বিশ্ব বাজারে বড় ধাক্কা: হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের
- আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / 20
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলার কঠোর জবাব হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া একটি গোপন বা পূর্ববর্তী সমঝোতা লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক বিশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নৌপথ দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও সাধারণ জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে।
বিবৃতিতে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করেছে, “শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে এটি আমাদের প্রথম পদক্ষেপ মাত্র। যদি অঞ্চলে এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, তবে শত্রুদের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য করতে আরও কঠোর ও বড় ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই ধ্বংস করেনি, বরং তা পূর্ববর্তী দ্বিপাক্ষিক সমঝোতারও চরম পরিপন্থী। তবে তেহরানের এই আকস্মিক ও বড় ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সাথে যুক্ত করা এই হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের মূল লাইফলাইন বা হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন এই সরু জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা





















