রাতের আঁধারে পাচারের চেষ্টা: ফরিদপুরে ২৫০ বস্তা সরকারি সারসহ ডিলার আটক
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 146
রাতের নিস্তব্ধতাকে সঙ্গী করে কৃষকের কপালে ঘাম ঝরানো সরকারি সার পাচার করা হচ্ছিল অন্যত্রে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না! স্থানীয় জনতার চোখে ধুলো দিয়ে পালানোর সময় ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এর তাৎক্ষণিক কল এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঝটিকা অভিযানে হাতেনাতে আটক হলেন খোদ বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার নিজেই। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ২৫০ বস্তা সরকারি ডিএফপি সার আটকের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এখন পুরো এলাকায় চরম তোলপাড়!
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় রাতের আঁধারে পাচারকালে ট্রাকভর্তি ২৫০ বস্তা সরকারি ডিএফপি সার জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। এ সময় হাতেনাতে আটক করা হয়েছে মেসার্স হাওলাদার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও বিসিআইসি-বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার এ কে এম ইলিয়াস হাওলাদার এবং ট্রাকের হেলপারকে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে উপজেলার ব্যস্ততম মালিগ্রাম ফ্লাইওভারের নিচ থেকে এই সারবোঝাই ট্রাকটি আটক করা হয়। আটক ডিলার এ কে এম ইলিয়াস হাওলাদার ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের সমেদ হাওলাদারের ছেলে এবং ওই এলাকারই নিবন্ধিত সার ডিলার।
জনতার চোখে সন্দেহ, ৯৯৯-এর ফোন ও প্রশাসনের ঝটিকা অভিযান
পুলিশ, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে একটি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ সার সন্দেহজনকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটির গতিবিধি ও চালচলন স্থানীয় এলাকাবাসীর নজরে এলে তাদের মনে তীব্র সন্দেহ জাগে। মুহূর্তেই উৎসুক ও সচেতন জনতা ট্রাকটি আটক করে এবং কালক্ষেপণ না করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুরো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে প্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শরীফুল্লাহ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল-মামুন এবং ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে ২৫০ বস্তা সরকারি সারবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করেন এবং ডিলার ইলিয়াস হাওলাদার ও ট্রাকের হেলপারকে হেফাজতে নিয়ে সোজা ভাঙ্গা থানায় চলে আসেন।
প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি: ডিলারশিপ বাতিল ও মামলা
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল-মামুন জানান, জব্দকৃত সার ও আটক ব্যক্তিদের থানায় আনা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের দায়ে সংশ্লিষ্ট সারের ডিলারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং তার লাইসেন্স বা ডিলারশিপ চিরতরে বাতিল করার প্রক্রিয়া চলছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, জব্দকৃত সার ও আটককৃতরা বর্তমানে থানা পুলিশের কঠোর হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে এই সরকারি সার পাচার করা হচ্ছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ওই ডিলারের ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানও জানিয়েছেন, পাচারকালে সার জব্দের ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।










