ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে শিশুকে পুকুরে ফেলে হত্যাচেষ্টা, লোহার রড হাতে সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত পাঁচজন

সুমি আক্তার সদরপুর, ফরিদপুর :
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • / 642

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের সরদার ডাঙ্গী গ্রামে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একটি শিশুকে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং নারীসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুকুরে ফেলে শিশু হত্যার চেষ্টা

ভুক্তভোগী বর্ণা আক্তার জানান, প্রতিবেশী খায়রুজ্জামান শেখ শহিদ, তার স্ত্রী বিউটি বেগম ও সহযোগী বিল্লালসহ কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ১ মে দুপুর ২টার দিকে তারা বর্ণার বাড়ির পাশের পুকুরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটছিল। এ সময় বর্ণার ৪ বছর বয়সী ছেলে বায়জিদ পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, খায়রুজ্জামানের নির্দেশে বিল্লাল শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।

শিশুটিকে আহত অবস্থায় তার বাবা শেখ সাত্তার দ্রুত উদ্ধার করেন।

বাকবিতণ্ডা থেকে ভয়াবহ হামলা

ঘটনার কারণ জানতে চাইলে বিবাদীদের সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে খায়রুজ্জামান ও তার দলবল লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে বর্ণার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলায় বর্ণার ভাগিনা রিয়াজুল খান মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং শেখ সাত্তারের একটি পা ভেঙে যায়। এছাড়াও বর্ণার শাশুড়ি আয়শা বেগম ও জা রিনা বেগমকেও মারধর করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় বিউটি বেগম রিনা বেগমের গলায় থাকা ১২ আনার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেখ সাত্তারকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ ঘটনায় তারা সদরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মামলার তথ্য ও অভিযুক্তদের অবস্থান

অভিযুক্ত খায়রুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাজমুল হাসান জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ট্যাগস :

ফরিদপুরে শিশুকে পুকুরে ফেলে হত্যাচেষ্টা, লোহার রড হাতে সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত পাঁচজন

আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের সরদার ডাঙ্গী গ্রামে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একটি শিশুকে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং নারীসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুকুরে ফেলে শিশু হত্যার চেষ্টা

ভুক্তভোগী বর্ণা আক্তার জানান, প্রতিবেশী খায়রুজ্জামান শেখ শহিদ, তার স্ত্রী বিউটি বেগম ও সহযোগী বিল্লালসহ কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ১ মে দুপুর ২টার দিকে তারা বর্ণার বাড়ির পাশের পুকুরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটছিল। এ সময় বর্ণার ৪ বছর বয়সী ছেলে বায়জিদ পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, খায়রুজ্জামানের নির্দেশে বিল্লাল শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।

শিশুটিকে আহত অবস্থায় তার বাবা শেখ সাত্তার দ্রুত উদ্ধার করেন।

বাকবিতণ্ডা থেকে ভয়াবহ হামলা

ঘটনার কারণ জানতে চাইলে বিবাদীদের সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে খায়রুজ্জামান ও তার দলবল লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে বর্ণার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলায় বর্ণার ভাগিনা রিয়াজুল খান মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং শেখ সাত্তারের একটি পা ভেঙে যায়। এছাড়াও বর্ণার শাশুড়ি আয়শা বেগম ও জা রিনা বেগমকেও মারধর করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় বিউটি বেগম রিনা বেগমের গলায় থাকা ১২ আনার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেখ সাত্তারকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ ঘটনায় তারা সদরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মামলার তথ্য ও অভিযুক্তদের অবস্থান

অভিযুক্ত খায়রুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাজমুল হাসান জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।