ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেস্তে গেল ওসি আফতাবের কোটি টাকার মিশন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 62

কক্সবাজার আদালতের এক বিচারকের গানম্যানকে ১ লাখ ইয়াবাসহ আটক করার পর সেই ইয়াবা আত্মসাৎ ও অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় শেষ রক্ষা হলো না ওসি আফতাব উদ্দিনের। দীর্ঘ বিতর্ক ও নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার এই প্রভাবশালী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত বুধবার (১৭ জুন) রাত ৯টার দিকে তাকে কোতোয়ালি থানা থেকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক, প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভেস্তে গেল ‘কোটি টাকার মিশন’:

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনপ্রিয় দৈনিক ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সরবরাহ করা অকাট্য তথ্য-প্রমাণ দীর্ঘ তদন্ত শেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে ওসি আফতাবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর ফলেই ভেস্তে গেল ওসি আফতাবের দায়মুক্তির ‘কোটি টাকার গোপন মিশন’। নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে ওপর মহলের প্রভাব কিংবা কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব—কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি।

যেভাবে ইয়াবা গায়েব করা হয়:

পুলিশের ৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। তৎকালীন বাকলিয়া থানা-পুলিশ কক্সবাজার জেলা আদালতের বিচারকের গানম্যান কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ১ লাখ ইয়াবাসহ (যার বাজারমূল্য সোয়া ২ কোটি টাকা) আটক করে। কিন্তু ওসির প্রত্যক্ষ নির্দেশে কোনো মামলা না করে উদ্ধারকৃত ইয়াবার বিশাল চালানটি পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই আত্মসাৎ করেন এবং ইমতিয়াজকে ছেড়ে দেন। ঘটনার সময় বাকলিয়া থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন এই আফতাব উদ্দিন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওসি আফতাব জড়িত পুলিশ সদস্যদের পবিত্র কুরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথও করিয়েছিলেন যেন কেউ মুখ না খোলেন।

তদন্তে ফেঁসেছেন আরও ১০ পুলিশ সদস্য:

এই মাদক কেলেঙ্কারির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ওসির প্রত্যক্ষ সহযোগী বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ এবং দুই এসআই ও তিন এএসআইসহ মোট ১০ পুলিশ সদস্যকে ধাপে ধাপে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভাগীয় মামলা চলছে। এত দিন অন্য সব কর্মকর্তা বরখাস্ত হলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে বহাল তবিয়তে ছিলেন ওসি আফতাব। এমনকি অপরাধের শাস্তি পাওয়ার বদলে তাকে বাকলিয়া থেকে কোতোয়ালি থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় বদলি করা হয়েছিল।

আইনের চোখে সবাই সমান:

তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আমলযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও ওসি আফতাব সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করাসহ পিআরবি ও পুলিশ আইনের চরম লঙ্ঘন করেছেন। এই বিষয়ে সিএমপির বর্তমান পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী যুগান্তরকে বলেন, “মাদক কারবারি পুলিশ হোক বা সাধারণ জনগণ, আইনের চোখে সবাই সমান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা এলেই দ্রুত সংশ্লিষ্ট মাদক আইনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভেস্তে গেল ওসি আফতাবের কোটি টাকার মিশন

আপডেট সময় : ০৮:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজার আদালতের এক বিচারকের গানম্যানকে ১ লাখ ইয়াবাসহ আটক করার পর সেই ইয়াবা আত্মসাৎ ও অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় শেষ রক্ষা হলো না ওসি আফতাব উদ্দিনের। দীর্ঘ বিতর্ক ও নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার এই প্রভাবশালী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত বুধবার (১৭ জুন) রাত ৯টার দিকে তাকে কোতোয়ালি থানা থেকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক, প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভেস্তে গেল ‘কোটি টাকার মিশন’:

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনপ্রিয় দৈনিক ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সরবরাহ করা অকাট্য তথ্য-প্রমাণ দীর্ঘ তদন্ত শেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে ওসি আফতাবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর ফলেই ভেস্তে গেল ওসি আফতাবের দায়মুক্তির ‘কোটি টাকার গোপন মিশন’। নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে ওপর মহলের প্রভাব কিংবা কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব—কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি।

যেভাবে ইয়াবা গায়েব করা হয়:

পুলিশের ৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। তৎকালীন বাকলিয়া থানা-পুলিশ কক্সবাজার জেলা আদালতের বিচারকের গানম্যান কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ১ লাখ ইয়াবাসহ (যার বাজারমূল্য সোয়া ২ কোটি টাকা) আটক করে। কিন্তু ওসির প্রত্যক্ষ নির্দেশে কোনো মামলা না করে উদ্ধারকৃত ইয়াবার বিশাল চালানটি পুলিশ সদস্যরা নিজেরাই আত্মসাৎ করেন এবং ইমতিয়াজকে ছেড়ে দেন। ঘটনার সময় বাকলিয়া থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন এই আফতাব উদ্দিন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওসি আফতাব জড়িত পুলিশ সদস্যদের পবিত্র কুরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথও করিয়েছিলেন যেন কেউ মুখ না খোলেন।

তদন্তে ফেঁসেছেন আরও ১০ পুলিশ সদস্য:

এই মাদক কেলেঙ্কারির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ওসির প্রত্যক্ষ সহযোগী বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ এবং দুই এসআই ও তিন এএসআইসহ মোট ১০ পুলিশ সদস্যকে ধাপে ধাপে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভাগীয় মামলা চলছে। এত দিন অন্য সব কর্মকর্তা বরখাস্ত হলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে বহাল তবিয়তে ছিলেন ওসি আফতাব। এমনকি অপরাধের শাস্তি পাওয়ার বদলে তাকে বাকলিয়া থেকে কোতোয়ালি থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় বদলি করা হয়েছিল।

আইনের চোখে সবাই সমান:

তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আমলযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও ওসি আফতাব সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করাসহ পিআরবি ও পুলিশ আইনের চরম লঙ্ঘন করেছেন। এই বিষয়ে সিএমপির বর্তমান পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী যুগান্তরকে বলেন, “মাদক কারবারি পুলিশ হোক বা সাধারণ জনগণ, আইনের চোখে সবাই সমান। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা এলেই দ্রুত সংশ্লিষ্ট মাদক আইনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”