ফরিদপুর: যুবলীগের হামলায় ছাত্রদল নেতার চোখ তোলার চেষ্টা, দৃষ্টি হারানোর শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
- / 1522
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে দাদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক ফিরোজ মোল্লা মারাত্মক হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই হামলার ঘটনায় ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ওহিদ মোল্লাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
হামলার সূত্রপাত ও অভিযোগ
শনিবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এই হামলার সূত্রপাত হয়।
অপমান ও বিতণ্ডা: ফিরোজের মা ও ভাবি প্রতিপক্ষ ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ওহিদ মোল্লার বিয়ের নববধূকে দেখতে গেলে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফিরোজের ভূমিকার কারণে তাঁদের অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই বিষয়টি জানার পর সন্ধ্যায় ফিরোজ বাড়িতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
হামলার বিবরণ: একপর্যায়ে ওহিদ মোল্লা, জাহিদ মোল্লাসহ আরও কয়েকজন রামদা, লোহার শাবল, হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি নিয়ে ফিরোজের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ফিরোজের চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করে।
পরিবারের ওপর আক্রমণ ও লুটপাট
ফিরোজকে বাঁচাতে তাঁর চাচাতো ভাই, মা ও ভাবি এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
গুরুতর জখম: ফিরোজের চাচাতো ভাই আবুল বাশারের মাথায় ওহিদ মোল্লা রামদা দিয়ে আঘাত করেন, যা গুরুতর জখমের সৃষ্টি করে।
শ্লীলতাহানির অভিযোগ: হামলকারীরা ফিরোজের মা ও ভাবিকে মারধর করার পাশাপাশি শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং তাঁদের পরিহিত প্রায় দুই লাখ ৩২ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিকিৎসা: স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
আইনগত ব্যবস্থা
এ ঘটনায় আহত ফিরোজ মোল্লা সাত জনের নাম উল্লেখ করে বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য: বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”











