলতদিয়া পল্লীতে চলছিল তার জীবন। অন্যদিকে, পাবনার মিলন প্রামানিক ইট ভাটায় কাজের সুবাদে রাজবাড়ী খাকতো। মাঝে মাঝে যৌন পল্লীতে যেতো। সেখানে রোজিনার সাথে তার পরিচয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হাসানুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

রোজিনার স্বীকারোক্তি ‘মা তুলে বাজে গালি দেয়ায় খুন করেছি’

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪

ফরিদপুর বাস টার্মিনাল থেকে লাগেজ বন্দী অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দৌলতদিয়ার পতিতাপল্লীর এক যৌনকর্মী নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম।

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই লাশটি পাবনা জেলার নতুন গোহাইল বাড়ি গ্রামের মিলন প্রামানিকের। তিনি রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যাতায়াতের সুবাদে রোজিনা আক্তার (৩০) নামে সেখানে একজন পতিতার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মিলনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে রোজিনা। রোজিনা বলেন,‘মা তুলে বাজে ভাষায় গালি দেয়ায় রাগের মাথায় আমি একাই তারে মারছি। তার কাছে টাকা পাইতাম। সেই টাকা ছাড়ানোর জন্য ঝগড়া হয়।’

গত শনিবার ২৭ জানুয়ারি সকালে ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনালে ফেলে যাওয়া একটি লাগেজ থেকে অজ্ঞাতনামা পরিচয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ঘটনার পরে সিসি টিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় রোজিনা বেগমের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং ঢাকার কদমতলী জুরাইনের দেওয়ান বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা রুজুর পর কোতোয়ালি থানার এসআই শামীম হাসানের নেতৃত্বে ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার থেকে মাহেন্দ্র গাড়ি শনাক্ত করে ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়। তার দেয়া তথ্য মতে লাগেজ বহনকারী রিকশা চালককে আটক করার পর পাওয়া যায় রোজিনার সন্ধান। তবে দৌলতদিয়ার পতিতাপল্লীর জনৈক রুবেল মাতুব্বর -এর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় রোজিনার ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোজিনাকে জুরাইনের দেওয়ান বাড়ীর ষষ্ঠ তলা হতে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

আরও পড়ুন:সদরপুরে রাতের আধারে পদ্মা পাড়ের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

যেকারণে যেভাবে হত্যাকাণ্ড : রোজিনাকে গ্রেফতারের পর সে পুলিশকে জানায়, নিহত মিলন তার ঘরে যেতো মাঝেমধ্যেই। ঘটনার আগেরদিন মিলন তার ঘরে আসে। রাত ২টার দিকে তাদের মাঝে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে রোজিনার মা তুলে গালি দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে রোজিনা তার পরিহিত ওড়না গলায় পেঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে খাট হতে নামিয়ে লাশটি কম্বল, বড় বেডশীট ও বালিশের কাভার দিয়ে মুড়িয়ে তার ঘরে থাকা বড় একটি লাগেজের মধ্যে রাখে। পরে লাশ গুম করতে প্রথমে ৬০০ টাকা ভাড়ায় একটি রিকশায় করে মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে নেয়। সেখান থেকে ৬০০ টাকা ভাড়ায় মাহেন্দ্রতে উঠিয়ে দৌলতদিয়া থেকে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে আসে। সেখান ঢাকাগামী বিকাশ পরিবহনের একটি টিকেট কাটে এবং লাগেজটি গাড়ির মালামাল রাখার বাক্সে রেখে নাস্তা করার কথা বলে পালিয়ে যায়। তবে গাড়ি ছাড়ার নির্ধারিত মুহুর্তে মালিক না পেয়ে গাড়ির লোকেরা লাগেজটি বাস টার্মিনালে রেখে যায়।
আরও পড়ুন:ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনালে ফেলে যাওয়া লাগেজ থেকে লাশ উদ্ধার

 

যেভাবে পতিতাপল্লীতে রোজিনা
রোজিনার ভাষ্য অনুযায়ী সে প্রায় একযুগ গোয়ালন্দঘাটের দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীতে রয়েছে। ১৪ বছর বয়সে তার বাবামা তাকে বিয়ে দেয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর তাদের তালাক হয়ে যায়। তারপর দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর চা দোকানদার হাকিমের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। হাকিম মারা যাওয়ার পর সে সুজন নামে আরেকজনকে বিয়ে করে। এভাবেই দৌলতদিয়া পল্লীতে চলছিল তার জীবন। অন্যদিকে, পাবনার মিলন প্রামানিক ইট ভাটায় কাজের সুবাদে রাজবাড়ী খাকতো। মাঝে মাঝে যৌন পল্লীতে যেতো। সেখানে রোজিনার সাথে তার পরিচয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হাসানুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।