ফরিদপুরে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক
- আপডেট সময় : ০৭:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 90
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীকে উপহার দেওয়ার কথা বলে ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে আমির হোসেন নামে এক সহকারী শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও হাজারো গ্রামবাসী মাদ্রাসায় চড়াও হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকসহ মাদ্রাসা সুপারকে বেদম মারধর করে এবং মাদ্রাসার সামনে থাকা বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের ভরিলহাট নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পটভূমি ও অবরুদ্ধ শিক্ষক:
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা ছুটির পর ভুক্তভোগী তৃতীয় শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থীকে উপহার দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ডেকে নেন সহকারী শিক্ষক আমির হোসেন। এরপর ক্লাসরুমের ভেতর তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাড়ি ফিরে শিশুটি তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই জের ধরে সোমবার সকালে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ এক থেকে দেড় হাজার বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নিজামুদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করেন। এ সময় মাদ্রাসার সামনে থাকা ৪টি দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আমির হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নিজামুদ্দিন জানান, “আমির হোসেন আমাকে ফোনে জানিয়েছিলেন যে, পড়াশোনা না করায় তিনি শিক্ষার্থীকে শাসন করেছিলেন। কিন্তু আজ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় কিছু বহিরাগত এসে আকস্মিক হামলা চালায়।”
অন্যদিকে, স্থানীয় বেশ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অজুহাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ এবং কু-দৃষ্টি দেওয়ার একাধিক মৌখিক অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ:
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে শিক্ষককে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা এ সময় মাদ্রাসা সুপারসহ কয়েকজনকে মারধর করেছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



















