আদালতের রায় শুনেই এজলাসে বাদীর বিষপান
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / 40
আদালতের দেওয়া একটি আইনি আদেশ সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পেরে এজলাসের ভেতরেই দাঁড়িয়ে তারাভানু (৩৫) নামের এক যৌতুক মামলার বাদী বিষপান করেছেন। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে ভোলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ রায় মিঠুর আদালতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। বিষপানে আহত ওই নারী ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ছোট মানিকা গ্রামের বাসিন্দা ও মামলার প্রধান আসামি বাহার উদ্দিনের স্ত্রী।
যে কারণে এই কাণ্ড:
আদালত সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বুধবার তারাভানুর দায়ের করা যৌতুক মামলার চার্জ বা অভিযোগ গঠনের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। শুনানি শেষে বিচারক মামলার প্রধান আসামি (বাদীর স্বামী) বাহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাকে কাঠগড়ায় রেখে বাকি দুই আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি (ডিসচার্জ) দেন।
কিন্তু আদালতের এই আদেশটি বাদী তারাভানু সম্পূর্ণ ভুল বোঝেন। তিনি মনে করেন বিচারক হয়তো তার স্বামীকেও মামলা থেকে খালাস দিয়ে দিয়েছেন। এই ক্ষোভ ও হতাশায় তিনি এজলাসের মধ্যেই সবার সামনে নিজের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি বোতল বের করে তরল বিষাক্ত পদার্থ মুখে ঢেলে দেন।
কোর্ট পুলিশের বক্তব্য:
ভোলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক শেখ মো. নাসির উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “তারাভানু একটি সিআর মামলার বাদী ছিলেন। তিনি স্বামী বাহার উদ্দিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। বিচার চলাকালীন ভুল বোঝাবুঝি থেকে বাদী এজলাসের ভেতরেই তরল কিছু একটা পান করেন। আমাদের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক তৎপরতা দেখিয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা জানালো:
ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরাফাতুর রহমান জানান, হাসপাতালে ভর্তির পরপরই ওই নারীর পাকস্থলী ওয়াশসহ প্রয়োজনীয় সব জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তিনি ঠিক কী ধরণের বিষাক্ত তরল পান করেছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।




















