ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৌকা ডুবে গেছে, শাপলা ভাসবে : ফরিদপুরে এনসিপি নেতার হুঙ্কার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 524

জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচনে ‘শাপলা ফুল’ প্রতীক নিয়েই লড়ার ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, নৌকা ডুবে গেছে, এবার শাপলা ভাসবে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হলে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনী প্রতীক ও ইসির প্রতি বার্তা

সরোয়ার তুষার নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন:

শাপলা প্রতীক: প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শাপলা কলি অন্তর্ভুক্ত করা গেলে শাপলা ফুলও অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। নির্বাচন কমিশন যেহেতু শাপলা কলি অন্তর্ভুক্ত করেছে, এই কলি কয়েকদিন পানিতে ভিজালেই ফুল ফুটবে। এনসিপি শাপলা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবে।”

ইগোর জায়গা: ইসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “অনেক জল ঘোলা করেছেন। একবার ‘দিব না’ বলে ফেলছেন তাই দেবেন না, এই ইগোর জায়গায় যাবেন না।”

ইসির নিরপেক্ষতা: তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই নির্বাচন কমিশন বিশেষ দল দ্বারা প্রভাবিত। এদের দিয়ে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে কি-না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।”

নৌকা ও জাতীয় পার্টি নিয়ে হুঙ্কার

এনসিপি নেতা সরোয়ার তুষার তাঁর বক্তব্যে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়েও মন্তব্য করেন:

নৌকার বিকল্প শাপলা: তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “শাপলা হবে নৌকার বিকল্প। নৌকা ডুবে গেছে, শাপলা ভাসবে।”

জাতীয় পার্টি: তিনি জাতীয় পার্টিকে (জাপা) দেশের আওয়ামী লীগের পরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা দল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, “তাদের নেতা এরশাদ কবরে, জাতীয় পার্টিও কবরে যাবে। এরা ভারতের এজেন্ট। জাতীয় পার্টির ব্যানারে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা চলছে, তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।”

বিএনপি ও ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে

বিএনপি’র ‘না ভোট’ প্রচারণার বিষয়েও সরোয়ার তুষার কড়া মন্তব্য করেছেন:

না ভোটের বিরোধিতা: তিনি বলেন, বিএনপি ‘না ভোটের’ ক্যাম্পিং করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে হ্যাঁ এবং না ভোটের আয়োজন করেছিলেন। অথচ এই বিএনপি এখন হ্যাঁ-না ভোটের বিরোধিতা করছে।

গণ-অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি: তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিএনপির ৩০ শতাংশ ভোট ‘না ভোটের’ পক্ষে গেলেও বাকি বিপুল ভোটে জুলাই সনদ পাশ হবে। তিনি বলেন, “জুলাই সনদের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে তাদের দুমড়ে-মুচড়ে পদ্মায় ফেলে দেবে জনগণ। তখন এরা আয়নায় মুখ দেখাতে পারবে না। এরা অতীত থেকে কিছুই শিক্ষা নেয়নি।”

সভায় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের এনসিপির কয়েকশ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি’র ফরিদপুরের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপি’র যুগ্ম সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন এবং ফরিদপুর বিভাগীয় সংগঠক রাসেল আহম্মেদ।

নৌকা ডুবে গেছে, শাপলা ভাসবে : ফরিদপুরে এনসিপি নেতার হুঙ্কার

আপডেট সময় : ১১:২০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচনে ‘শাপলা ফুল’ প্রতীক নিয়েই লড়ার ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, নৌকা ডুবে গেছে, এবার শাপলা ভাসবে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হলে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনী প্রতীক ও ইসির প্রতি বার্তা

সরোয়ার তুষার নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন:

শাপলা প্রতীক: প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শাপলা কলি অন্তর্ভুক্ত করা গেলে শাপলা ফুলও অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। নির্বাচন কমিশন যেহেতু শাপলা কলি অন্তর্ভুক্ত করেছে, এই কলি কয়েকদিন পানিতে ভিজালেই ফুল ফুটবে। এনসিপি শাপলা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবে।”

ইগোর জায়গা: ইসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “অনেক জল ঘোলা করেছেন। একবার ‘দিব না’ বলে ফেলছেন তাই দেবেন না, এই ইগোর জায়গায় যাবেন না।”

ইসির নিরপেক্ষতা: তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই নির্বাচন কমিশন বিশেষ দল দ্বারা প্রভাবিত। এদের দিয়ে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে কি-না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।”

নৌকা ও জাতীয় পার্টি নিয়ে হুঙ্কার

এনসিপি নেতা সরোয়ার তুষার তাঁর বক্তব্যে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়েও মন্তব্য করেন:

নৌকার বিকল্প শাপলা: তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “শাপলা হবে নৌকার বিকল্প। নৌকা ডুবে গেছে, শাপলা ভাসবে।”

জাতীয় পার্টি: তিনি জাতীয় পার্টিকে (জাপা) দেশের আওয়ামী লীগের পরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা দল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, “তাদের নেতা এরশাদ কবরে, জাতীয় পার্টিও কবরে যাবে। এরা ভারতের এজেন্ট। জাতীয় পার্টির ব্যানারে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা চলছে, তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।”

বিএনপি ও ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে

বিএনপি’র ‘না ভোট’ প্রচারণার বিষয়েও সরোয়ার তুষার কড়া মন্তব্য করেছেন:

না ভোটের বিরোধিতা: তিনি বলেন, বিএনপি ‘না ভোটের’ ক্যাম্পিং করছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে হ্যাঁ এবং না ভোটের আয়োজন করেছিলেন। অথচ এই বিএনপি এখন হ্যাঁ-না ভোটের বিরোধিতা করছে।

গণ-অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি: তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিএনপির ৩০ শতাংশ ভোট ‘না ভোটের’ পক্ষে গেলেও বাকি বিপুল ভোটে জুলাই সনদ পাশ হবে। তিনি বলেন, “জুলাই সনদের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে তাদের দুমড়ে-মুচড়ে পদ্মায় ফেলে দেবে জনগণ। তখন এরা আয়নায় মুখ দেখাতে পারবে না। এরা অতীত থেকে কিছুই শিক্ষা নেয়নি।”

সভায় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের এনসিপির কয়েকশ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি’র ফরিদপুরের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপি’র যুগ্ম সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন এবং ফরিদপুর বিভাগীয় সংগঠক রাসেল আহম্মেদ।