ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবজি, মুরগির দাম বৃদ্ধি: নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য নতুন সংকট

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫
  • / 264

সম্প্রতি নিত্যপণ্যের দাম ফের বেড়ে গেছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। সবজির দাম ধীরে ধীরে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, পাশাপাশি মুরগির দামেও এসেছে বড় ধরনের বৃদ্ধি।

সবজির দাম বাড়ছে

শুক্রবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে জানা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, শসা, কাঁচা মরিচ, পটোল—সব কিছুর দামই বেড়ে গেছে। আগের যে সবজি ৫০-৬০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমান দামে কিছু সবজির তালিকা:

  • করলা: ৭০-৮০ টাকা

  • বেগুন: ৮০-১০০ টাকা

  • বরবটি: ৮০ টাকা

  • চিচিঙ্গা: ৭০-৮০ টাকা

  • কচুর লতি: ৮০-৯০ টাকা

  • কাঁকরোল: ১০০-১৩০ টাকা

  • ঢেঁড়স: ৫০-৭০ টাকা

  • ঝিঙে: ৭০-৮০ টাকা

  • টমেটো: ৩০-৪০ টাকা

  • পেঁপে: ৭০ টাকা

  • গাজর: ৪০ টাকা

  • শসা: ৭০-৮০ টাকা

  • পটোল: ৭০-৮০ টাকা

  • সজনে ডাটা: ১২০-১৪০ টাকা

এছাড়াও, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহে ৩০-৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, একইভাবে আদা ও রসুনের দামেও বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে।

মুরগির দামও বেড়েছে

এছাড়াও মুরগির বাজারেও চাপ দেখা দিয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা, কক ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ফিডের দাম বৃদ্ধি, খামারে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিবহণ ব্যয় বাড়ার কারণে এই দাম বৃদ্ধি হয়েছে। তবে, কিছু ব্যবসায়ী মনে করছেন, মজুতদাররা সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে চলেছেন।

মাংসের দাম অপরিবর্তিত

গরু ও খাসির মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা কেজি।

মাছের বাজার স্থিতিশীল

মাছের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। রুই ৩৫০-৪২০ টাকা, কাতল ৩৮০-৪৫০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, কৈ ২০০-২৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২৩৫ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৫০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের অবস্থা ও মানুষের ক্ষোভ

বাজার করতে আসা অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। খিলক্ষেতে বাজার করতে আসা আমিরুল বলেন, “সবজির দাম শুনলেই ভয় লাগে। মুরগি কিনতে গেলেও একই অবস্থা। মনে হচ্ছে, এখন ডাল-ভাত খেয়েই দিন চলাতে হবে।” সাধারণ চাকুরীজীবী দিনেশ জানান, “মাসের শুরুতেই বাজারে গিয়ে পুরো বেতন ফুরিয়ে যায়। সরকার এখনই কিছু না করলে সামনে মানুষ আর বাজারে যেতে পারবে না।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারির অভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা প্রস্তাব দেন টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য সরবরাহ বাড়ানো, বাজার মনিটরিং জোরদার করা, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করা এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করার জন্য।

তাদের মতে, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।

সবজি, মুরগির দাম বৃদ্ধি: নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য নতুন সংকট

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

সম্প্রতি নিত্যপণ্যের দাম ফের বেড়ে গেছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। সবজির দাম ধীরে ধীরে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, পাশাপাশি মুরগির দামেও এসেছে বড় ধরনের বৃদ্ধি।

সবজির দাম বাড়ছে

শুক্রবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে জানা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, শসা, কাঁচা মরিচ, পটোল—সব কিছুর দামই বেড়ে গেছে। আগের যে সবজি ৫০-৬০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমান দামে কিছু সবজির তালিকা:

  • করলা: ৭০-৮০ টাকা

  • বেগুন: ৮০-১০০ টাকা

  • বরবটি: ৮০ টাকা

  • চিচিঙ্গা: ৭০-৮০ টাকা

  • কচুর লতি: ৮০-৯০ টাকা

  • কাঁকরোল: ১০০-১৩০ টাকা

  • ঢেঁড়স: ৫০-৭০ টাকা

  • ঝিঙে: ৭০-৮০ টাকা

  • টমেটো: ৩০-৪০ টাকা

  • পেঁপে: ৭০ টাকা

  • গাজর: ৪০ টাকা

  • শসা: ৭০-৮০ টাকা

  • পটোল: ৭০-৮০ টাকা

  • সজনে ডাটা: ১২০-১৪০ টাকা

এছাড়াও, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহে ৩০-৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, একইভাবে আদা ও রসুনের দামেও বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে।

মুরগির দামও বেড়েছে

এছাড়াও মুরগির বাজারেও চাপ দেখা দিয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগি ৩২০ টাকা, কক ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ফিডের দাম বৃদ্ধি, খামারে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিবহণ ব্যয় বাড়ার কারণে এই দাম বৃদ্ধি হয়েছে। তবে, কিছু ব্যবসায়ী মনে করছেন, মজুতদাররা সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে চলেছেন।

মাংসের দাম অপরিবর্তিত

গরু ও খাসির মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা কেজি।

মাছের বাজার স্থিতিশীল

মাছের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। রুই ৩৫০-৪২০ টাকা, কাতল ৩৮০-৪৫০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, কৈ ২০০-২৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২৩৫ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৫০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের অবস্থা ও মানুষের ক্ষোভ

বাজার করতে আসা অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। খিলক্ষেতে বাজার করতে আসা আমিরুল বলেন, “সবজির দাম শুনলেই ভয় লাগে। মুরগি কিনতে গেলেও একই অবস্থা। মনে হচ্ছে, এখন ডাল-ভাত খেয়েই দিন চলাতে হবে।” সাধারণ চাকুরীজীবী দিনেশ জানান, “মাসের শুরুতেই বাজারে গিয়ে পুরো বেতন ফুরিয়ে যায়। সরকার এখনই কিছু না করলে সামনে মানুষ আর বাজারে যেতে পারবে না।”

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারির অভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা প্রস্তাব দেন টিসিবির মাধ্যমে কম দামে পণ্য সরবরাহ বাড়ানো, বাজার মনিটরিং জোরদার করা, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করা এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করার জন্য।

তাদের মতে, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।