ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ৮ মাস বয়সী শিশুকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি: পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না শিশুটিকে

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫
  • / 306

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামপাশা গ্রামে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পারিবারিক কলহের কারণে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে মৌখিকভাবে তালাক দেন এবং পরে তাদের ৮ মাস বয়সী শিশুটিকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এ ঘটনার পর মা পপি বেগম তার শিশু মেয়েকে ফিরে পেতে থানায় ও আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশ ও পুলিশি পদক্ষেপ

পপি বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পুলিশকে শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেয়। তবে পুলিশ জানায়, তাদের দেওয়া ঠিকানায় শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ফরিদপুরের এক নম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পপি বেগম স্বামী কাইয়ুম বিশ্বাস (৪০), তার তিন বোন মিতা আক্তার, বুলি বেগম, সাগরী আক্তারসহ মোট ৫ জনকে আসামি করেছেন।

পপি বেগমের জীবনযাত্রা

পপি বেগম জানান, তিন বছর আগে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার হান্নান সরদারের মেয়ে পপি বেগমের সাথে পারিবারিকভাবে কাইয়ুম বিশ্বাসের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলতে থাকে এবং তাদের একটি মেয়েশিশুর জন্ম হয়। কিন্তু পাঁচ মাস আগে কলহের কারণে তাদের তালাক হয়ে যায়।

শিশু বিক্রির ঘটনা

তালাকের পর কাইয়ুম বিশ্বাস তার স্ত্রীর কাছ থেকে শিশু তানহাকে জোর করে নিয়ে যান এবং পরে ফরিদপুরের শাখরাইল গ্রামের কুবাদ শেখের মেয়ে কহিনুর বেগমের কাছে শিশুটিকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এই বিক্রির মধ্যস্থতা করেন নগরকান্দার দলিল লেখক আলমগীর তালুকদার।

পপি বেগমের কষ্ট

পপি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তানকে দেখার জন্য রাতে ঘুম আসে না, খাবার পারি না। আমার হৃদয় শুকিয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “যার কাছে বাচ্চা বিক্রি করা হয়েছে, তার মায়ের পা জড়িয়ে ধরেছি, তবুও তিনি আমাকে দেখতে দেননি।”

পলাতক অভিযুক্ত স্বামী

এখন পর্যন্ত স্বামী কাইয়ুম বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ সফর আলী জানিয়েছেন, “আদালত আমাদের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। তবে অভিযোগের ঠিকানায় শিশুটিকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে খুঁজে পেলে তা আদালতে পাঠানো হবে।”

ফরিদপুরে ৮ মাস বয়সী শিশুকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি: পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না শিশুটিকে

আপডেট সময় : ০৮:৫১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামপাশা গ্রামে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পারিবারিক কলহের কারণে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে মৌখিকভাবে তালাক দেন এবং পরে তাদের ৮ মাস বয়সী শিশুটিকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এ ঘটনার পর মা পপি বেগম তার শিশু মেয়েকে ফিরে পেতে থানায় ও আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশ ও পুলিশি পদক্ষেপ

পপি বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পুলিশকে শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেয়। তবে পুলিশ জানায়, তাদের দেওয়া ঠিকানায় শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় ফরিদপুরের এক নম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পপি বেগম স্বামী কাইয়ুম বিশ্বাস (৪০), তার তিন বোন মিতা আক্তার, বুলি বেগম, সাগরী আক্তারসহ মোট ৫ জনকে আসামি করেছেন।

পপি বেগমের জীবনযাত্রা

পপি বেগম জানান, তিন বছর আগে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার হান্নান সরদারের মেয়ে পপি বেগমের সাথে পারিবারিকভাবে কাইয়ুম বিশ্বাসের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলতে থাকে এবং তাদের একটি মেয়েশিশুর জন্ম হয়। কিন্তু পাঁচ মাস আগে কলহের কারণে তাদের তালাক হয়ে যায়।

শিশু বিক্রির ঘটনা

তালাকের পর কাইয়ুম বিশ্বাস তার স্ত্রীর কাছ থেকে শিশু তানহাকে জোর করে নিয়ে যান এবং পরে ফরিদপুরের শাখরাইল গ্রামের কুবাদ শেখের মেয়ে কহিনুর বেগমের কাছে শিশুটিকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এই বিক্রির মধ্যস্থতা করেন নগরকান্দার দলিল লেখক আলমগীর তালুকদার।

পপি বেগমের কষ্ট

পপি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তানকে দেখার জন্য রাতে ঘুম আসে না, খাবার পারি না। আমার হৃদয় শুকিয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “যার কাছে বাচ্চা বিক্রি করা হয়েছে, তার মায়ের পা জড়িয়ে ধরেছি, তবুও তিনি আমাকে দেখতে দেননি।”

পলাতক অভিযুক্ত স্বামী

এখন পর্যন্ত স্বামী কাইয়ুম বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ সফর আলী জানিয়েছেন, “আদালত আমাদের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। তবে অভিযোগের ঠিকানায় শিশুটিকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে খুঁজে পেলে তা আদালতে পাঠানো হবে।”