ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে মার্কিন অভিযানে ৪২ যুদ্ধবিমান ধ্বংস

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / 221

ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের জন্য প্রস্তুত করা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (সিআরএস)–এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে; কারণ কিছু ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনী গোপন রেখেছে এবং বেশ কয়েকটি ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।

ধ্বংসের তালিকায় সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টিলথ ফাইটার:

সিআরএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হামলায় হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক ও বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল সামরিক প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে রয়েছে ১টি এফ-৩৫এ (F-35A) লাইটনিং স্টিলথ ফাইটার জেট (যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি ডলার), ৪টি এফ-১৫ই (F-15E) স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, ১টি এ-১০ (A-10) থান্ডারবোল্ট আক্রমণকারী বিমান, ৭টি কেসি-১৩৫ (KC-135) জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, ২টি এমসি-১৩০জে (MC-130J) বিশেষ অভিযান বিমান এবং ১টি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ (HH-60W) উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

এছাড়াও নজরদারি ও আকাশ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত ১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ (E-3 Sentry AWACS) বিমান সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধ্বংসযজ্ঞের ছবি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি (AFP) যাচাই করে সত্যতা পেয়েছে।

ড্রোন বহরে বড় বিপর্যয়:

এই অভিযানে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে মার্কিন ড্রোন বহরে। নজরদারি ও নির্ভুল হামলার জন্য বিখ্যাত ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন এবং ১টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton) নজরদারি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। প্রতিটি রিপার ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার, যা হারানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা।

অভিযানের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার পার:

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত ১২ মে মার্কিন কংগ্রেসে এক শুনানিতে পেন্টাগনের অর্থপ্রধান জুলস হার্স্ট তৃতীয় বলেন, এই বিপুল ব্যয়ের একটি বড় অংশই চলে গেছে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত এবং ধ্বংস হওয়া বিমানের প্রতিস্থাপনের হালনাগাদ হিসাবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করছে যে, এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতার ৮৫ শতাংশের বেশি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে নিজেদের বিমান ও ড্রোনের এই নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি ওয়াশিংটনের জন্য এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা মার্কিন পূর্বধারণার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর ছিল।

ইরানে মার্কিন অভিযানে ৪২ যুদ্ধবিমান ধ্বংস

আপডেট সময় : ০৬:০৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের জন্য প্রস্তুত করা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’ (সিআরএস)–এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে; কারণ কিছু ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনী গোপন রেখেছে এবং বেশ কয়েকটি ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।

ধ্বংসের তালিকায় সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টিলথ ফাইটার:

সিআরএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হামলায় হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক ও বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল সামরিক প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে রয়েছে ১টি এফ-৩৫এ (F-35A) লাইটনিং স্টিলথ ফাইটার জেট (যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি ডলার), ৪টি এফ-১৫ই (F-15E) স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, ১টি এ-১০ (A-10) থান্ডারবোল্ট আক্রমণকারী বিমান, ৭টি কেসি-১৩৫ (KC-135) জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, ২টি এমসি-১৩০জে (MC-130J) বিশেষ অভিযান বিমান এবং ১টি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ (HH-60W) উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

এছাড়াও নজরদারি ও আকাশ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত ১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ (E-3 Sentry AWACS) বিমান সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধ্বংসযজ্ঞের ছবি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি (AFP) যাচাই করে সত্যতা পেয়েছে।

ড্রোন বহরে বড় বিপর্যয়:

এই অভিযানে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে মার্কিন ড্রোন বহরে। নজরদারি ও নির্ভুল হামলার জন্য বিখ্যাত ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন এবং ১টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton) নজরদারি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। প্রতিটি রিপার ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার, যা হারানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা।

অভিযানের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার পার:

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত ১২ মে মার্কিন কংগ্রেসে এক শুনানিতে পেন্টাগনের অর্থপ্রধান জুলস হার্স্ট তৃতীয় বলেন, এই বিপুল ব্যয়ের একটি বড় অংশই চলে গেছে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত এবং ধ্বংস হওয়া বিমানের প্রতিস্থাপনের হালনাগাদ হিসাবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করছে যে, এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতার ৮৫ শতাংশের বেশি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে নিজেদের বিমান ও ড্রোনের এই নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি ওয়াশিংটনের জন্য এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা মার্কিন পূর্বধারণার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর ছিল।