ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি, সমাধানের আশ্বাস দিলেন নায়াব ইউসুফ

রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / 662

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফরিদপুর পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম আলিপুর এবং অম্বিকাপুরে কয়েকটি নিচু এলাকার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন দুই শতাধিক পরিবার।

অপরিকল্পিত নতুন বসতি হাওয়ায় এসব নিচু এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় দুর্ভোগ আর দুর্দশা নেমে এসেছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে ফরিদপুর পৌরসভার ১০ ওয়ার্ডের পশ্চিম আলীপুর ছাপড়া মসজিদের দক্ষিণ পার্শ এলাকা, একই এলাকার উত্তর দিকের নিচু এলাকা এবং অম্বিকাপুর রেল কলোনী বস্তি এলাকার দুই শতাধিক পানি বন্দী পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অসহায় পরিবারগুলোর দুর্দশা আর দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস প্রদান ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোর দুর্দশার চিত্র দেখতে সরেজমিন পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তিনি এসময় পানিবন্দি বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

অম্বিকাপুর রেল কলোনী এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ খান বলেন, এ কলোনীতে বসতি স্থাপনের পর থেকেই বর্ষা মৌসুমে প্রায় ছয় মাস জলাবদ্ধতাকে সঙ্গী করে বসবাস করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কোমলমতী শিক্ষার্থীদের ঘর থেকে বের হয়ে জলাবদ্ধতার পানিতে ভীজে স্কুলে প্রবেশ করতে হয়। গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ রোগীর জন্য এ দুর্ভোগ এক জঘন্য অভিশাপ হয়ে উঠে। বর্ষার এ পানিকে পাশের কুমার নদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারলে পানি নিষ্কাশন হতো। এতে করে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো না। প্রায় দশ বছর ধরে কলোনীর শতাধিক পরিবার এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

পশ্চিম আলীপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকার বাসিন্দা হাকিম মৃধা বলেন, এ এলাকা নিচু ভূমি। বর্ষায় শুরু থেকেই পানি জমে। তাতে হরেক রকম দেশী মাছও দেখা যেত একসময়। এ পানি কিছু দিন আগেও ফটিকের ব্রীজের নিচ দিয়ে কুমার নদে গিয়ে পড়তো। ফলে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হতো না। যত্রতত্র বসতি হওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পানি বের হতে না পেরে স্থায়ী ভাবে ও দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি দিচ্ছে।

পানিবন্দী বাসিন্দাদের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মহানগর যুবদল নেতা মাহমুদুল হাসান। হাসানের প্রচেষ্টায় দুর্দশাগ্রস্থদের প্রতি কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ সম্ভব হয়।

পরিদর্শন শেষে নায়াব ইউসুফ পানিবন্দী বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতা নিরসনে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। হাকিম মৃধা এবং মাহামুদুল হাসানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কাজ শুরু করতে নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

এসময় তার পরিদর্শনের সময় সঙ্গী ছিলেন, কোতয়ালী বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন চৌধুরী, মহানগর বিএনপি নেতা মো: রেজাউল ইসলাম, কৃষকদলের সভাপতি রেজাউল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাকিম মৃধা, শেখ ওসমান রাজা, মো: মনির, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শিবলী সাদিক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু, সহ-সভাপতি কৌশিক আহমেদ অনিক, সহ-সভাপতি ফজলুল হামিদ তামিম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হাসান, রাজেন্দ্র কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ খান, ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আকরাম হোসেন, হেমায়েত হিমু, মহানগর যুবদল নেতা শোভন আহমেদ শুভ, ওয়ার্ড যুবদল নেতা আকরামুজ্জান প্রতৃক, মেহেদী হাসান, মো: হাসান প্রমুখ।

এসময় স্থানীয় দুর্দশাগ্রস্থ বাসিন্দারা নায়াব ইউসুফ এর মহানুভবতার প্রশংসা করেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের শুপ্ত বাসনা পূরনের অপেক্ষা শেষ হবার সময় এসেছে ভেবে আপ্লূত হন।

ফরিদপুরে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি, সমাধানের আশ্বাস দিলেন নায়াব ইউসুফ

আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফরিদপুর পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম আলিপুর এবং অম্বিকাপুরে কয়েকটি নিচু এলাকার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন দুই শতাধিক পরিবার।

অপরিকল্পিত নতুন বসতি হাওয়ায় এসব নিচু এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় দুর্ভোগ আর দুর্দশা নেমে এসেছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে ফরিদপুর পৌরসভার ১০ ওয়ার্ডের পশ্চিম আলীপুর ছাপড়া মসজিদের দক্ষিণ পার্শ এলাকা, একই এলাকার উত্তর দিকের নিচু এলাকা এবং অম্বিকাপুর রেল কলোনী বস্তি এলাকার দুই শতাধিক পানি বন্দী পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অসহায় পরিবারগুলোর দুর্দশা আর দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস প্রদান ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোর দুর্দশার চিত্র দেখতে সরেজমিন পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তিনি এসময় পানিবন্দি বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

অম্বিকাপুর রেল কলোনী এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ খান বলেন, এ কলোনীতে বসতি স্থাপনের পর থেকেই বর্ষা মৌসুমে প্রায় ছয় মাস জলাবদ্ধতাকে সঙ্গী করে বসবাস করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কোমলমতী শিক্ষার্থীদের ঘর থেকে বের হয়ে জলাবদ্ধতার পানিতে ভীজে স্কুলে প্রবেশ করতে হয়। গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ রোগীর জন্য এ দুর্ভোগ এক জঘন্য অভিশাপ হয়ে উঠে। বর্ষার এ পানিকে পাশের কুমার নদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারলে পানি নিষ্কাশন হতো। এতে করে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হতো না। প্রায় দশ বছর ধরে কলোনীর শতাধিক পরিবার এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

পশ্চিম আলীপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকার বাসিন্দা হাকিম মৃধা বলেন, এ এলাকা নিচু ভূমি। বর্ষায় শুরু থেকেই পানি জমে। তাতে হরেক রকম দেশী মাছও দেখা যেত একসময়। এ পানি কিছু দিন আগেও ফটিকের ব্রীজের নিচ দিয়ে কুমার নদে গিয়ে পড়তো। ফলে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হতো না। যত্রতত্র বসতি হওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পানি বের হতে না পেরে স্থায়ী ভাবে ও দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি দিচ্ছে।

পানিবন্দী বাসিন্দাদের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মহানগর যুবদল নেতা মাহমুদুল হাসান। হাসানের প্রচেষ্টায় দুর্দশাগ্রস্থদের প্রতি কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ সম্ভব হয়।

পরিদর্শন শেষে নায়াব ইউসুফ পানিবন্দী বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতা নিরসনে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। হাকিম মৃধা এবং মাহামুদুল হাসানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কাজ শুরু করতে নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

এসময় তার পরিদর্শনের সময় সঙ্গী ছিলেন, কোতয়ালী বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন চৌধুরী, মহানগর বিএনপি নেতা মো: রেজাউল ইসলাম, কৃষকদলের সভাপতি রেজাউল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাকিম মৃধা, শেখ ওসমান রাজা, মো: মনির, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শিবলী সাদিক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু, সহ-সভাপতি কৌশিক আহমেদ অনিক, সহ-সভাপতি ফজলুল হামিদ তামিম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হাসান, রাজেন্দ্র কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ খান, ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আকরাম হোসেন, হেমায়েত হিমু, মহানগর যুবদল নেতা শোভন আহমেদ শুভ, ওয়ার্ড যুবদল নেতা আকরামুজ্জান প্রতৃক, মেহেদী হাসান, মো: হাসান প্রমুখ।

এসময় স্থানীয় দুর্দশাগ্রস্থ বাসিন্দারা নায়াব ইউসুফ এর মহানুভবতার প্রশংসা করেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের শুপ্ত বাসনা পূরনের অপেক্ষা শেষ হবার সময় এসেছে ভেবে আপ্লূত হন।