মরিয়ম বিবি ফরিদপুর শহরের আলীপুর মহল্লার মৃত রহিম উদ্দিনের স্ত্রী। তাকে বর্তমানে কোতয়ালি থানায় রাখা হয়েছে এবং সোমবার আদালতে হাজির করা হবে বলে জানায় পুলিশ।
কাজের সূত্রে বন্দিত্বের শুরু
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে মরিয়ম বিবি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেন আব্দুল কাদেরের ফ্ল্যাটে। আব্দুল কাদের সিঙ্গাপুর প্রবাসী। কিছুদিন পর তার ছেলে আব্দুল মতিন মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে গেলে ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী লিবা বেগম তাকে বাধা দেন এবং বাড়িতে প্রবেশ করতে না দিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলতেও দেননি।
এরপর মতিন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্নজনের কাছে সাহায্য চেয়েও সফল হননি তিনি।
আদালতের দ্বারস্থ হয়ে উদ্ধার
বর্তমানে অভিযুক্ত লিবা বেগম দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে আইনের আশ্রয় নেন মরিয়মের ছেলে মতিন। তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত থেকে নির্দেশ পেয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশ রোববার বিকেলে ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মরিয়ম বিবিকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারের সময় ফ্ল্যাট মালিক দম্পতি বাসায় না থাকলেও তাদের চার মেয়ে উপস্থিত ছিলেন।
নির্যাতনের করুণ বিবরণ
উদ্ধারের পর সাংবাদিকদের কাছে মরিয়ম বিবি বলেন,
“বছরের পর বছর ধরে আমাকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে। ছেলের কাছে যেতে চাইলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। আমি এদের শাস্তি চাই।”
তার ছেলে আব্দুল মতিন বলেন,
“আমার মাকে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এখন মা গুরুতর অসুস্থ।”
অভিযুক্তরা বিদেশে, পুলিশের অবস্থান
ফ্ল্যাট মালিক আব্দুল কাদের ও তার স্ত্রী লিবা বেগম বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। তাদের চার মেয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান জানান,
“আদালতের নির্দেশে আমরা মরিয়ম বিবিকে উদ্ধার করেছি। সোমবার তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”




















