সরকারি টাকায় টেন্ডার বাণিজ্য! ফরিদপুরে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে ডিজির অদৃশ্য খেলা
- আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
- / 418
ফরিদপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দেশের একমাত্র নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে (নগই) এবার উঠেছে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক (ডিজি) আবু হোরায়রা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন।
ড্রোন কেনার টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ
গত ৪ ফেব্রুয়ারি ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে একটি বিদেশি ব্যান্ডের ড্রোন ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করে মহাপরিচালকের দপ্তর। দরপত্রের মূল্য ধরা হয় ১ হাজার টাকা এবং জামানত ৪৩ হাজার টাকা। ১৮ ফেব্রুয়ারি ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি দরপত্র খোলার দিন নির্ধারিত ছিল।
সর্বনিম্ন দরদাতা নয়, কাজ পেয়েছে ‘পছন্দের’ প্রতিষ্ঠান
অনলাইনে টেন্ডার উন্মুক্ত হওয়ার পর দেখা যায়, মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে— গ্যালাক্সি ওয়ার্ল্ড, ইউটেক সিস্টেম লিমিটেড, কিলেস্ট্রাইল টেক লি., হাইড্রল্যান্ড সলিউশন এবং মেসার্স আইকনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি। দরপত্র অনুযায়ী, গ্যালাক্সি ওয়ার্ল্ড সবচেয়ে কম ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় দরপ্রস্তাব দেয়, আর মেসার্স আইকনিক সবচেয়ে বেশি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯০ টাকা দাবি করে।
আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রতিষ্ঠানটি নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯০ টাকা বেশি খরচ করে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
গবেষণা ইনস্টিটিউটে সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, অনলাইনে উন্মুক্ত দরপত্র অনুযায়ী গ্যালাক্সি ওয়ার্ল্ড সর্বনিম্ন দর দিয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে বেশি দরের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা সব শর্ত পূরণ করলেও ডিজি পছন্দের ঠিকাদার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাকে কাজ পাইয়ে দেন।
টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগ জানতে চাইলে মহাপরিচালক আবু হোরায়রা প্রথমে ফোনে অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিস্তারিত জানতে চাইলে ফোন কেটে দেন। এর আগেও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ শ্রেণির ১০টি পদে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে ঘিরে আন্দোলনও গড়ে ওঠে। ২৫ মার্চ ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে ডিজি ও ডিডির অপসারণের দাবিতে ছাত্র ও জনতা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।



















